ভোটকেন্দ্রে গিয়ে হঠাৎ জানতে পারলেন ইতোমধ্যে আপনার ভোট কেউ দিয়ে ফেলেছে, এমন পরিস্থিতিতে হতাশ বা আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। আইন অনুযায়ী প্রকৃত ভোটার হিসেবে আপনার ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন থাকবে এবং ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন আপনি। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এ আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়েছে।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ ১৯৭২-এর ৩১ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি ছদ্মবেশে আগেই ভোট দিয়ে থাকলেও, প্রকৃত ভোটার তার ভোট দিতে পারবেন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি আপনার নামের পাশে স্বাক্ষর বা টিপসই দেওয়া পাওয়া যায়, তবে সঙ্গে সঙ্গে দায়িত্বরত পোলিং অফিসার বা প্রিসাইডিং অফিসারকে বিষয়টি জানাতে হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র দেখিয়ে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করে, নিয়ম অনুযায়ী অভিযোগ জানাতে হবে। পরিচয় নিশ্চিত হলে প্রিসাইডিং অফিসার আপনাকে ‘টেন্ডারড ব্যালট পেপার’ বা প্রদত্ত ব্যালট দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন। এই ব্যালটে আপনি পছন্দের প্রার্থীর প্রতীকে সিল দিয়ে তা ভাঁজ করে প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে জমা দেবেন। তবে এটি সাধারণ ব্যালট বাক্সে ফেলা হয় না, বিশেষ খামে সংরক্ষণ করা হয়।
এই ধরনের টেন্ডারড ভোট সাধারণত প্রাথমিক গণনায় অন্তর্ভুক্ত করা না হলেও কোনো আসনে জয়ের ব্যবধান কম হলে বা ফলাফল আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হলে আদালতের নির্দেশে এসব ভোট গণনা করা হতে পারে। এর মাধ্যমে একটি টেন্ডারড ভোটও ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও জানান তারা।
অন্যের পরিচয়ে ভোট দেওয়া আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এমন ঘটনা শনাক্ত হলে প্রিসাইডিং অফিসার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারেন এবং নির্বাচন আইন ও দণ্ডবিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। ভোটকেন্দ্রে এ ধরনের পরিস্থিতিতে শান্ত থেকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে আইন অনুযায়ী নিজের ভোটাধিকার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
/ইউএমএইচ