বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণে বাংলাদেশ অভিজ্ঞ হতে যাচ্ছে এক নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার। ২০০৮ সালের পর এটি প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ব্যালটে নেই। খবর দ্য নিউইয়র্ক এডিটোরিয়ালের।
২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান শুধু শাসক পরিবর্তন করেনি বরং রাজনৈতিক মানচিত্রেরও পুনর্গঠন করেছে। নির্বাচনের আগে করা বিভিন্ন জাতীয় জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি। তবে ফলাফলের প্রভাব নির্ধারণে তিনটি মূল বিষয় গুরুত্বপূর্ণ।
১. বিদ্রোহী প্রার্থীর প্রভাববিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। দলটির মনোনয়ন না পেয়ে ৯২ জন নেতা ৭৯টি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ন্যাশনাল লেভেলে এই বিদ্রোহী প্রার্থীরা বিএনপির আসন সংখ্যা ১৫ থেকে ৩০ পর্যন্ত কমিয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে সেই সব এলাকায় যেখানে ত্রিমুখী লড়াই, সেখানে জামায়াত বিজয়ী হতে পারে মাত্র ৩৫ শতাংশ ভোটে।
২. তরুণ ভোটার ও জামায়াতের শক্তিবর্তমানে মোট ভোটারের ৪৪ শতাংশ জেন-জি বা তরুণ প্রজন্ম। নতুন ভোটারদের মধ্যে ৩৭.৪ শতাংশের সমর্থন জামায়াতের প্রতি। যদি তরুণরা নির্বাচনে উচ্চ অংশগ্রহণ করে, জামায়াত উল্লেখযোগ্য আসন পেতে পারে; কিন্তু উপস্থিতি কম থাকলে, দলটির আসনসংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যেতে পারে।
৩. দোদুল্যমান বা অনিশ্চিত ভোটারজরিপ অনুযায়ী, ১৫-৩৫ শতাংশ ভোটার এখনও কোন দলকে ভোট দেবেন তা নির্ধারণ করেননি। এই দোদুল্যমান ভোটারদের সিদ্ধান্ত নির্বাচনের ফলাফলে নাটকীয় প্রভাব ফেলতে পারে। তারা যদি বিএনপির পক্ষে ঝুঁকে পড়ে, দলটি বড় ব্যবধানে এগিয়ে যাবে; অন্যদিকে জামায়াতের দিকে অধিক ঝুঁকে পড়লে ভোটের লড়াই আরো তীব্র হবে।
৩০০ আসনের মধ্যে একাধিক পূর্বাভাস বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে:বিএনপি ও জোট: ১৫৫-২১৫ আসন
জামায়াত ও এনসিপি: ৫৫-১১০ আসন
জাতীয় পার্টি: ৫-১৮ আসন
ইসলামী আন্দোলন: ২-১০ আসন
অন্যান্য/স্বতন্ত্র: ১০-৩৫ আসন
সেন্ট্রাল প্রাক্কলনে বিএনপি প্রায় ১৮৫ আসনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। অন্যদিকে জামায়াত তাদের ইতিহাসের সেরা ফলাফল (৬০-১০০ আসন) পেতে পারে, যা দলটিকে দেশের প্রধান বিরোধী শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করবে।
বিএনপির জয়ের ব্যবধান বা আসন সংখ্যা মূলত তিনটি উপাদানের ওপর নির্ভর করবে:বিদ্রোহী প্রার্থীদের প্রভাব
তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি
দোদুল্যমান ভোটারদের চূড়ান্ত পছন্দ
এই তিনটি নিয়ামক ভোটের চূড়ান্ত ফলাফলে নাটকীয় পার্থক্য আনতে পারে।
এবারের নির্বাচনের ফলাফল শুধু রাজনৈতিক ক্ষমতার স্থানান্তর নয় বরং এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক মানচিত্রকে এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে। সব তথ্য ও জরিপ বিএনপির দিকেই প্রাধান্য দেখালেও, নির্বাচনের দিন যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত চাঞ্চল্যপূর্ণ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকা জরুরি।
১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের রায় নির্ধারণ করবে আগামী এক প্রজন্মের দক্ষিণ এশিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্য।
এএডি/