বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও কর্মচারীদের কল্যাণ সুবিধা আরো সুসংহত ও আধুনিকায়ন করতে ১৯৯০ সালের সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করে নতুন অধ্যাদেশ জারি করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন আইনে শিক্ষক ও কর্মচারীদের সংজ্ঞায় স্পষ্টতা আনার পাশাপাশি ট্রাস্টের তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বোর্ড গঠনে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে সোমবার নতুন এই অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. মো. রেজাউল করিম এ তথ্য জানান।
এই অধ্যাদেশ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক ও কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬, নামে অভিহিত হবে। এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘শিক্ষক’ ও ‘কর্মচারী’ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে ‘এমপিওভুক্ত’ শিক্ষক-কর্মচারীদের বোঝানো হয়েছে। এছাড়া, উচ্চ পর্যায়ের মাদ্রাসার সাথে সংযুক্ত ‘ইবতেদায়ি মাদ্রাসা’কেও এই কল্যাণ সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ট্রাস্টের কার্যাবলি পরিচালনার জন্য শিক্ষা সচিবকে চেয়ারম্যান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ভাইস-চেয়ারম্যান করে ট্রাস্টের একটি শক্তিশালী বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এই বোর্ডে কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং জনপ্রশাসন ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।
ট্রাস্টি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে আইনের ৬(১)(ড) ধারায় একজন পরিচালক রাখার কথা বলা হয়, যিনি পদাধিকারবলে বোর্ডের ‘সদস্য-সচিব’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সরকার মনোনীত ১১ জন শিক্ষক ও ৩ জন কর্মচারী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবেন, যাদের মেয়াদ হবে ৩ বছর।
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কোনো কারণ না দর্শানো ছাড়াই যেকোনো সময় যেকোনো সদস্যের মনোনয়ন বাতিল করতে পারবে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
অধ্যাদেশে চাকরিরত অবস্থায় কোনো শিক্ষক বা কর্মচারী অক্ষম হয়ে পড়লে, মৃত্যু বরণ করলে কিংবা দীর্ঘদিন গুরুতর অসুস্থ থাকলে, তাদের পরিবারকে আর্থিক সাহায্য ‘অনুমোদনের’ বিষয়টি আরো সুনির্দিষ্ট করা হয়েছে।
জরুরি ব্যবস্থার বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, কোনো কারণে ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করা সম্ভব না হলে, শিক্ষকদের কল্যাণ সুবিধা যেন থমকে না যায়, সেজন্য বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। এক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদনক্রমে ‘অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা’ হিসেবে সুবিধা প্রদান করা যাবে।
তহবিল ব্যবস্থাপনা ও বিনিয়োগ বিষয়ে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, ট্রাস্টের তহবিলের অর্থ এখন থেকে সরকারের অনুমোদন সাপেক্ষে কেবল রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক, সরকারি বন্ড বা বিলে বিনিয়োগ করা যাবে। স্থায়ী ও চলতি তহবিল পরিচালনার জন্য প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে।
আর ট্রাস্টের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সরকার অনুমোদিত সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা বোর্ডকে দেওয়া হয়েছে। সরকার কর্তৃক প্রেষণে নিযুক্ত একজন ‘পরিচালক’ বোর্ডের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন অধ্যাদেশে বলা হয়েছে।