ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দ্রুত ক্ষমতা হস্তান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, সরকারি গেজেট প্রকাশের পর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। শপথ অনুষ্ঠান আগামী সোমবার বা মঙ্গলবার হতে পারে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যদেরও শপথ নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর দায়িত্ব দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার বা তার মনোনীত ব্যক্তির। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে তা না হলে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) শপথ পরিচালনা করবেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতি জটিল। সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগের পর থেকে প্রকাশ্যে নেই। ফলে প্রয়োজনে সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন-এর মাধ্যমে শপথ আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। সে ক্ষেত্রে গেজেট প্রকাশের পর সাংবিধানিকভাবে তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে, গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে ভোট হয় এবং ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। দুটি আসনের ফল উচ্চ আদালতের নির্দেশে স্থগিত রয়েছে। বেসরকারি ফল অনুযায়ী, বিএনপি ২০৯টি আসনে জয় পেয়েছে। স্থগিত দুই আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে। তাদের শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং তাদের জোটের শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।
সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্ধারিত ব্যক্তি শপথ পড়াতে ব্যর্থ হলে সিইসি পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে শপথ পড়াবেন।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচন সংবিধানের ১২৩(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হয়নি, কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর সংসদ ভেঙে দেওয়া হয় এবং পরে বিশেষ প্রেক্ষাপটে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলে শপথ প্রক্রিয়া নিয়েও কিছু সাংবিধানিক ব্যাখ্যার বিষয় রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, পরিবর্তিত রাজনৈতিক বাস্তবতায় যেহেতু ঐকমত্যের ভিত্তিতে নির্বাচন হয়েছে, তাই শপথের বিষয়টিও রাজনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান হতে পারে।
/ইউএমএইচ