সন্ত্রাস বিরোধী আইনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র চলছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান।
তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যালয় খুলে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও পুলিশ আইনি বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে খোমেনী ইহসান এসব অভিযোগ করেন।
বিবৃতিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক শাখা-২ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যাবতীয় কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল বা প্রচারণামূলক কাজ পরিচালনা করা দণ্ডনীয় অপরাধ।
খোমেনী ইহসান অভিযোগ করে বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে ভোট পাওয়ার স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পলাতক ও ফেরার অবস্থা থেকে প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে। নির্বাচনের পর এসব নেতাকর্মী দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রকাশ্য দিবালোকে কার্যালয়ের তালা খুলে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে। কিন্তু পুলিশ এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
পুনর্বাসনের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পেছনে মূল কারণ ছিল দলটির পক্ষ থেকে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি এবং বাংলাদেশের সংহতি ও সার্বভৌমত্ব বিপন্ন করার আশঙ্কা। এ অবস্থায় নির্বাচনে বিজয়ী দল ও পুলিশের সম্মতিতে আওয়ামী লীগের এই তৎপরতা রাজনৈতিক পুনর্বাসনেরই একটি অংশ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জুলাই গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের বিচার প্রশ্নে কোনো আপস, সমঝোতা বা মীমাংসার সুযোগ নেই। বিচার সম্পন্ন না করে ফ্যাসিবাদী এই দলকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশের জনগণ আবারও রাজপথে লড়াই করবে।
খোমেনী ইহসান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ফ্যাসিবাদকে বারবার উৎখাতের পর বারবার পুনর্বাসন করা বাংলাদেশের রাজনীতির একটি পুরনো অসুখ। জুলাই বিপ্লবের পর বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলো এই চর্চা থেকে বিরত থাকবে বলে দেশবাসী প্রত্যাশা করে।
এফআর