দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের ডাক

সাব্বির আহমেদ

রাজনীতি

প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান

2026-02-15T01:29:55+00:00
2026-02-15T01:29:55+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যের ডাক
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:২৯ এএম 
নির্বাচনে জয়লাভ করার পর রাজধানীর একটি হোটেলে শনিবার সংবাদ সম্মেলন শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ভি চিহ্ন দেখান। ছবি : সময়ের আলো
প্রথমবারের মতো নির্বাচনে জয়লাভ করে একটি নিরাপদ, মানবিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছেন, পথ ও মতের ভিন্নতা থাকলেও দেশের বৃহত্তর স্বার্থে জাতীয় ঐক্যের বিকল্প নেই। এ জন্য ভিন্ন দল ও ভিন্নমতের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি। 

পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে বাংলাদেশের স্বার্থকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। দেশ পরিচালনার ক্ষেত্রে বহির্বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক, কূটনৈতিক ভারসাম্য ও বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার বিষয়গুলোও গুরুত্ব পেয়েছে তার বক্তব্যে। একই সঙ্গে দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় দলের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি। তার ভাষায়, ‘এ বিজয় বাংলাদেশের, এ বিজয় গণতন্ত্রের, এ বিজয় গণতন্ত্রকামী জনগণের।’ তিনি সতর্ক করেন, নির্বাচনি বিরোধ যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। আর আওয়ামী লীগের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান সম্পর্কে প্রশ্নের জবাবে কৌশলী জবাব দেন তিনি। 

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুদিন পর গতকাল শনিবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন বিএনপি চেয়ারম্যান। প্রথমবারের মতো এমপি নির্বাচিত হয়েই প্রধানমন্ত্রী হতে চলেছেন তারেক রহমান। নির্বাচনে বিএনপি নিরঙ্কুশ জয়লাভ করার পর এই প্রথম সাংবাদিকদের মুখোমুখি হলেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান; দিলেন প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি। দেড় যুগেরও বেশি সময় লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পরে গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তারেক রহমান। এরপর বনানীর হোটেল শেরাটনে সম্পাদকসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার ভোট দিয়ে রাজধানীর বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের কাছে দুই দফা প্রতিক্রিয়াও জানিয়েছিলেন তারেক রহমান। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, জনগণের কাছে রাষ্ট্র মেরামতের রূপরেখা উপস্থাপন করেছিল বিএনপি। অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং সারা দেশের জনগণের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে ৩১ দফা প্রণয়ন করেছিল। দলীয় ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে ৩১ দফার আলোকে। একই সঙ্গে কয়েকটি বিষয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে বিএনপি জুলাই সনদেও স্বাক্ষর করেছে। আমরা জনগণের কাছে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ- প্রত্যাশিত প্রতিটি অঙ্গীকার পর্যায়ক্রমিকভাবে বাস্তবায়ন করব ইনশাআল্লাহ। 


এবার নির্বাচনে ৫১টি রাজনৈতিক দল অংশ নিয়েছিল উল্লেখ করে তাদের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়েছেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের প্রতি আহ্বান জানাই, দেশ গঠনে আপনাদের চিন্তাভাবনাও আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি, জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা। 

তারেক রহমান তার বক্তব্যের শুরুতেই শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, যেকোনো মূল্যে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে হবে। কোনো ধরনের সহিংসতা, প্রতিশোধ কিংবা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। নির্বাচনি প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে কোথাও কোথাও ভুল বোঝাবুঝি বা উত্তেজনা সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, সেটি যেন কোনোভাবেই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসায় রূপ না নেয়। তার ভাষায়, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার বিজয়কে প্রতিহিংসার মাধ্যমে কলঙ্কিত করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না। বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী-সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এবার দেশ গড়ার পালা আমাদের। দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় আপনি-আমি, আমাদের প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে অবশ্যই। তিনি বলেন, আমরা গণতন্ত্র এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার এই বিজয়কে শান্তভাবে, শান্তির সঙ্গে, দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উদযাপন করেছি। নির্বাচনোত্তর বাংলাদেশে যাতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, এ জন্য শত উসকানির মুখেও আমি সারা দেশে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের শান্ত এবং সতর্ক থাকার আহ্বান জানাচ্ছি। দল-মত-ধর্ম-বর্ণ কিংবা ভিন্নমত যাই থাকুক, কোনো অজুহাতে অবশ্যই দুর্বলের ওপরে সবলের আক্রমণ আমরা মেনে নেব না। 

এ সময় তিনি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার এবং নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানান এবং যেকোনো মূল্যে দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান। 

বিএনপিপ্রধান বলেন, আসুন, যেভাবে আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ভূমিকা রেখেছিলাম, একইভাবে এবার দুর্নীতি এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের প্রতি জবাবদিহির মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশকে একটি নিরাপদ, মানবিক বাংলাদেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার জন্য যে যার অবস্থান থেকে আমরা ভূমিকা রাখি। 

নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ফ্যাসিবাদের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, অকার্যকর করে দেওয়া সাংবিধানিক এবং বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান এবং দুর্বল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি- এমন একটি পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমরা যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছি। 

তারেক বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদসহ ৫১টি রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকেও আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। আমাদের পথ এবং মত ভিন্ন থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে আমরা সবাই এক। আমি বিশ্বাস করি জাতীয় ঐক্য আমাদের শক্তি, বিভাজন আমাদের দুর্বলতা।’ 

সংবাদ সম্মেলন শেষে বিজয় চিহ্ন দেখান বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর আগে সাদা শার্ট পরে হাস্যোজ্জ্বল মুখে তারেক রহমান হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বলরুমে প্রবেশ করলে সেখানে আসা নেতারা দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে সাংবাদিকদের দিকে হাত তুলে সালাম জানান তারেক রহমান। 

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সেলিমা রহমান, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা। 

এক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, দেশের জনগণকে কনভিন্স করাটাই হচ্ছে আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। আমাদের যে ইঞ্জিনিয়ারিংটা ছিল জনগণকে আমাদের পক্ষে নিয়ে আসা সেটিতে আলহামদুলিল্লাহ আমরা সফল হয়েছি। আর জনগণকে কনভিন্স করে একটি সুষ্ঠু সুন্দর পরিবেশের এনসিউর করাটাই ছিল আমাদের ইঞ্জিনিয়ারিং। 

‘ভারত-পাকিস্তান-চীনের সঙ্গে আপনাদের সম্পর্ক কী হবে?’
তার সরকারের পররাষ্ট্রনীতি সম্পর্কে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থ, বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ আমাদের কাছে প্রথম। বাংলাদেশ এবং দেশের মানুষের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা আমাদের ফরেন পলিসি ডিসাইড  করব। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ডেফিনেটলি উই উইল ট্রাই টু প্রোটেক্ট ইন্টারেস্ট অব পিপল অব বাংলাদেশ, আমাদের দেশের স্বার্থ ঠিক রেখে আমরা সব দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ব। আই অ্যাম সিউর মিউচুয়াল ইন্টারেস্ট ইজ দি ফাস্ট প্রাইয়োরিটি।’ 

‘সরকারের অগ্রাধিকার চ্যালেঞ্জগুলো কী?’
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের কাছে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে সেগুলো হচ্ছে, অর্থনীতিকে সচল করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা, অবশ্যই আমাদের জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং আপনি জানেন যে, গত রেজিম তারা দেশে সব প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ করেছে। সে জন্য আমরা সুশাসন প্রতিষ্ঠা করব। এগুলো আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি এবং এগুলোকে উই নিড টু টেকেল।’ 

‘সার্ক এবং শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে বিএনপি কি করবে’
তারেক রহমান বলেন, ‘ইয়েস, দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা-সার্ক গঠন হয়েছিল বাংলাদেশের উদ্যোগে। স্বাভাবিকভাবে আমরা সার্ক সক্রিয় করতে চাই। এই বিষয়ে আমরা আলাপ করব।’ 

আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতিরোধ প্রশ্নে বিএনপির শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, আইন সবার জন্য সমান। আইন যদি সবার জন্য সমান হয়ে থাকে আমরা ইনশাআল্লাহ সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আসার পরে চেষ্টা করব, আইন যাতে আইনের মতো করে চলে। সেটিই আমাদের পজিশন।’ 

আওয়ামী লীগের বিষয়ে আপনাদের অবস্থান কী হবে? জবাবে তারেক রহমান বলেন, ‘বাই অ্যানসিউরিং রুল অব ল।’ পরে সাংবাদিকদের আপ্যায়নে আমন্ত্রণ জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ স্থায়ী কমিটির সদস্যরা মঞ্চে তারেক রহমানের পাশে ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনের শুরুতে তারেক রহমান তার দলকে সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ী করার জন্য দেশবাসীকে অভিনন্দন জানান। এরপর প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি দেশি-বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। 

এদিকে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম, রক্তক্ষয় ও চড়াই-উতরাই পেরিয়ে বাংলাদেশে উদারপন্থি গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। এই নির্বাচন প্রমাণ করেছে, দেশের ১৮ কোটি মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ। 

এই বিজয়কে কেবল দলীয় বিজয় হিসেবে না দেখে ‘উদারপন্থি গণতন্ত্রের’ বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন মির্জা ফখরুল। তার মতে, এটি অর্থনীতির গণতান্ত্রিকীকরণ এবং মানুষের মৌলিক অধিকার আদায়ের বিজয়। সংবাদ সম্মেলনে সমাপনী বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   দেশ পুনর্গঠন  ঐক্যের ডাক 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: