ভারতে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সাম্প্রতিক মন্তব্যের পর সৃষ্টি হওয়া বিতর্কে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, এ অবস্থান থেকে তিনি একচুলও সরে আসেননি।
বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, তার বক্তব্য আংশিকভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপচারিতায় ড. নজরুলের একটি মন্তব্য ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে তিনি বিশ্বকাপ বর্জনের প্রসঙ্গে বোর্ড ও ক্রিকেটারদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে দাবি করেন, তিনি নাকি সিদ্ধান্তের দায় বোর্ড ও খেলোয়াড়দের ওপর চাপিয়েছেন।
ড. নজরুল জানান, অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিলেন- বিশ্বকাপে না খেলার সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আক্ষেপ আছে কি না। উত্তরে তিনি বলেন, ‘আক্ষেপের প্রশ্নই আসে না।’
তিনি ব্যাখ্যা করেন, তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল বোর্ড ও ক্রিকেটারদের আত্মত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরা, সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায় সরানো নয়।
আরও পড়ুন
ক্রীড়া উপদেষ্টা স্পষ্ট ভাষায় বলেন, নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ভারতে বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত সরকারই নিয়েছে। জানুয়ারি মাস থেকেই তিনি বিভিন্ন বক্তব্যে এ বিষয়টি পরিষ্কার করেছেন বলে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠানে বিশ্বকাপ বর্জনের সিদ্ধান্ত কে নিয়েছে- এ প্রশ্ন তোলা হয়নি। তাই সেই প্রসঙ্গে তিনি আলাদা করে কিছু বলেননি।
ড. নজরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ও জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন, আর্থিক ক্ষতি, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ না নেওয়ার বঞ্চনা এবং সম্ভাব্য শাস্তির আশঙ্কা সত্ত্বেও তারা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। দেশের নিরাপত্তা ও মর্যাদার স্বার্থে এই অবস্থানে অটল থাকায় কৃতিত্বের বড় অংশ তাদের প্রাপ্য বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্বীকার করেন, তাৎক্ষণিক আলাপে বিষয়টি যথেষ্ট স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে না পারা তার ব্যর্থতা। তবে আবারও জোর দিয়ে বলেন, সিদ্ধান্ত সরকারের ছিল- বোর্ড ও খেলোয়াড়রা সেটি সমর্থন করেছেন।
উল্লেখ্য, নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশ সরকার বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। বিষয়টি দেশ-বিদেশে আলোচনার জন্ম দেয় এবং ক্রিকেট অঙ্গনে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
এএডি/