বাংলাদেশে চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া

2026-02-11T18:47:13+00:00
2026-02-11T18:47:13+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশে চীনের প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৭ পিএম   (ভিজিট : ১১৩)
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন। মঙ্গলবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন। 

রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি চীন বাংলাদেশের সঙ্গে একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি সই করেছে। যার আওতায় ভারত সীমান্তের কাছে একটি ড্রোন কারখানা স্থাপন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে কূটনৈতিক মহলে উদ্বেগ রয়েছে। এ ছাড়া পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে চীনের তৈরি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও বাংলাদেশের আলোচনা চলছে।

ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের বাড়তে থাকা প্রভাব নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বিগ্ন। চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ঝুঁকি সম্পর্কে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে চায় ওয়াশিংটন। সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের প্রস্তাব দেওয়া হবে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের পরবর্তী সরকারকে চীনা সরঞ্জামের বিকল্প হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তাব করার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়াশিংটনের।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ভালো সম্পর্ক দেখতে চায়, যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় সহায়ক হবে। শেখ হাসিনা দেশ ছাড়ার পর নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কের অবনতি হয়েছে। এতে ভিসা কার্যক্রম ও দুই দেশের ক্রিকেট সম্পর্কেও প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরও বলেন, অনেক মার্কিন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনা দেখছে। তবে তারা চাইবে নতুন সরকার শুরুতেই স্পষ্ট বার্তা দিক যে দেশটি বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত। বাণিজ্য কূটনীতি আমাদের অন্যতম অগ্রাধিকার। অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যে অগ্রগতি হয়েছে, তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী যুক্তরাষ্ট্র।

জ্বালানি কোম্পানি শেভরন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে কাজ করলেও অন্যান্য বড় মার্কিন প্রতিষ্ঠানের উপস্থিতি তেমন নেই। ১৭ কোটি ৫০ লাখ মানুষের দেশে উচ্চ করহার এবং মুনাফা দেশে ফিরিয়ে নেয়ার জটিলতা বিনিয়োগে বাধা তৈরি করেছে। বাংলাদেশে এখনো স্টারবাকস বা ম্যাকডোনাল্ডসের কোনো শাখা নেই।


বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিষয়ে রাষ্ট্রদূত বলেন, মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে বড় দাতা দেশ। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকটে যুক্তরাষ্ট্র সবচেয়ে বড় অবদান রেখে চলেছে। বাংলাদেশে স্বাস্থ্যখাতে সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জাতিসংঘের সঙ্গে সম্প্রতি ২০০ কোটি ডলারের একটি বৈশ্বিক তহবিল চুক্তি সই হয়েছে। যা বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে সহায়তার কার্যকারিতা বাড়াবে। তিনি অন্য আন্তর্জাতিক দাতাদেরও আরও বেশি সহায়তা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

রাষ্ট্রদূত বলেন, এই বিশাল দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে একা বহন করা সম্ভব নয়। রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের আরও এগিয়ে আসতে হবে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা রোহিঙ্গাদের সহায়তার জন্য পর্যাপ্ত অর্থ সংগ্রহে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে তাদের খাদ্য রেশন কমানো হয়েছে এবং কিছু শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে।

সময়ের আলো/আআ



  বিষয়:   বাংলাদেশ  চীন  প্রভাব যুক্তরাষ্ট্র  উদ্বেগ 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: