গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত এএফসি উইমেনস চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপাজয়ী ঘরোয়া ক্লাব ‘নায়েগোহিয়াং উইমেনস এফসি’র খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের স্বাগত ও অভিনন্দন জানিয়েছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির সেন্ট্রাল ক্যাডার ট্রেনিং স্কুলের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে তিনি এই নারী ফুটবল দলটির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসেবে উত্তর কোরিয়ার অনূর্ধ্ব-১৭ নারী জাতীয় দল এবং চ্যাম্পিয়ন ক্লাব নায়েগোহিয়াংয়ের মধ্যে একটি প্রীতি ম্যাচ আয়োজন করা হয়। কিম জং উন গ্যালারিতে বসে এই প্রদর্শনী ম্যাচটি উপভোগ করেন। ম্যাচ শুরুর আগে তিনি দুই দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক সাফল্যে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় তাদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এ সময় কিম জং উন আশা প্রকাশ করেন, নারী ফুটবলাররা ভবিষ্যতেও এই সাফল্যের ধারা বজায় রাখবে এবং প্রতিটি নতুন ট্রফিকে দেশের প্রতি ‘দেশপ্রেমের অনন্য নজির’ হিসেবে তুলে ধরবে। ম্যাচ শেষে প্রকাশিত ভিডিও চিত্রে কিমকে খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন এবং গ্রুপ ছবি তুলতে দেখা গেছে।
নায়েগোহিয়াং ফুটবল ক্লাবের এই দক্ষিণ কোরিয়া সফরটি নানা কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ২০১৮ সালের পর এই প্রথম উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্রীড়া দল দক্ষিণ কোরিয়া সফরে গেল। দুই দেশের বৈরী সম্পর্কের বরফ গলাতে এই সফর ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দক্ষিণ কোরিয়ার সুওন শহরে অনুষ্ঠিত এই টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে স্বাগতিক সুওন এফসি-কে ২-১ ব্যবধানে হারানোর পর, গত ২৩ মে ফাইনালে জাপানের শক্তিশালী ক্লাব টোকিও ভার্ডি বেলেজাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে উত্তর কোরিয়ার এই ক্লাবটি।
তবে এই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) মার্কিন ডলারের প্রাইজমানি বা পুরস্কারের অর্থ নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘের কঠোর অর্থনৈতিক ও সামরিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকায়, এই বিশাল অঙ্কের অর্থ আন্তর্জাতিক ব্যাংক থেকে উত্তর কোরিয়ায় স্থানান্তর করা আইনিভাবে সম্ভব কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
এদিকে টুর্নামেন্ট শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক দক্ষিণ কোরীয় সাংবাদিক উত্তর কোরিয়াকে সম্বোধন করতে গিয়ে ‘উত্তর’ বা ‘উত্তর পক্ষ’ শব্দবন্ধ ব্যবহার করায় নায়েগোহিয়াং দলের প্রধান কোচ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে চলে যান। এছাড়া উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার খবরটি বেশ বড় করে প্রচার করা হলেও, ফাইনাল ম্যাচটি যে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দক্ষিণ কোরিয়ার মাটিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে, সেই তথ্যটি সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছে।
/কহু