পুনর্গঠনের রাজনীতিতে বিরোধী দলকে পাশে চায় বিএনপি

রফিক রাফি

রাজনীতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে সারা দেশে আনন্দে ভাসছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভিন্ন মত ও ভিন্ন দলকে পাশে

2026-02-16T01:30:40+00:00
2026-02-16T01:33:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
রাজনীতি
পুনর্গঠনের রাজনীতিতে বিরোধী দলকে পাশে চায় বিএনপি
রফিক রাফি
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৩০ এএম  আপডেট: ১৬.০২.২০২৬ ১:৩৩ এএম
সংগৃহীত ছবি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ে সারা দেশে আনন্দে ভাসছে বিএনপির নেতাকর্মীরা। উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি ভিন্ন মত ও ভিন্ন দলকে পাশে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনে এগোতে চায় বিএনপি।

খোদ বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এই মনোভাব ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, পথ ও মত ভিন্ন হতে পারে কিন্তু দেশের স্বার্থে সবার ঐক্য গুরুত্বপূর্ণ। সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয়ের ধারাবাহিকতায় রোববার রাতে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে দেখা করেছেন তারেক রহমান।

বিএনপি নেতারা জানিয়েছেন, সাক্ষাৎকালে তারেক রহমান দেশ পুনর্গঠনে তাদের সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় ডা. শফিকুর রহমান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অগ্রিম অভিনন্দন জানান। 

তিনি বলেন, তার (তারেক রহমান) এই আগমন আমাদের জাতীয় রাজনীতির জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। আমি তার এই আগমনকে স্বাগত জানাই এবং প্রত্যাশা রাখি, সংলাপ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে এটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার এক নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিএনপি নেতারা বলছেন, বিএনপিপ্রধান আগেই বিরোধী মত ও দলকে পাশে নিয়ে দেশ পুনর্গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। এর ধারাবাহিকতায় জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গিয়ে তারেক রহমানের সাক্ষাৎ করা দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে। 

পাশাপাশি শফিকুর রহমান ও নাহিদ ইসলামও তারেক রহমানের কাছে যে মনোভাব ব্যক্ত করেছেন তা দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্য খুবই ইতিবাচক। এর মধ্য দিয়ে দেশ পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসছে। বিরোধী দলকে পাশে নেওয়ার এই উদ্যোগ বিএনপি ঘোষিত দেশ পুনর্গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।

দলের তৃণমূল নেতাকর্মীরা বলছেন, দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকা এবং জনসমর্থন থাকার কারণেই বিএনপির এমন ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা চাঙ্গা। নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ বিজয়ের মাধ্যমে সরকার গঠনের ফলে যত দিন যাবে বিএনপির প্রতি মানুষের সমর্থন ততই বাড়বে। এতে সংগঠন আরও শক্তিশালী হবে। আমরা চাই বিরোধী দলকে পাশে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন করতে। ইতিমধ্যে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা এই ঘোষণা দিয়েছেন। বিরোধী দলের পরাজিত প্রার্থীরাও সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।

তারা বলছেন, বিজয়ের পাশাপাশি হেরে যাওয়া আসন ও ভোটের ব্যবধান নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। চলছে দুর্বল দিক নিয়েও আলোচনা। বিএনপি প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে। এই ভোট আরও বাড়ানোর জন্য তৃণমূলে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।

দলের সদ্য বিজয়ী সংসদ সদস্য ও নেতারা বলছেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও দেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সব পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পুনর্গঠন ও সংগঠন পুনর্গঠন এবং শক্তিশালী করার কাজ একযোগে চলবে। বিশেষ করে মহিলা দলকে আরও শক্তিশালী করে নারীদের মাঝে সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটানোর পরিকল্পনার কথা বলছেন তারা।

ময়মনসিংহ-১০ আসনে বিজয়ী আখতারুজ্জামান বাচ্চু সময়ের আলোকে বলেন, আল্লাহর কৃপা ও জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হতে পেরেছি, এ জন্য শুকরিয়া। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী এখন আমার টার্গেট হচ্ছে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে জনকল্যাণে কাজ করা, এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা। অবহেলিত গফরগাঁও পাগলা উপজেলায় বিভাজনের রাজনীতি না করে ঐক্যের রাজনীতি করব।

তিনি বলেন, দেশ ও সংগঠন পুনর্গঠন একসঙ্গে চলবে। সংগঠন বেগবান করা একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা বিজয়ী হয়েছি, এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ পুনর্গঠন ও সংগঠনকে শক্তিশালী করার কাজ একসঙ্গে চলবে।


তিনি বলেন, নারীদের স্বাবলম্বী করার জন্য বিএনপি নানা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে সংগঠনের ব্যাপ্তি ঘটানোর জন্য আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে।

মুন্সীগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আব্দুস সালাম আজাদ সময়ের আলোকে বলেন, জনগণ আমাকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করে ঋণী করেছে। এখন আমাদের পালা হচ্ছে জনগণের ঋণ পরিশোধ করা।

তিনি বলেন, দেশ পুনর্গঠনে সব পক্ষের সহযোগিতা লাগবে। বিএনপি চায় বিরোধী দলকে পাশে নিয়ে দেশের উন্নয়ন করতে। আমি এলাকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করব।

ঢাকা-৯ আসন বিজয়ী হাবিবুর রশিদ হাবিব সময়ের আলোকে বলেন, সবাই আমাকে ভোট না দিলেও আমি এখন সবার প্রতিনিধি। এলাকার উন্নয়ন ও দলমত নির্বিশেষে জনগণের দুর্ভোগ লাঘব করে নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করাই আমার প্রধান কাজ। এটা করতে পারলেই সর্বস্তরে বিএনপির গ্রহণযোগ্যতা আরও বাড়বে।

তিনি বলেন, আমরা অতীতের প্রতিহিংসার রাজনীতিতে ফিরে যেতে চাই না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে নতুন বাংলাদেশের সূচনা হবে। বিএনপিপ্রধানের বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় যাওয়ার মধ্য দিয়ে দেশে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম হলো। এটা অব্যাহত রাখতে বিএনপি ও বিরোধী দলকে একযোগে কাজ করতে হবে। তা হলে দেশ পুনর্গঠন সম্ভব হবে।

ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমান বলেন, নিরঙ্কুশ বিজয়ে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত। এই নির্বাচনে কী কী ঘাটতি ছিল সেটা কাটিয়ে উঠতে আমরা কাজ করব। এ ছাড়া ভিন্ন মত ও দলের রাজনৈতিক সহাবস্থানের মধ্য দিয়ে নতুন সংস্কৃতি গড়ে তুলব।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি করা এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বাড়াতে কাজ করবে ছাত্রদল। একটি দল ধর্মের কথা বলে ভোট নিয়েছে। তারা প্রকৃত ইসলামের প্রতিনিধিত্ব করে না, এটা জনগণকে বোঝাতে আমরা পদক্ষেপ নেব। ছাত্রীদের ছাত্রদলে অংশ গ্রহণ বাড়াতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর বিরোধী দলের দুই নেতার বাসায় গিয়ে সাক্ষাৎ করেছেন, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে কখনো হয়নি। তিনি রাজনীতিতে নতুন ধারার উদাহরণ সৃষ্টি করলেন। এর মাধ্যমে জনগণের কাছে একটি ইতিবাচক বার্তা গেল যে, সবাইকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির দেশ পুনর্গঠনের ঘোষণা রাজনৈতিক বুলি নয়, তারা আসলেই সেটা চায়। এর মধ্য দিয়ে দেশ ও জনগণ উপকৃত হবে।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   রাজনীতি  বিএনপি 


Loading...
Loading...
রাজনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: