প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ ছিল একটাই

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরের ‘ফ্লারিশ স্টে’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ভবনের মারাত্মক নকশাগত

2026-06-03T21:13:43+00:00
2026-06-03T21:13:43+00:00
 
  মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬,
৪ কার্তিক ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
দিল্লির হোটেলে অগ্নিকাণ্ড
প্রবেশ ও প্রস্থানের পথ ছিল একটাই
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ৯:১৩ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগরের ‘ফ্লারিশ স্টে’ নামক একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ২১ জনের প্রাণহানির ঘটনায় ভবনের মারাত্মক নকশাগত ত্রুটি ও নিয়ম লঙ্ঘনের চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। দেশটির দমকল বাহিনী প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বহুতল ওই হোটেল ভবনটিতে যাতায়াতের জন্য কেবল একটিমাত্র প্রবেশ ও প্রস্থান পথ ছিল, যা আগুন লাগার পর সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় ভবনটি একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়। খবর এনডিটিভির

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মুনাফা বাড়াতে হোটেল মালিকপক্ষ নিয়মনীতি ও নিরাপত্তা বিধি সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে অবৈধভাবে কক্ষ সংখ্যা বাড়িয়েছিল। ২০১০ সালের দিল্লি কমনওয়েলথ গেমসের আগে তৎকালীন সরকারের চালু করা ‘হোমস্টে’ বা ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ স্কিমের সুযোগ নিয়ে এই অবৈধ ব্যবসা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, সর্বোচ্চ ৫টি কক্ষ ও ১০টি বেড ভাড়া দেওয়ার অনুমতি থাকলেও, পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রীক পর্যটন (মেডিকেল ট্যুরিজম) বৃদ্ধির সুযোগে এই হোমস্টেগুলো রাতারাতি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক হোটেলে রূপ নেয়। মালভিয়া নগরের ঘিঞ্জি এলাকায় অবস্থিত এই ফ্লারিশ স্টে হোটেলটিতে অনুমতি ছাড়াই অতিরিক্ত তলা নির্মাণ করে ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করা হচ্ছিল। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, হোটেলের মালিক লভকেশ বাজাজ এই এলাকায় এমন তিনটি হোটেল চালাচ্ছিলেন, যার কোনোটিতেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।

বুধবার (৩ জুন) সকালে হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হলে তা মুহূর্তের মধ্যে পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে। একমাত্র পথটি আগুনে অবরুদ্ধ হয়ে যাওয়ায় ভেতরে থাকা অন্তত ৪০ জন অতিথি আটকা পড়েন। জীবন বাঁচাতে অনেক অতিথি জানালা দিয়ে নিচে লাফিয়ে পড়েন, যার ফলে অনেকের হাত-পা ভেঙে যায়। নিচে থাকা স্থানীয় বাসিন্দারা উপর থেকে লাফিয়ে পড়া মানুষদের বাঁচাতে রাস্তায় তোশক বিছিয়ে দিয়েছিলেন।

দমকল বাহিনী জানায়, ১৫ মিটারের বেশি উচ্চতার এই ভবনটির কোনো বৈধ ফায়ার এনওসি (অনাপত্তি সনদ) ছিল না। ট্রেড লাইসেন্সের আবেদনের সময় ভবনের সম্পূর্ণ নকশাও কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়নি। উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া কর্মীরা জানান, হোটেলের বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ তলায় অত্যন্ত সংকীর্ণ পরিবেশে অবৈধভাবে আরও ৪টি কক্ষ তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে বিদেশি নাগরিকরা অবস্থান করছিলেন। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার আগেই জানালাবিহীন সেই বেজমেন্টে বিষাক্ত ধোঁয়ায় দম আটকে বেশ কয়েকজন বিদেশি চিকিৎসাপর্যটক মারা যান।

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা জানিয়েছেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে সব ধরনের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে এবং এই সংকটের মুহূর্তে দিল্লি সরকার ভুক্তভোগীদের পাশে রয়েছে বলে তিনি আশ্বাস দেন। ঘটনার পর থেকে হোটেলের মালিক পলাতক রয়েছেন এবং পুলিশ এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।


/কহু
  বিষয়:   দিল্লি  হোটেল  অগ্নিকাণ্ড 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: