টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সবার আগে সুপার এইটে জায়গা করে নিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। চলমান ১০ম আসরের ২৪তম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে পরাজিত করে প্রোটিয়ারা। গতকাল শনিবার ৭ উইকেটের জয়ে ৩ ম্যাচে ৬ পয়েন্ট নিয়ে ডি গ্রুপ থেকে সুপার এইটে উঠে গেল দক্ষিণ আফ্রিকা। এদিন ভারতের আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭৫ রান করে নিউজিল্যান্ড।
ম্যাচের এক পর্যায়ে, লকি ফার্গুসনের বলে ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে বিশাল এক ছক্কা মেরে কোনো প্রতিক্রিয়াই দেখালেন না ডেভিড মিলার। অপর প্রান্তের সঙ্গী এইডেন মার্করামকেও উদযাপন করতে দেখা গেল না। যেন দুজন কিছুই করেননি! অথচ, মিলারের ওই ছক্কা নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দক্ষিণ আফ্রিকাকে শুধু জয়ে বন্দরেই পৌঁছে দেয়নি, এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথম দল হিসেবে নিয়ে গেছে সুপার এইট পর্বে।
এর আগে, কিউইদের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন মার্ক চ্যাপম্যান। জবাবে এইডেন মার্করামের খুনে মেজাজের ব্যাটিংয়ে ১৭ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখে লক্ষ্য টপকেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।
মার্করাম এদিন আক্ষরিক অর্থেই কিউই বোলারদের কচুকাটা করেছেন। ৮ চার ও ৪ ছক্কায় ৪৪ বলে ৮৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মার্করাম, যা এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সফলভাবে রান তাড়ায় কোনো অধিনায়কের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। ২০০৯ আসরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয়ের ম্যাচে ৮৮ রান করেছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবদন্তি ক্রিস গেইল। নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ আফ্রিকাকে আরও কিছু রানের লক্ষ্য দিতে পারলে গেইলের ১৭ বছর ধরে টিকে থাকা রেকর্ডটা হয়তো ভেঙে দিতেন মার্করাম। তবে, এমন ইনিংস উপহার দেওয়ার পরও ম্যাচসেরার পুরস্কার মার্করামের হাতে ওঠেনি। আহমেদাবাদের ব্যাটিং স্বর্গেও ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রোটিয়া পেস বোলিং অলরাউন্ডার মার্কো ইয়ানসেন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড : ২০ ওভারে ১৭৫/৭ (চ্যাপম্যান ৪৮, মিচেল ৩২, অ্যালেন ৩১, নিশাম ২৩*; ইয়ানসেন ৪/৪০, মহারাজ ১/২৪, বশ ১/৩৪, এনগিডি ১/৩৪)।
দক্ষিণ আফ্রিকা : ১৭.১ ওভারে ১৭৮/৩ (মার্করাম ৮৬*, মিলার ২৪*, রিকেলটন ২১, ব্রেভিস ২১; রবীন্দ্র ১/৯, নিশাম ১/১৫, ফার্গুসন ১/৩৩)।
ফল : দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : মার্কো ইয়ানসেন (দক্ষিণ আফ্রিকা)।
সময়ের আলো/এনএ