ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় পৌনে চার কোটি ভোট পেয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), যা মোট ভোটের ৪৯.৯৭ শতাংশ। এ নির্বাচনে বিএনপির ২৯০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করেছেন ও দলটি এখন সরকার গঠনের পথে।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৩১ দশমিক ৭৬ শতাংশ ভোট। ভোটের হিসেবে যা সোয়া দুই কোটিরও বেশি ভোট। ভোটের মাঠে ২২৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৬৮টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে দলটি। এ ছাড়া ১০টি দল পেয়েছে ০.০০ শতাংশ ভোট।
গত বৃহস্পতিবার শেষ হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এ নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করেছিল ৫১টি রাজনৈতিক দলের ২০২৮ জন প্রার্থী। এরমধ্যে ২৯৭ আসনে মাত্র ৮টি দল জয় পেয়েছে। বেশিরভাগ দলই একটি করে আসনেও জয় লাভ করতে পারেনি কিংবা ভোটের হারও তলানিতে। গতকাল নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত ভোটের হার বিশ্লেষণে এ তথ্য জানা যায়।
কোন দল কত শতাংশ ভোট পেল
লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ১৩ প্রার্থী ছাতা প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ০.৩৫ শতাংশ ভোট। বাইসাইকেল প্রতীকে জাতীয় পার্টির (জেপি) ১০ জন পেয়েছেন ০.০৪ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) ৬৫ জন কাস্তে প্রতীকে পেয়েছেন ০.০৮ শতাংশ ভোট। ধানের শীষ নিয়ে বিএনপির ২৯০ জন পেয়েছেন ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট। গণতন্ত্রী পার্টির ১ জন (কবুতর) ০.০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
জাতীয় পার্টির ১৯৯ জন লাঙ্গল প্রতীকে পেয়েছেন ০.৮৯ শতাংশ ভোট। জামায়াতে ইসলামীর ২২৮ জন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩১.৭৬ শতাংশ ভোট। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) ২৮ জন প্রার্থী পেয়েছেন ০.০৪ শতাংশ ভোট। জাকের পার্টির ৫ জন গোলাপ প্রতীকে পেয়েছেন ০.০২ শতাংশ ভোট।
বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) ৩৫ জন মই প্রতীকে পেয়েছেন ০.০৫ শতাংশ ভোট। বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) ২ জন গরুর গাড়ির প্রতীকে পেয়েছেন ০.১৪ শতাংশ ভোট। খেলাফত আন্দোলনের ৮ জন বটগাছ প্রতীকে পেয়েছেন ০.০১ শতাংশ ভোট। মুসলিম লীগের ১৬ জন হারিকেন প্রতীকে ০.০১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) ২২ জন আম প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ০.০১ শতাংশ।
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের ৪ জন খেজুর গাছ প্রতীকে ০.৪৭ শতাংশ ও গণফোরামের ২০ জন উদীয়মান সূর্য প্রতীকে পেয়েছেন ০.০১ শতাংশ ভোট। গণফ্রন্টের মাছ প্রতীকে পেয়েছেন ০.০০ শতাংশ ভোট। ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির ১ জন গাভী প্রতীকে পেয়েছেন ০.০১ শতাংশ ভোট। জাতীয় পার্টির ৬ জন কাঁঠাল প্রতীকে ০.০০ শতাংশ ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের ২০ জন চেয়ার প্রতীকে ০.০৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। কল্যাণ পার্টির ২ জন হাতঘড়ি প্রতীকে ০.০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। ইসলামী ঐক্যজোটের ২ জন মিনার প্রতীকে ০.০০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া খেলাফত মজলিসের ৩৪ জন রিকশা প্রতীকে ২.০৯ শতাংশ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ২৫৮ জন হাতপাখা প্রতীকে ২.৭০ শতাংশ, ইসলামী ফ্রন্টের ২৫ জন মোমবাতি প্রতীকে ০.৪৫ শতাংশ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) ১ জন চশমা প্রতীকে ০.০০ শতাংশ, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির ৭ জন কোদাল প্রতীকে ০.০৪ শতাংশ, খেলাফত মজলিসের ২০ জন দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে ০.৭৬ শতাংশ, মুসলিম লীগের (বিএমএল) ৪ জন হাত পাঞ্জা প্রতীকে ০.০০ শতাংশ, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের (মুক্তিজোট) ২০ জন ছড়ি প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) ৮ জন টেলিভিশন প্রতীকে ০.০০ শতাংশ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) ৮ জন সিংহ প্রতীকে ০.০০ শতাংশ, বাংলাদেশ কংগ্রেসের ১৮ জন ডাব প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের ৪২ জন আপেল প্রতীকে ০.০৩ শতাংশ, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (বাংলাদেশ জাসদ) ১৫ জন মোটরযান প্রতীকে ০.০২ শতাংশ, সুপ্রিম পার্টির (বিএসপি) ১৮ জন একতারা প্রতীকে ০.০৪ শতাংশ, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) ৩০ জন ঈগল প্রতীকে ০.২৮ শতাংশ, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) ৯৪ জন ট্রাক প্রতীকে ০.৩৩ শতাংশ, নাগরিক ঐক্যের ১১ জন কেটলি প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, গণসংহতি আন্দোলনের ১৭ জন মাথাল প্রতীকে ০.১৪ শতাংশ, ডেভেলপমেন্ট পার্টির ২ জন ফুলকপি প্রতীকে ০.১৭ শতাংশ, মাইনরিটি জনতা পার্টির (বিএমজেপি) ৮ জন রকেট প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, লেবার পার্টির ১৭ জন আনারস প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, রিপাবলিকান পার্টির (বিআরপি) ১৪ জন হাতি প্রতীকে ০.০২ শতাংশ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ৩২ জন শাপলা কলি প্রতীকে ৩.০৫ শতাংশ, সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) ৩২ জন কাঁচি প্রতীকে ০.০২ শতাংশ, জনতার দলের ২০ জন কলম প্রতীকে ০.০৫ শতাংশ, আমজনতার দলের ১৫ জন প্রজাপতি প্রতীকে ০.০১ শতাংশ, সমঅধিকার পার্টির (বিইপি) ১ জন দোয়াত কলম প্রতীকে ০.০০ শতাংশ ও নেজামে ইসলাম পার্টির ৩ জন বই প্রতীকে ০.০৪ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র ২৭৪ জন প্রার্থী পেয়েছেন ৫.৭৯ শতাংশ ভোট। ভোটের পর দিন গত শুক্রবার দলভিত্তিক ফল ও ভোটের হার তুলে ধরে ইসি সচিব আখতার আহমেদ বলেন, সংসদ নির্বাচনে ভোটের হার ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ (২৯৭ আসনে)। আর গণভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ ( ২৯৯ আসনে)।
এবারের নির্বাচনে ২৯৭ আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে। এরমধ্যে বিএনপি জিতেছে ২০৯ আসনে, জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। জামায়াতের ১১ দলীয় জোটের শরিকদের মধ্যে এনসিপি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি ও খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির সঙ্গে থাকা গণঅধিকার পরিষদ একটি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) একটি ও গণসংহতি আন্দোলন একটি আসনে জয় পেয়েছে।
জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে জয় পেয়েছেন। ত্রয়োদশ সংসদে সংরক্ষিত ৫০ আসনের মধ্যে বিএনপি জোট পাবে ৩৬টি, জামায়াত জোট পাবে ১৩টি, আর স্বতন্ত্ররা পাবে একটি আসন।
সময়ের আলো/এআর