পিতৃত্ব অস্বীকারের অভিযোগে কিশোরীর আত্মহত্যা

বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।নিহত ফাতেমা বেগমের পরিবারের অভিযোগ,

2026-02-15T20:00:12+00:00
2026-02-15T20:01:08+00:00
 
  শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬,
৮ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
পিতৃত্ব অস্বীকারের অভিযোগে কিশোরীর আত্মহত্যা
বাঁশখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০০ পিএম  আপডেট: ১৫.০২.২০২৬ ৮:০১ পিএম
প্রতীকী ছবি
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শেখেরখীল ইউনিয়নে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত ফাতেমা বেগমের পরিবারের অভিযোগ, ধর্ষণ মামলার আসামির পিতৃত্ব অস্বীকার, সামাজিক একঘরে করে রাখা এবং মামলা প্রত্যাহারের চাপ এসবের সম্মিলিত প্রভাবেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিজ বাড়ি থেকে ফাতেমার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। 

তিনি শেখেরখীল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাহামনিখীল এলাকার বাসিন্দা মো. এরফানুল হকের মেয়ে।

বাঁশখালী থানার ওসি মো. খালেদ সাইফুল্লাহ জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে নেজাম উদ্দিনকে একমাত্র আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন নিহতের বোন জুবায়দা নাহার রিকু। এর আগে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম ইউনিটে তদন্তাধীন রয়েছে এবং সন্তানের ডিএনএ পরীক্ষার প্রক্রিয়াও চলমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ছনুয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চেমটখালী এলাকার মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে নেজাম উদ্দিন শেখেরখীল ইউনিয়নের বাংলাখাল ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় বসবাস শুরু করেন। তার ভবনে ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন ফাতেমার বড় বোন ও দুলাভাই। সেই সূত্রে প্রায় দুই বছর আগে নেজামের বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ নেন ফাতেমা। 

অভিযোগ অনুযায়ী, এক বছর আগে নেজাম জোরপূর্বক তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরে ফাতেমা গর্ভবতী হলে তিনি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন।

পরিবারের দাবি, স্থানীয় প্রভাবশালীরা ফাতেমাকে সামাজিকভাবে একঘরে করে এবং মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দেয়। এক মাস বয়সী কন্যা সন্তান রেখে তার এই আত্মহত্যা, সামাজিক চাপে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার ফল হতে পারে বলে ধারণা করছেন স্বজনরা।

নিহতের বোন জুবায়দা নাহার রিকু জানান, গত ২৭ জানুয়ারি ফাতেমা একটি কন্যা সন্তানের জন্ম দেন। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি সন্তানের পিতৃত্ব অস্বীকার করেন এবং সামাজিকভাবে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান।

স্থানীয় সমাজপতি শহীদুজ্জামান চৌধুরী বলেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিক সালিশ বৈঠক হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পিতৃত্ব স্বীকার না করায় কোনো সমাধান হয়নি।

ফাতেমার মৃত্যু কেবল একটি আত্মহত্যার ঘটনা নয়; এটি গ্রামীণ সমাজে ক্ষমতার প্রভাব, নারীর নিরাপত্তাহীনতা, বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা এবং সামাজিক কলঙ্কের সম্মিলিত প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। 

এখন নজর রয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার ফল, পিবিআই তদন্তের অগ্রগতি এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও বিচারিক প্রক্রিয়ার দিকে। এক মাস বয়সী একটি শিশু মায়ের স্নেহ থেকে বঞ্চিত হলো; সমাজ ও রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

সময়ের আলো/আরবিএন 
  বিষয়:   চট্টগ্রাম  বাঁশখালী  কিশোরী  আত্মহত্যা 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: