‘মুসলিম হটাও’ দাবি জানানো অনুষ্ঠানে মোদি সরকারের ৬৩ লাখ রুপি সহায়তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

'মুসলিম হটাও' আহ্বান জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্য ও দাবি তোলার অভিযোগ উঠেছে।ভারতীয়

2026-02-20T15:34:06+00:00
2026-02-20T15:34:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘মুসলিম হটাও’ দাবি জানানো অনুষ্ঠানে মোদি সরকারের ৬৩ লাখ রুপি সহায়তা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৩৪ পিএম 
ইলাস্ট্রেশন : দ্য কুইন্ট
'মুসলিম হটাও' আহ্বান জানিয়ে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের আর্থিক সহায়তায় আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে মুসলিমবিদ্বেষী নানা বক্তব্য ও দাবি তোলার অভিযোগ উঠেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম 'দ্য কুইন্ট'-এর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ওই আয়োজনের জন্য মোদি সরকার ৬৩ লাখ রুপি দিয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৩ ও ১৪ ডিসেম্বর দিল্লির ভারত মণ্ডপম-এ সনাতন সংস্থা থেকে 'সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব' শীর্ষক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে ‘২৫ শতাংশ ভারতীয় মুসলিমকে দেশ থেকে বের করে দিন’, ‘ভারতকে হিন্দু রাষ্ট্র বানান’, 'গণধর্মান্তর' এবং মুসলিমদের 'গণবহিষ্কার'-এর মতো বিতর্কিত দাবি তোলা হয়।

অনুষ্ঠানটি নিয়ে আগেও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ভারতীয় এ সংবাদমাধ্যম। আয়োজনে বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য দেওয়া হয়েছে এবং ভারতের কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও দিল্লির পর্যটন মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানে সমর্থন দিয়েছে বলে তাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। 

ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত, শ্রীপাদ নায়েক ও সঞ্জয় শেঠ ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এছাড়াও দিল্লি রাজ্য সরকারের পর্যটনমন্ত্রী কপিল মিশ্র এ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

পরবর্তীতে তথ্য অধিকার আইন-এর আওতায় সংশ্লিষ্ট দুই মন্ত্রণালয়ের কাছে দ্য কুইন্ট এ অনুষ্ঠানের জন্য কোনো তহবিল দিয়েছে কি না জানতে চাইলে এর জবাবে কেন্দ্রীয় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় জানায়, এ বিষয়ে জানানো যাচ্ছে যে, ভারত সরকারের সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় সনাতন সংস্থাকে ৬৩ লাখ রুপির আর্থিক সহায়তা অনুমোদন করেছে। এই অর্থ গোয়ার সনাতন আশ্রমের ঠিকানায় দেওয়া হয়েছে। 'বন্দে মাতরম' গানটির ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে দিল্লির ভারত মণ্ডপমে ১৩–১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত 'সনাতন রাষ্ট্র শঙ্খনাদ মহোৎসব' আয়োজনের জন্য এই সহায়তা দেওয়া হয়। ব্যয়ের খাতভিত্তিক হিসাব সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের কাছে নেই। তবে দিল্লির পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।

অনুষ্ঠানে দেওয়া কিছু বক্তব্য ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 


এ অনুষ্ঠানে সুদর্শন টিভি-এর প্রধান সুরেশ চভনকি বলেন, বর্তমানে ভারতের ২৫ শতাংশ মুসলিম অনুপ্রবেশকারী। তারা বাংলাদেশি, পাকিস্তানি, আফগানি। এনআরসি আনুন এবং তাদের ভারত থেকে বের করে দিন। মুসলিম জনসংখ্যার লাগাম টানা দরকার। 

একইসঙ্গে, বিজেপি নেতা অশ্বিনী উপাধ্যায় প্রশ্ন তোলেন, সরকারের ভয়ে কি মুসলিমদের হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করা যায় না? 

তিনি জানান, প্রতিটি হিন্দু যদি একজনকে ধর্মান্তরিত করে, তবে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব। এর পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন। তারা সহজেই তাদের কর্মচারীদের ধর্মান্তরিত করতে পারেন। 

অনুষ্ঠানে হিন্দু ফান্ড-এর প্রতিনিধি রাহুল দেওয়ান বলেন, আমাদের আক্রমণাত্মক কৌশল দরকার, আমাদের সাংবিধানিক হিন্দু রাষ্ট্র দরকার। তারা যদি লাড্ডুতে অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মিশিয়ে দেয়, তবে লাখ লাখ হিন্দু মারা যাবে বলেও এসময় মন্তব্য করেন তিনি। 

অনুষ্ঠান ও এ ধরনের বক্তব্য নিয়ে ভারতে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। 

তবে রাষ্ট্রীয় সহায়তায় আয়োজিত কোনো কর্মসূচিতে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে মন্তব্য করছেন সমালোচকরা। 


/ইউএমএইচ


  বিষয়:   ভারত  মোদি সরকার  দ্য কুইন্ট 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: