বিরোধীদলের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা তাদের দাবি সংসদে আলোচনা করে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা সদরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, গাড়ি তেলে চলে, না পানিতে চলে? বিরোধী দল বলে দেশে তেল নেই; তাহলে এত বড় লংমার্চ তারা কীভাবে হাজার হাজার গাড়ি নিয়ে করছে? বিরোধী দল আন্দোলনের কোনো ইস্যু না পেয়ে লংমার্চ শুরু করেছে। তারা নিজেরাও জানে দেশে কোনো সমস্যা নেই। এসব বিভ্রান্তি না ছড়িয়ে সংসদে আসুন, সমাধানের পথ খুঁজি।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার একদিকে অর্থনীতিকে সচল করার চেষ্টা করছে, অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়ছে। এতে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নানা সংকটের মধ্যে পড়েছেন। এর সঙ্গে জ্বালানি খাতের সংকটও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, গত ১৭ বছরে জ্বালানি খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাত থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দুর্নীতির মাধ্যমে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের অনেকে তাদের নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়ে বিদেশে অবস্থান করছেন। এখন তারা সেই হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে বসে ভোগ করছে। অথচ দেশের সাধারণ মানুষকে এখন বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বিএনপির এই নেত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জ্বালানি খাতে যে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাব এখনো কাটেনি। মাঝখানে প্রায় দেড় বছর দায়িত্বে থাকা সরকারও এ সংকট সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।
বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে দেশের যেকোনো সংকট ও দুর্যোগে বিএনপি জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দলটির নেতাকর্মীরা মানুষের অধিকার রক্ষায় রাজপথে নেমেছেন। দেশের মাটি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনে বিএনপির বহু নেতাকর্মী জীবন দিয়েছেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েও তিনি দেশের উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতির ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কৃষি, শিল্প, কলকারখানা, মৎস্য, প্রবাসী আয় ও খাল খননসহ বিভিন্ন খাতে তার নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার আন্দোলন-সংগ্রামের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এরশাদ সরকারের সময়ে যখন দেশে স্বৈরশাসন জেঁকে বসেছিল, তখন খালেদা জিয়া ঘরের বাইরে এসে সাধারণ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলেন। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামকে এগিয়ে নেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, তাদের দেশের অতীতের রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাসও মনে রাখতে হবে। বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানুষের অধিকার, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিএনপির দীর্ঘদিনের ভূমিকা রয়েছে। জনগণের স্বার্থে দলটি ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবে।
সময়ের আলো/আতা