এখন থেকে শ্রীলঙ্কার কোনো সাবেক এমপি কিংবা প্রয়াত এমপিদের স্ত্রী আর পেনশন পাবেন না। এমপিদের পেনশন বা অবসরকালীন ভাতা বাতিলের এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে শ্রীলঙ্কা সরকার। গতকাল মঙ্গলবার এ ঘোষণা দিয়েছেন শ্রীলঙ্কার বিচার বিষয়ক মন্ত্রী হরসানা নানায়াক্কারা।
শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি বলেছেন, ‘জনগণ যখন টেলিভিশনে পার্লামেন্টে এমপিদের বিতর্ক এবং বক্তব্য দেখে, তখন তারা মনে করে যে এমপিরা পেনশন পাওয়ার জন্য উপযুক্ত নন।’
করোনা মহামারি এবং বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ তলানিতে ঠেকে যাওয়ায় ২০২১ সাল থেকে টালমাটাল অবস্থায় আছে দেশটির অর্থনীতি। এখনও দেশটির অর্থনীতি পুরোপুরি মহামারিপূর্ব অবস্থায় ফিরে যেতে পারেনি।
এই পরিস্থিতিতে আমূল অর্থনৈতিক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন বামপন্থি রাজনীতিক অনুরা কুমারা দিশানায়েকে। প্রেসিডেন্টের দায়িত্বভার গ্রহণের পর একে একে এমপিদের আবাসন, যানবাহন এবং দেহরক্ষীগত সুবিধা বাতিল করেন তিনি। এবার বাতিল হলো পেনশন।
এদিকে, পার্লামেন্টে এমপিদের পেনশন বাতিল সংক্রান্ত বিলটি উত্থাপনের পর সেটি পাস হয়েছে বলে জানা গেছে। শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের মোট আসনসংখ্যা ২২৫টি। গতকাল পার্লামেন্টে বিলটি ভোটের জন্য উত্থাপনের পর ১৫৪ জন সেটির পক্ষে ভোট দিয়েছেন।
গতকাল পার্লামেন্টে যখন বিলটি তোলা হয়, তখন সেটির বিরোধিতা করেছিলেন শ্রীলঙ্কার বিরোধীদলীয় নেতা সাজিথ প্রেমাদাসা।
এ বিষয়ে পার্লামেন্টের বক্তৃতায় তিনি বলেছেন, ‘এই বিল আসলে আইনপ্রণেতাদের দুর্নীতি করার বৈধতাপত্র। পেনশন আইনপ্রণেতাদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। যদি এটি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে তারা দ্বিধাহীনভাবে দুর্নীতি করা শুরু করবেন।’
সময়ের আলো/এনএ