রাজধানী ফাঁকা, কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় ভোটাররা

সমীরণ রায়

জাতীয়

আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি আমেজ। এই আমেজে অংশ নিতে দুদিন আগে থেকেই গ্রামের

2026-02-12T06:56:05+00:00
2026-02-12T06:56:05+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
জাতীয়
রাজধানী ফাঁকা, কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় ভোটাররা
সমীরণ রায়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৫৬ এএম 
প্রতীকী ছবি
আজ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। দেশজুড়ে বইছে নির্বাচনি আমেজ। এই আমেজে অংশ নিতে দুদিন আগে থেকেই গ্রামের বাড়িতে ছুটছেন রাজধানীবাসী। এতে ফাঁকা হচ্ছে রাজধানী। ইতিমধ্যে ভোট দিতে ভোটাররা নিজ নিজ এলাকায় গেছেন। ফলে রাজধানী ঢাকা এখন পুরোটাই ফাঁকা। 

রাজাধানীর মূল সড়কগুলোতে কোথাও গণপরিবহন তেমন একটা নেই। বিআরটিসি বাসসহ হাতেগোনা দুয়েকটি গণপরিবহন ছিল। তবে ব্যাটারিচালিত রিকশা, প্যাডেলচালিত রিকশা কিছু চোখে পড়েছে। চোখে পড়েছে  দুয়েকটি প্রাইভেটকার ও সিএনজি। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কার্ড ইস্যু করা কিছু মোটর বাইক লক্ষ্য করা গেছে। একই সঙ্গে রাত পোহালেই রাজধানীতে থেকে যাওয়া ভোটাররা কেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভোটাররা।

Advertisement
বুধবার সরেজমিন দেখা গেছে, ঢাকা শহরের সড়কগুলোতে যানবাহনের শূন্যতা লক্ষ্য করা গেছে। রাজধানীর রাস্তা থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা প্রায় সবখানেই ফাঁকা। তবে অটোরিকশা, রিকশা চলছে। মাঝেমধ্যে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলতে দেখা গেছে। নেই তেমন যানবাহন, নেই যানজট, নেই ট্রাফিক সিগন্যাল। মাঝেমধ্যে দেখা যাচ্ছে দুয়েকটি অটোরিকশা, পাশাপাশি সড়কে অনেকক্ষণ তাকিয়ে থাকলে দেখা যায় এক-দুটি প্রাইভেটকার। রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, জাতীয় প্রেস ক্লাব, মৎস্য ভবন, কাকরাইল, শান্তিনগর, মালিবাগ, মগবাজার, যাত্রাবাড়ী, শাহবাগ, বাংলামোটর, কারওয়ান বাজার, ফার্মগেট, শ্যামলী, শিশুমেলা, আগারগাঁও, ধানমন্ডি, বিজয় সরণি, জাহাঙ্গীরগেট, মহাখালী, গুলশান, বাড্ডা, মিরপুর, তেজগাঁও, রামপুরা, বনশ্রী ও বসুন্ধরাসহ ঢাকার সবখানেই ফাঁকা। কারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। 

ভোটাধিকার প্রয়োগ ও টানা ছুটি উপভোগে রাজধানী ছেড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার কর্মজীবী মানুষ। সংগত কারণেই সড়কে দেখা মেলেনি গণপরিবহন। সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও খুব একটা নেই। অবশ্য রাজধানীর বাস টার্মিনাল, লঞ্চ টার্মিনাল ও রেলস্টেশনগুলোতে বুধবারও ছিল নিজ নিজ এলাকায় ফেরা মানুষের উপচে পরা ভিড়। ফলে বুধবার সকাল থেকেই যাত্রীরা ভিড় জমাতে শুরু করেন রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে। পরিবহন শ্রমিকদের হাঁকডাকে মুখর চারপাশ। টার্মিনালে বাসের সংখ্যাও ছিল পর্যাপ্ত। এসব টার্মিনালে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় থাকায় দূরপাল্লার পরিবহনগুলো অতিরিক্ত ভাড়া নিয়েছেন। টার্মিনালে আসা অধিকাংশ যাত্রীরই অভিযোগ — পরিবহনগুলো নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে।

এদিকে সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান সড়কগুলো প্রায় জনশূন্য। যেখানে সাধারণত দিনে যানজটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় পার হয়ে যেত, যানবাহনের হর্ন ও মানুষের উপস্থিতিতে কোলাহলপূর্ণ থাকত, সেসব সড়ক এখন সুনসান নীরব। এসব সড়কে হাতেগোনা দুয়েকটি ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করতে দেখা গেলেও গণপরিবহনের দেখা মেলেনি। তবে দীর্ঘসময় পর পর দুয়েকটি গণপরিবহনের দেখা মিললেও যাত্রী সংকটে বাস পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। এ ছাড়া যাত্রীর জন্য চালকের সহকারীদের হাঁকডাক করতেও দেখা গেছে।

অন্যদিকে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশির কারণেও অনেকেই রাস্তায় বের হননি। তবে ট্রাফিক পুলিশকে অলস সময় পার করতে দেখা গেছে। কারণ কোথাও নেই গাড়ির চাপ। বিভিন্ন দোকান ও ছোটখাটো ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও ছিল বন্ধ বা ক্রেতাশূন্য। সব মিলিয়ে নির্বাচন ও টানা ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানী এখন ফাঁকা।



রাজধানীর ভোটাররা বলছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে মানুষের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক থাকলেও আছে উৎসব উৎসব একটা ভাব। আসলে কী হবে, কী হচ্ছে চারদিকে মানুষ খোঁজখবর নিচ্ছেন। চিন্তিত অনেকেই। তবে সবাই আশা করছেন নির্বাচন যেন একদম সুষ্ঠুভাবে শেষ হয়। মানুষ সংঘাত চায় না। শান্তি চায়। এই সংঘাতের আশঙ্কা থেকেও অনেকেই রাস্তায় বের হচ্ছেন না। আবার সরকারি ছুটি। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তল্লাশি। সংগত কারণে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ রাস্তায় বের হচ্ছেন না। এতে করে রাজধানী ফাঁকা। একই সঙ্গে ঢাকায় যেসব ভোটাররা আছেন, তারা বৃহস্পতিবারের সকালের জন্য অপেক্ষায় করছেন। কখন তার বহুল প্রতীক্ষিত ভোটটি প্রয়োগ করতে পারবেন।

রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের ব্যবসায়ী সুলতান বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীবাসীর বেশিরভাগই নিজ নিজ এলাকায় ভোট দিতে চলে গেছেন। ফলে ঢাকা শহর এখন অনেকটা ফাঁকা। রাস্তায় যেমন কোনো মানুষ নেই তেমনি যানবাহনও শূন্য। আর যারা ঢাকায় আছেন, সবাই এখন ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক রয়েছে। তবে আতঙ্ক থাকলেও উৎসবমুখর একটা পরিবেশ রয়েছে। নিজের ভোট দেওয়ার আনন্দটা অন্যরকম। অবশ্য মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। কী হবে, কী হতে চলেছে? এবার নির্বাচন উৎসব আমেজের মধ্যে হবে, সবাই আনন্দে নিয়ে ভোট দেবেন।

বনশ্রীর বাসিন্দা রোহান ইসলাম জানান, তার গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে। ভোটার হয়েছেন ঢাকার। এ কারণে তিনি গ্রামের বাড়ি যাননি। যারা গ্রামের ভোটার তারা চলে গেছেন। ভোট আর ছুটিতে পুরো এলাকা ফাঁকা হয়ে গেছে। তবে বৃহস্পতিবার সকাল সকাল উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দেওয়ার অপেক্ষায় আছি।

রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকায় কথা হয় সেলিম হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, পুরো ঢাকাই এখন ফাঁকা। ঈদের মতো মানুষ বাড়ি চলে গেছেন। রাত পোহালেই জাতীয় নির্বাচন। ভোট দিতে নিজ নিজ এলাকায় গেছেন অসংখ্য মানুষ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টানা ছুটি। আমার বাড়ি নোয়াখালী। যেহেতু আমি সেগুনবাগিচা এলাকায় ভোটার, তাই থেকেছি ভোট দেওয়ার জন্য।

যশোর-খুলনাগামী ঈগল পরিবহনের কাউন্টার ম্যানেজার জানান, গত মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত যাত্রীদের প্রচণ্ড চাপ ছিল। সেই তুলনায় বুধবার ভিড় কিছুটা কম। তবে যাত্রীদের আসা অব্যাহত রয়েছে এবং তাদের সামাল দিতে পর্যাপ্ত বাস প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

তবে বাসের সংকট না থাকলেও বাড়তি ভাড়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। রয়্যাল পরিবহনে মাছকান্দি যাওয়ার জন্য টিকেট কাটছিলেন মো. আশিক। তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার জন্য বাড়ি যাচ্ছি। আমার কাছ থেকে ৫০০ টাকা ভাড়া রাখা হয়েছে, যা স্বাভাবিক সময়ে ৪০০ টাকা থাকে। কেন বেশি রাখা হচ্ছে জানতে চাইলে কোনো সদুত্তর পারেননি।

কুষ্টিয়াগামী জামান পরিবহনের যাত্রী সেলিম মিয়াও শোনালেন একই অভিজ্ঞতার কথা। তিনি বলেন, অন্য সময় ৪৫০ টাকায় কুষ্টিয়া যেতাম। আজ নিল ৫০০ টাকা। কাউন্টারে সবার কাছ থেকেই এমন বাড়তি ভাড়া রাখা হচ্ছে।


এর আগে নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি বিশেষ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত ২৫ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সব সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের ভোটাধিকার প্রয়োগ ও ভোটগ্রহণের সুবিধার্থে নির্বাহী আদেশে দেশব্যাপী সাধারণ ছুটি বলবৎ থাকবে। একই সঙ্গে শিল্পাঞ্চলের শ্রমিক ও কর্মচারীদের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারির বিশেষ ছুটিও বহাল রাখা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ ফেব্রুয়ারি ‘শ্রী শ্রী শিবরাত্রি ব্রত’ উপলক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত ছুটি থাকায় সেখানে সর্বমোট পাঁচ দিনের ছুটি কার্যকর হয়েছে।

এফআর
  বিষয়:   নির্বাচন  রাজধানী  ফাঁকা  কেন্দ্র  অপেক্ষা  ভোটাররা 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: