ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস সতর্ক করে বলেছেন, পশ্চিম তীর অঞ্চলে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক তৎপরতা দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের ভবিষ্যৎকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) জর্ডানের রাজধানী আম্মানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
জর্ডান সফরে থাকা ইসরায়েলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দেশটির রাজা আবদুল্লাহ দ্বিতীয়ের বৈঠক শেষে অনুষ্ঠিত যৌথ সংবাদ সম্মেলনে আব্বাস বলেন, পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব ও সম্প্রসারণমূলক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আইন ও বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত সিদ্ধান্তের পরিপন্থী। তার ভাষায়, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে ইসরায়েল কার্যত দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনের স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের সম্ভাবনাকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখল ও বসতি স্থাপনের কার্যক্রম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত আড়াই বছরে অঞ্চলটির বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার নতুন আবাসন নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা, যার কয়েকটির বাস্তবায়ন ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
আব্বাস আরও বলেন, এসব দখলদারিত্বমূলক কর্মকাণ্ড কেবল দ্বিররাষ্ট্র সমাধানকেই নয়, বরং গোটা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি ও স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে। একই সঙ্গে এ অঞ্চলের ইসলাম ও খ্রিস্টান ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তাও ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেন মাহমুদ আব্বাস। তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সব ধরনের দখলদারিত্ব কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা উল্লেখ ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি ফিলিস্তিনের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থে এ বিষয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।
/ইউএমএইচ