বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হবে আজ। জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এ শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের স্পিকার ও পররাষ্ট্র সচিবসহ কাতার এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন। কূটনীতিকরা বলছেন, এ অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নতুন সরকারকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের নতুন সূচনা হবে। বিশেষ করে অতি সাম্প্রতিককালের ঘটনা প্রবাহের মধ্য দিয়ে নিজ নিজ স্বার্থ অক্ষুণ্ন রাখতে বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে নতুন সম্পর্ক সূচনার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম রোববার সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, শপথ অনুষ্ঠানে কাতারসহ সার্কভুক্ত সাতটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অতিথি তালিকা ঠিক করার ক্ষেত্রে বর্তমান উপদেষ্টা পরিষদ এবং নির্বাচিত দলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে, যাতে অনুষ্ঠানটি সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।
শপথ অনুষ্ঠানে উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিক উপস্থিতি, সার্কভুক্ত দেশগুলোর অংশগ্রহণ এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর কূটনৈতিক মনোভাব এই অনুষ্ঠানের গুরুত্ব বৃদ্ধি করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, নতুন সরকার এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন সূত্র জানায়, দেশের পক্ষ থেকে লোকসভার স্পিকার শ্রী ওম বিড়লা অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন। একই সঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রীও উপস্থিত থাকবেন। সূত্রের ভাষ্য স্পিকারের অংশগ্রহণ ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে বন্ধুত্ব এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি ভারতের অঙ্গীকারকে পুনর্ব্যক্ত করে।
পাকিস্তান দূতাবাসের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকেও একটি প্রতিনিধি দল অনুষ্ঠানে যোগ দেবে, তবে সদস্যদের নাম চূড়ান্ত হয়নি। এ ছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মাসহ সার্কভুক্ত অন্য দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, নির্বাচনের ফলাফল ও বাংলাদেশের নতুন সরকারের ঘোষণা বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন পর্যায়ে প্রবেশের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নির্বাচনের পর সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক পরিচালিত হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরানোর প্রসঙ্গে তিনি যোগ করেন, এটি আইনি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী উল্লেখ করেন, ভবিষ্যতের নীতি পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বার্থ এবং হস্তক্ষেপ না করার নীতির ওপর ভিত্তি করবে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকার ভারতের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করতে আগ্রহী। নির্বাচনের পর বাংলাদেশের ভাবি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারসাম্যপূর্ণ বক্তব্য এবং বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে সমন্বয়সূচক উদ্যোগ নতুন সম্পর্কের সূচক। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সরকার এবং আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের নতুন অধ্যায় শুরু হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকার কূটনীতিকরা বলছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নতুন দিক পেয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল এবং নবনির্বাচিত সরকারের উদার ও সংযমী অবস্থান উভয় দেশের মধ্যে বাস্তবভিত্তিক সংলাপের সুযোগ তৈরি করেছে। এ প্রেক্ষাপটে ভারতও কার্যকরভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিচ্ছে।
লন্ডনের সোয়াস ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক অবিনাশ পালিওয়াল মন্তব্য করেছেন, বিএনপি মধ্যপন্থি এবং অভিজ্ঞ, যা ভারতের জন্য নিরাপদ বাজি। তবে তারেক রহমান কীভাবে দেশ পরিচালনা করবেন, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।
‘ইনস্টিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসেস’-এর স্মৃতি পট্টনায়েক বলেন, বিএনপিকে মানতে হবে যে, হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনা কম। বিরোধী দলগুলো এ ইস্যুতে চাপ প্রয়োগ করতে পারে।
সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান মন্তব্য করেছেন, নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের অংশগ্রহণ নিছক সৌজন্য নয়, এটি আগের সম্পর্ক উন্নয়নের ধারাবাহিকতা।
ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে ভারতের এগিয়ে আসা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, নতুন সরকারের আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মনোভাব এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর অংশগ্রহণ একটি ইতিবাচক সূচনা। তারা আশা প্রকাশ করছেন, দুই দেশের স্থিতিশীল ও সমন্বিত সম্পর্কের জন্য এটি একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।