সাতক্ষীরায় বিএনপির ভরাডুবি

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাদেশ

এবারের নির্বাচনে সাতক্ষীরায় চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এসব আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন,

2026-02-17T03:10:00+00:00
2026-02-17T03:41:01+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সাতক্ষীরায় বিএনপির ভরাডুবি
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:১০ এএম  আপডেট: ১৭.০২.২০২৬ ৩:৪১ এএম  (ভিজিট : ১৩২)
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের বিজয়ী প্রার্থী ইজ্জত উল্লাহ, মুহাদ্দিস আবদুল খালেক, মুহা. রবিউল বাসার ও গাজী নজরুল ইসলাম। ছবি : সংগৃহীত
এবারের নির্বাচনে সাতক্ষীরায় চারটি সংসদীয় আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে। এসব আসনে জয় পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, চারটি আসনের মধ্যে দুইটি আসনে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হলেও বাকি দুইটি আসনে কার্যত প্রতিযোগিতা গড়ে তুলতে পারেনি বিএনপি। বিশেষ করে বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম ও তরুণ প্রার্থী মো. মরিুজ্জামানের পরাজয় দলটির নেতাকর্মীদের হতাশ করেছে। অন্যদিকে বড় ব্যবধানে জয় পাওয়ায় জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। 

স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বিএনপির এই ভরাডুবির পেছনে যেসব কারণ উল্লেখ করেছেন তার মধ্যে রয়েছে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও অভ্যন্তরীণ মতবিরোধ, প্রার্থী নির্বাচনে ভুল সিদ্ধান্ত ও বিদ্রোহী প্রার্থী, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে কিছু নেতাকর্মীর চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট গঠন এবং নারী ভোটারদের নিজেদের পক্ষে নিতে না পারা। এ ছাড়া রাজনৈতিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরাকে জামায়াতের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে বিবেচনার বিষয়টিও ভোটের মাঠের সমীকরণে প্রভাব ফেলেছে।

এ বিষয়ে জানার জন্য সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির একাধিক নেতার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে কথা বলেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে জামায়াত সংগঠন গোছাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে শুরু থেকেই। দলটির মধ্যে প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে কোনো রকম বিরোধ ছিল না। জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ আরও বলেন, অন্যদিকে বিএনপি প্রার্থীকে মনোনয়ন দিতে দেরি করা হয়েছে। ৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন দেওয়া শুরু হলেও ২৭ ডিসেম্বর তা চূড়ান্ত হয়। এতে অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ আরও কিছু সমস্যা মেটাতেও সময় লেগেছে। পাশাপাশি ছিল প্রার্থী নির্বাচনে সীমাবদ্ধতা। বিএনপি ব্যর্থ হলেও বিভিন্ন কৌশলে নারী ভোটারদের জামায়াত নিজেদের পক্ষে টানতে পেরেছে বলেও মন্তব্য করেছেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চার বিজয়ীর মধ্যে সাতক্ষীরা-৪ আসনের গাজী নজরুল ইসলাম ছাড়া অন্য তিনজন এবারই প্রথম প্রার্থী হয়েই জয়ের দেখা পেয়েছেন। নতুনদের মধ্যে আছেন সাতক্ষীরা-১ (কলারোয়া-তালা) আসনে মো. ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) আসনে আব্দুল খালেক এবং সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে মুহা. রবিউল বাশার।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) : এই আসনে বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ও হেভিওয়েট প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম ২৩ হাজার ৭৭৭ ভোটে পরাজিত হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ৯৯৫ ভোট। অন্যদিকে জামায়াতের প্রার্থী মো. ইজ্জত উল্লাহ পেয়েছেন ১ লাখ ৯৩ হাজার ৭৭২ ভোট। স্থানীয় ভোটারদের ধারণা ছিল, জেলার অন্য আসনে হারলেও এই আসনে জয় পাবে বিএনপি। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ এবং সংখ্যালঘু পরিবারের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাটের অভিযোগ ওঠে যার সঙ্গে বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ছিল। এসব নিয়ন্ত্রণে হাবিবুল ইসলাম পুরোপুরি সফল হননি। পাশাপাশি নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারের কার্যকর পাল্টা যুক্তি তুলে ধরতে পারেনি দলটি।

সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা) : এই আসনে ১ লাখ ৫০ হাজার ৬৬৬ ভোটের ব্যবধানে জয় পান জামায়াতের আব্দুল খালেক। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি পেয়েছেন ২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫৯ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আব্দুল রউফ পেয়েছেন ১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৩ ভোট। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের মতে, আগে থেকেই এ আসনে তাদের সাংগঠনিক দুর্বলতা ছিল। প্রার্থী হিসেবে আব্দুল রউফকে মনোনয়ন দেওয়ায় দলের ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়। আব্দুল আলিম ও তাজকিন আহমেদ মনোনয়ন দাবি করে আন্দোলনে নামেন। শেষ পর্যন্ত প্রকাশ্যে একসঙ্গে কাজ করলেও ভেতরে ভেতরে ঠিকই বিরোধ ছিল। এ ছাড়াও কুলিয়া এলাকার চিংড়ি রেণু সিন্ডিকেট নিয়েও বিতর্ক ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে মত দিয়েছেন অনেকেই।

সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) : এই আসনটিতে ৭৮ হাজার ৮৫৪ ভোটের ব্যবধানে স্বতন্ত্র (বিএনপি বিদ্রোহী) প্রার্থীকে হারিয়ে জয় পান জামায়াতের রবিউল বাশার। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ২৩৩ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী শহিদুল আলম পেয়েছেন ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৯ ভোট এবং বিএনপি প্রার্থী কাজী আলাউদ্দীন পেয়েছেন ৫৬ হাজার ৮১৯ ভোট। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহিদুল আলম দীর্ঘদিন এলাকায় সক্রিয় থাকলেও দলীয় মনোনয়ন পান কাজী আলাউদ্দীন। এতে বিএনপি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে টানা আন্দোলন হয়। শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন না বদলানোর কারণে শহিদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। পরে তার পক্ষে কাজ করার অভিযোগে বিএনপির ৬৭ জন নেতাকে দলীয় সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় কোন্দল এবং বিদ্রোহী প্রার্থীই সাতক্ষীরা-৩ (কালীগঞ্জ-আশাশুনি) আসনে বিএনপির পরাজয়ের বড় কারণ।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) : এই আসনে ২১ হাজার ৪৮৭ ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করেছেন জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৬ হাজার ৯১৩ ভোট। বিএনপির মো. মনিরুজ্জামান পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪২৬ ভোট। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, আগে থেকেই এই আসনে দলীয় কোন্দল বিরাজমান ছিল। মনিরুজ্জামানকে প্রার্থী করার কারণে দলের একটি অংশ অসন্তুষ্ট ছিল। তারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা না করলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। এ কারণে তারা নিষ্ক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন। 

এ ছাড়াও সংখ্যালঘু ভোটারদের মধ্যে বিএনপির বিরুদ্ধে গোপনে প্রচার চালানোর অভিযোগ ওঠায় তা ভোটের ময়দানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি বালু সিন্ডিকেটের প্রভাবও নির্বাচনে নেতিবাচক ভূমিকা রেখেছে বলে দাবি স্থানীয়দের। বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, নারী ভোটারদের মধ্যে জামায়াতের ধর্মীয় প্রচারের বিরুদ্ধে বিকল্প হিসেবে শক্ত কোনো যুক্তি দাঁড় করাতে পারেনি বিএনপি।  


  বিষয়:   সাতক্ষীরা  বিএনপি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: