নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে

2026-02-13T10:49:58+00:00
2026-02-13T10:49:58+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দ্বারপ্রান্তে তারেক রহমান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৪৯ এএম 
তারেক রহমান। সংগৃহীত ছবি
প্রায় দুই দশকের স্বেচ্ছা নির্বাসন শেষে লন্ডন থেকে দেশে ফেরার মাত্র দুই মাসেরও কম সময়ের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জনমত জরিপের পূর্বাভাস সত্যি হলে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ৬০ বছর বয়সী এই নেতার জীবনে এক অভূতপূর্ব রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের সাক্ষী হবে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

২০০৯ থেকে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার শাসনের অবসান ঘটে ২০২৪ সালের আগস্টে। তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে তার সরকারের পতন হয় এবং শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। এর প্রায় দেড় বছর পর, ২০২৫ সালের বড়দিনে বিএনপি নেতা তারেক রহমান দেশে ফেরেন। ঢাকায় তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায় এবং তাকে দেওয়া হয় বীরোচিত সংবর্ধনা।

২০০৮ সালে সামরিক সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে গ্রেফতার হওয়ার পর চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়তে বাধ্য হন তারেক রহমান। এরপর প্রায় ১৭ বছর তিনি লন্ডনে অবস্থান করেন। এই সময় তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা হয় এবং ২০০৪ সালে শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় ২০১৮ সালে তার অনুপস্থিতিতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে শেখ হাসিনার পতনের পর এসব মামলায় তিনি খালাস পান। তারেক রহমান বরাবরই এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছেন।

রাজনৈতিক উত্তরাধিকার ও পারিবারিক প্রেক্ষাপট

তারেক রহমান ১৯৬৫ সালের ২০ নভেম্বর ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান–এর জ্যেষ্ঠ পুত্র। জিয়াউর রহমান ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল পর্যন্ত দেশ শাসন করেন এবং পরে এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন।

অন্যদিকে, দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা–র সঙ্গে বিএনপির রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী। খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার দ্বন্দ্ব কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের রাজনীতিকে প্রভাবিত করেছে। বর্তমানে শেখ হাসিনা নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে পড়াশোনা করলেও তারেক রহমান ডিগ্রি সম্পন্ন করেননি। পরবর্তীতে তিনি বেসরকারি খাতে টেক্সটাইল ও কৃষিপণ্য ব্যবসায় যুক্ত হন। তবে ২০০১-২০০৬ সালে খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দলীয় কার্যক্রমে তার সক্রিয় ভূমিকা তাকে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ করে তোলে। সমালোচকরা অভিযোগ করতেন, তিনি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘সমান্তরাল ক্ষমতার কেন্দ্র’ পরিচালনা করতেন—যদিও তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

কণ্ঠে পুর্নমিলনের বার্তা 

দেশে ফেরার পর তার বক্তব্যে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে বলে বিশ্লেষকদের মত। অতীতের তুলনায় তিনি এখন অনেক বেশি সংযত ও কূটনৈতিক ভাষায় কথা বলছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি প্রতিশোধপরায়ণ রাজনীতির বিরোধিতা করে বলেন, প্রতিশোধ কারও জন্য কল্যাণ বয়ে আনে না। দেশের এখন সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন শান্তি ও স্থিতিশীলতা।

তিনি “রাষ্ট্রের ওপর জনগণের মালিকানা পুনঃপ্রতিষ্ঠা” এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। তার মতে, গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা সম্ভব।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ও নীতিগত অগ্রাধিকার

তারেক রহমানের নির্বাচনী অঙ্গীকারগুলোর মধ্যে রয়েছে—

দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা ও আর্থিক সহায়তা সম্প্রসারণ

তৈরি পোশাক খাতের ওপর অতিনির্ভরতা কমিয়ে খেলনা, চামড়াজাত পণ্য ও অন্যান্য হালকা শিল্পের বিকাশ

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব পুনর্বিন্যাস

প্রধানমন্ত্রী পদে সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা ১০ বছরের সীমা নির্ধারণ

নির্বাচন কমিশন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা জোরদার

তিনি দাবি করেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে।


দলের ভেতরে নেতৃত্ব ও কৌশল

দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচন, জোট গঠন ও নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণে তারেক রহমান সরাসরি তদারকি করেছেন। নির্বাসনে থাকাকালেও তিনি ভার্চুয়ালি দল পরিচালনা করতেন, তবে দেশে ফেরার পর তার সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ আরও দৃঢ় হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, পারিবারিক উত্তরাধিকার তার রাজনৈতিক পরিচয়ের বড় অংশ হলেও, এবার তিনি নিজস্ব নেতৃত্বের ছাপ রাখতে সচেষ্ট। বিশেষ করে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় উপস্থিতি বজায় রেখেছেন।

সামনে যে চ্যালেঞ্জ

ক্ষমতায় গেলে তার সামনে থাকবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বেকারত্ব হ্রাস এবং রাজনৈতিক মেরুকরণ কমানোর মতো বড় চ্যালেঞ্জ। একই সঙ্গে তাকে প্রমাণ করতে হবে যে তার নেতৃত্ব সত্যিই গণতান্ত্রিক সংস্কার ও জবাবদিহিতার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সক্ষম।

তার ভাষায়, গণতন্ত্র চর্চার মাধ্যমেই আমরা দেশকে পুনর্গঠন ও সমৃদ্ধ করতে পারব। আমরা জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং একটি স্থিতিশীল, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে চাই।

নির্বাসন থেকে ক্ষমতার দোরগোড়ায়—তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে।


/ইউএমএইচ




  বিষয়:   নির্বাচন  তারেক রহমান 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: