মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে কিউবায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশটির পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে। বিশেষ করে বিমান জ্বালানির ঘাটতির কারণে কিউবার সঙ্গে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত করেছে কানাডার বড় দুই বিমান সংস্থা—এয়ার কানাডা ও ওয়েস্টজেট।
কিউবান কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরগুলোতে জ্বালানি সরবরাহ অনিশ্চিত বলে সতর্ক করার পরই এই সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাগুলো। এয়ার কানাডা জানিয়েছে, বর্তমানে কিউবায় থাকা প্রায় তিন হাজার যাত্রীকে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ ফেরি ফ্লাইট পাঠানো হচ্ছে।
কিউবার সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ১১ মার্চ পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে বাণিজ্যিকভাবে জেট ফুয়েল পাওয়া যাবে না। ফলে আমেরিকান এয়ারলাইন্স ও ডেল্টাকে ফেরার পথের জন্য অতিরিক্ত জ্বালানি বহন করতে হচ্ছে। ইউরোপীয় বিমান সংস্থা আইবেরিয়া ও এয়ার ইউরোপার ফ্লাইটগুলো জ্বালানি নিতে ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্রে যাত্রাবিরতি করছে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে কিউবা সরকার দেশজুড়ে কঠোর রেশন ব্যবস্থা চালু করেছে। হাসপাতালগুলোতে কেবল জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, স্থগিত করা হয়েছে নিয়মিত অস্ত্রোপচার ও চেকআপ। স্কুল-কলেজের সময়সূচি কমানো হয়েছে এবং সরকারি কর্মীদের জন্য চার দিনের কর্ম সপ্তাহ চালু করা হয়েছে। হাভানাসহ বিভিন্ন এলাকায় গণপরিবহন কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে।
এই সংকটের জন্য কিউবা সরকার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতিকে দায়ী করছে। নতুন এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে কিউবায় তেল সরবরাহকারী দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যার ফলে ভেনেজুয়েলা ও মেক্সিকো থেকে তেল আমদানি ব্যাহত হচ্ছে। রাশিয়ার ক্রেমলিন এ পরিস্থিতিকে কিউবার ওপর মার্কিন ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ বলে মন্তব্য করেছে।
জ্বালানির পাশাপাশি কিউবায় খাদ্য ও ওষুধের সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মানবিক সহায়তা হিসেবে মেক্সিকো ইতোমধ্যে দুই জাহাজে করে ৮০০ টনের বেশি খাদ্য পাঠিয়েছে। মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাউম বলেছেন, সাধারণ মানুষের ক্ষতি করে এমন নিষেধাজ্ঞা অন্যায্য এবং কিউবার পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
/ইউএমএইচ