দীর্ঘ ৩৬ বছর পেরিয়েও অবহেলিত মডার্ন বক্সিং ক্লাব

মামুন হোসেন

খেলা

রাজশাহীকে বলা হয় সিটি অব বক্সিং। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমস থেকে বক্সিংয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন মোশাররফ

2026-02-16T04:00:31+00:00
2026-02-16T04:10:20+00:00
 
  সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬,
৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
খেলা
দীর্ঘ ৩৬ বছর পেরিয়েও অবহেলিত মডার্ন বক্সিং ক্লাব
মামুন হোসেন
প্রকাশ: সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০০ এএম  আপডেট: ১৬.০২.২০২৬ ৪:১০ এএম
গ্রাফিক : সময়ের আলো
রাজশাহীকে বলা হয় সিটি অব বক্সিং। ১৯৮৬ সালে সিউল এশিয়ান গেমস থেকে বক্সিংয়ে প্রথম পদক জিতে ইতিহাস সৃষ্টি করেন মোশাররফ হোসেন। জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারের ভূষিত মোশাররফের দেখানো পথে এরপর অনেক বক্সার রাজশাহীকে আলোকিত করেছেন। আর সেসব বক্সারদের আলোকবর্তিকা হিসেবে মডার্ন বক্সিং ক্লাব রেখেছে অনন্য ভূমিকা। 

দেখতে দেখতে তিন যুগে পা রেখেছে ক্লাবটি। নিজস্ব অর্থায়ন আর শফিউল আজম মাসুদের ঐকান্তিক চেষ্টার সঙ্গে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ বক্সারদের সহযোগিতায় চলছে মডার্ন ক্লাব। পৃষ্ঠপোষকতা এই ক্লাবের প্রধান সমস্যা। 

এর বাইরে আরও কিছু বিষয়ও রয়েছে। ক্লাবটির প্রধান প্রশিক্ষক শফিউল আজম মাসুদ সেসব নিয়েই কথা বলেছেন সময়ের আলো সিনিয়র রিপোর্টার মামুন হোসেনের সঙ্গে।

সময়ের আলো : রাজশাহীকে বলা হয় সিটি অব বক্সিং। এই খেতাব প্রাপ্তির পেছনে মডার্ন বক্সিং ক্লাবের অবদান অপরিসীম। আপনি মডার্ন ক্লাবের একজন দীর্ঘকালীন প্রশিক্ষক। ক্লাবটির অতীত ও বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই?

শফিউল আজম মাসুদ : আমাদের এই ক্লাব ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত। আমার শ্রদ্ধেয় ওস্তাদ আবু সুফিয়ান চিশতি বাবু স্যারের হাত ধরে। বর্তমানে বাবু ওস্তাদ খুলনা বিকেএসপির আঞ্চলিক শাখার ডিডি (ডেপুটি ডিরেক্টর) হিসেবে কর্মরত। হাঁটি হাঁটি পা পা করে একসময় রাজশাহী জেলা ক্রীড়া সংস্থার একটা অ্যাফিলিয়েটেড ক্লাব হিসেবে এটি নিবন্ধিত করেন। 

বাবু স্যার চলে যাওয়ার সময় আমাকে বলেন, ‘তুমি এই ক্লাবটাকে রানিং রাখার চেষ্টা করো।’ তিনি সবসময় আমাকে উপদেশ দেন যে এভাবে চালাও বা কোনো প্রতিবন্ধকতা এলে আমি তার শরণাপন্ন হই। আমাদের মডার্ন বক্সিং ক্লাব থেকে জাতীয় পর্যায়ে প্রতি বছরই অসংখ্য খেলোয়াড় অংশগ্রহণ করে। আর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাফল্য রেখেছে আমাদের ক্লাব থেকে এ রকম খেলোয়াড়ের সংখ্যা শতের ওপর।

সময়ের আলো : আপনি এই ক্লাবের সঙ্গে কত সাল থেকে জড়িত?

শফিউল আজম মাসুদ : আমি বর্তমানে ক্লাবের প্রধান প্রশিক্ষক এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। ১৯৯১ সালে খেলোয়াড় হিসেবে মডার্ন ক্লাবে যোগ দিই। ২০০০ সাল থেকে কোচ হিসেবে যোগ দিয়ে এখন দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি।

সময়ের আলো : মডার্ন ক্লাবের তারকা বক্সারদের নাম জানতে চাই, যারা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে দেশের জন্য সাফল্য বয়ে এনেছেন?

শফিউল আজম মাসুদ : শুরুর দিকে যার নাম আসবে তিনি ইসরাফিল, তিনি এখন সেনাবাহিনীতে একজন কমিশনপ্রাপ্ত অফিসার, তিনি ইন্টারন্যাশনাল মেডেলিস্টও। তারপর আমাদের বিশ্ব বক্সিং চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা নাদিম হোসেন, মাহমুদ আলী মিঠু, তারপরের সারিতেই চলে আসে আমাদের জনি, আলামিন, আরিফ এ রকম আরও অনেকে। আর বর্তমান প্রজন্মের আবু তালহা, রবিন, জাহিদুল, উৎসব আছে। সবাই দেশের জন্য সাফল্য বয়ে এনেছেন। বক্সিংকে আলোকিত করেছেন। আমাদের মডার্ন ক্লাবকে আলোকিত করেছেন।

সময়ের আলো : আপনার হাত ধরে তো অনেক খেলোয়াড় উঠে এসেছে। ২৬ বছর ধরে কোচের দায়িত্ব পালন করছেন। এটি কতদিন কন্টিনিউ করতে চান?

শফিউল আজম মাসুদ : আমি বক্সার হিসেবে অত বড় মাপের প্লেয়ার ছিলাম না। এ ক্ষেত্রে কিছুটা দুর্বলতা আমার রয়েছে। তবে কোচিং লাইফে যতগুলো ন্যাশনাল এবং ইন্টারন্যাশনাল কোর্স করেছি, এ রকম কোর্স করা কোচ আমার জানামতে খুব কম আছে। আমি কোনো কোর্স মিস দিইনি কখনো। কিন্তু আমার খেলোয়াড়ি জীবনে একটু ল্যাকিংস আছে। আমি যেহেতু একটা সার্ভিসেস টিমের (বাংলাদেশ আনসার) সঙ্গে সম্পৃক্ত আছি আমার এই চাকরি শেষ হয়ে গেলে কোচিং লাইফ থেকেও সরে আসব।

সময়ের আলো : আপনি এই ক্লাবে দীর্ঘদিন ধরে আছেন। একজন খেলোয়াড় থেকে কোচ হলেন। এই ক্লাব নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বা স্বপ্ন কী?

শফিউল আজম মাসুদ : আমার ভবিষ্যৎ স্বপ্ন মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এই ক্লাবের সঙ্গে থাকা। কিন্তু আমি এভাবে হয়তো একই জায়গায় জেনারেল সেক্রেটারি হিসেবে থাকব না বা সিনিয়র প্রশিক্ষক হিসেবেও নয়। কারণ পরবর্তী জেনারেশন আছে, আমি চাই তাদেরও আমার জায়গায় প্রতিস্থাপন করতে।

সময়ের আলো : ক্লাবের সভাপতি কে?

শফিউল আজম মাসুদ : আমাদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আবু সুফিয়ান চিশতি বাবু স্যার। আমাদের ক্লাবের নিয়মিত ইসি মিটিং বা যেকোনো প্রোগ্রাম হলে আমরা কমিটির মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে সেই প্রোগ্রামটা করি।

সময়ের আলো: এখন কতজন স্টুডেন্ট (ছেলেমেয়ে) আছে?

শফিউল আজম মাসুদ : এখন আমাদের রেগুলার প্র্যাকটিসে আসে প্রায় ১০০ জনের মতো ছেলেমেয়ে। খুদে থেকে প্রাপ্ত বয়সি বক্সার এখনও অনুশীলন করে। কাউকে বাসা থেকে ডেকে আনতে হয় না। তারা স্বেচ্ছায় এখানে এসে অনুশীলন করে।

সময়ের আলো : ক্লাবের ভর্তির ফি বা মাসিক বেতন আসলে কি রকম?

শফিউল আজম মাসুদ : এটি খুবই নগণ্য। বর্তমানে যেমন ভর্তি চার্জ হলো ৩০০ টাকা। খুদে বক্সারদের বেতন ৩০ টাকা আর একটু বড় হলে ৫০ টাকা।

সময়ের আলো : এই বেতনে কি ক্লাবের ব্যয় নির্বাহ হয়?

শফিউল আজম মাসুদ : মোটেই না। এটি দিয়ে তাদের যে নির্দেশিকা দিই, উপস্থিত ফরম দিই সেটিরই ব্যয় নির্বাহ করা যায় না। আর বক্সিং ইকুইপমেন্টস তো জানেন একজোড়া গ্লাভস কিনতে গেলে ৩ হাজার টাকা, টিথ গার্ড ৩০০ টাকা, ব্যান্ডেজ ৫০০ টাকা। আমাদের ৫০ শতাংশ ছেলেমেয়ে আছে যারা কিনতে পারে, বাকি ৫০ শতাংশ আছে যারা পারে না- তাদের আমরাই কিনে দিই, যেন তারা খেলা চালিয়ে যেতে পারে।

সময়ের আলো : পৃষ্ঠপোষক থাকলে নিশ্চয়ই ক্লাবটি আরও গতিশীল হতো?

শফিউল আজম মাসুদ : শুধু রাজশাহীতে নয় পুরো বাংলাদেশে বক্সিংয়ে আমাদের ক্লাব সেরা অবস্থানে আছে। পৃষ্ঠপোষকতা পেলে খেলাটা আরও অনেকদূর যেতে পারত, বক্সাররা দেশ-বিদেশ থেকে আরও অনেক সাফল্য বয়ে আনতে পারত।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   মডার্ন  বক্সিং ক্লাব 


Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: