বাংলার সুবাদার ও মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় ছেলে শাহজাদা সুজার সঙ্গী হিসেবে এসে বর্তমান ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভারুকাঠি গ্রামে বসতি গড়েন শেখ আব্দুল মজিদ। সেখানেই তিনি নির্মাণ করেন তিন গম্বুজবিশিষ্ট একটি পাকা মসজিদ, যা আজ ভারুকাঠি মিঞাবাড়ি জামে মসজিদ নামে পরিচিত।
ঝালকাঠি সদরের গাভারাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভারুকাঠি গ্রামের এই মসজিদটি সুপ্রাচীন স্থাপত্যশৈলীর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। ধারণা করা হয়, এটি প্রায় ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত। সদর উপজেলা পরিষদ থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি এখনো অতীতের গৌরব বহন করে দাঁড়িয়ে আছে।
মসজিদজুড়ে রয়েছে সূক্ষ্ম কারুকাজ। মূল ভবনে তিনটি দরজা এবং চারপাশে পিলারের ওপর ছোট-বড় পাঁচটি মিনার নির্মিত হয়েছে। মিনারগুলোতেও নকশার ছাপ স্পষ্ট। মাঝখানে বড় তিনটি গম্বুজ রয়েছে, যার মধ্যে কেন্দ্রের গম্বুজটি সবচেয়ে বড়। গম্বুজের ভেতরের অংশেও কারুকার্যময় নকশা দেখা যায়। মসজিদের দেয়াল প্রায় ৪২ ইঞ্চি পুরু, যা এর দৃঢ় নির্মাণশৈলীর প্রমাণ।
মসজিদ নির্মাণের ইতিহাস নিয়ে জনশ্রুতি রয়েছে যে, বৃহত্তর বরিশাল অঞ্চলে ব্রিটিশ শাসনের সূচনালগ্নে এই মসজিদ নির্মিত হয়। ইংরেজ শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত শাহজাদা সুজার নামও স্থানীয়ভাবে এ নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে। মসজিদের পূর্ব পাশে কয়েক একরজুড়ে একটি বিশাল দিঘি রয়েছে, যা মসজিদের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি প্রাচীন স্থাপত্যশিল্পের পাশাপাশি সে সময়কার মানুষের রুচিবোধেরও পরিচয় বহন করে।
স্থানীয় প্রবীণ নেছার উদ্দিন আহমেদ জাহাঙ্গির মিয়া (৮৫) জানান, সঠিক সময় জানা না গেলেও প্রায় পাঁচশ বছর আগে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। মসজিদ ও দিঘি একই সময়ে নির্মিত।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় গোলাম মহিউদ্দিন নামের এক ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পর মসজিদসংলগ্ন কবরস্থানগুলো সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন।
এই মসজিদ ঘিরে নানা ঐতিহাসিক স্মৃতিও রয়েছে। অবিভক্ত বাংলার প্রখ্যাত নেতা এ কে ফজলুল হক এবং পাকিস্তান আমলের মন্ত্রী খান বাহাদুর আফজালের স্মৃতিও এ মসজিদ ও ঘাটলাকে ঘিরে জড়িয়ে আছে বলে স্থানীয়রা জানান।
শত স্মৃতিবিজড়িত এই মসজিদে যেতে চাইলে ঝালকাঠি কলেজ মোড় থেকে বাসে নবগ্রাম যেতে হবে। সেখান থেকে টেম্পুতে গুদিগাটায় নেমে ভেতরের দিকে একটু বামে গেলেই দেখা মিলবে ভারুকাঠি মিঞাবাড়ির তিন গম্বুজবিশিষ্ট এই ঐতিহাসিক জামে মসজিদ।
সময়ের আলো/আরবিএন