আমিনুল হক বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক পরিচিত মুখ, জনপ্রিয় নাম। সাফজয়ী দলের সদস্য, দেশসেরা গোলরক্ষক। ২০১৩ সালে লাল-সবুজ জার্সি তুলে রাখার পর নতুন এক পরিচয়ে নিজেকে দেশব্যাপী আরও বেশি পরিচিত, সমাদৃত করে তোলেন। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিগত সরকারের রোষানলে পড়েন। জেল-জুলুম, হামলা-মামলার শিকার হন। তবে শত অত্যাচারেও কখনো মাথা নত করেননি। জেলে গেছেন, আবার বীরের বেশে রাজপথে ফিরেছেন। জাতীয়তাবাদী শক্তিকে নিয়ে আন্দোলন-সংগ্রামে অনিদ্র রজনি পার করেছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর আমিনুলের এক যুগ সংগ্রামের অবসান ঘটে। ক্ষমতার চেয়ারে না বসেও দেশ ও দশের উপকারে নিজেকে সঁপে দেন। দেশের জনপ্রিয় ও গণতান্ত্রিক দল বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়কের পাশাপাশি দলটির কেন্দ্রীয় ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক আমিনুল। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে অনেক কাজ করেন।
আমিনুল একজন রাজনৈতিক সচেতন, পরিচ্ছন্ন চরিত্রের প্রার্থী হিসেবে সবার প্রশংসা কুড়ান। সাধারণ ভোটারদের মন জয়ে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালান। দুঃখী-দরিদ্র, গৃহহীন, অসুস্থ, বিধবা, এতিম- সবার মাথায় অভিভাবকের ছাতাটা মেলে ধরেন, পাশে দাঁড়ান। সাহায্য-সহযোগিতা করেন। নিজ এলাকা ঢাকা-১৬ আসনের পাশাপাশি বাদ যায়নি তার প্রিয় ক্রীড়াঙ্গনও। দুস্থ খেলোয়াড়, কোচ এবং সাংবাদিক ও তাদের পরিবারের পাশেও সহযোগিতার হাত বাড়ান আমিনুল হক।
আরও পড়ুন
ক্রীড়াঙ্গনসহ সাধারণ এমনকি বোদ্ধা-বিশ্লেষকদের ধারণা ছিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা থেকে বিএনপির অন্য আসনগুলোর মতো ঢাকা-১৬ নিশ্চিত জয়। আমিনুল হকের জয় সুনিশ্চিত। এমন যখন অবস্থা ১২ ফেব্রুয়ারি রাত পেরিয়ে পরদিন সকাল সবার জন্য অন্যরকম এক বিস্ময়ে হাজির। জামায়াতের প্রার্থীর কাছে বিএনপির আমিনুলের পরাজয়। তিন হাজারের কিছু বেশি ভোটে হার। এমন পরাজয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নেমেছে শোক।
আমিনুল হকের মতো ক্লিন ইমেজের রাজনীতিবিদ যেন না হারিয়ে যায় এ জন্য তাকে টেকনোক্র্যাট কিংবা উপনির্বাচনের সুযোগ দিয়ে অন্য আসন থেকে পাসের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। দেশের নামকরা সব ক্রীড়াবিদ ও সাবেক তারকারা নিজেদের ফেসবুকে আমিনুলের পরাজয়ে ব্যথিত হয়ে পোস্ট লিখছেন। ফুটবলার বিপ্লব ভুট্টাচার্য, জাহেদ পারভেজ চৌধুরী, তারকা শুটার শারমিন আক্তার রত্না, দেশসেরা শাটলার জুটি এনায়েত উল্যা খান, এলিনা সুলতানা, ভলিবল ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক সাবেক খেলোয়াড় আব্দুল মুমিন সাদ্দাম, জাতীয় কারাতেকা আয়শা আক্তার মিম, ক্রিকেটার আসিফ আহমেদ রাতুল, গ্র্যান্ড মাস্টার নিয়াজ মোর্শেদ সবার একটাই দাবি- আমিনুলকে ক্রীড়াঙ্গনে রাখা, ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবকের দায়িত্ব দেওয়া।
এমন দাবির প্রেক্ষিতে আমিনুলের ভাবনা জানা না গেলেও নির্বাচনের রেজাল্ট কিন্তু মেনে নেননি। ভোটে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি, কারচুপির অভিযোগ এনেছেন তিনি। গতকাল সকালে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের রিটার্নিং অফিসার বরাবর একটি লিখিত আবেদনও জমা দিয়েছেন আমিনুল।
এএডি/