১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের প্রথম শহিদ রফিক উদ্দিন আহমেদের জন্মভূমি মানিকগঞ্জের সিংগাইরে এ বছর মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে অনেকটাই দায়সারাভাবে। প্রতিবছরের চিরচেনা উৎসবমুখর পরিবেশের পরিবর্তে এবার ছিল সুনসান নীরবতা।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক আয়োজনের অনুপস্থিতিতে ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে শহিদ রফিকের জন্মভিটা রফিক নগর (পারিল) গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরো এলাকাজুড়ে ছিল নীরবতা। উল্লেখযোগ্য জনসমাগম বা দর্শনার্থীদের ভিড় চোখে পড়েনি। রফিক নগরে নির্মিত দুটি তোরণেই ব্যবহার করা হয়েছে গত বছরের পুরোনো ও বিবর্ণ ব্যানার-ফেস্টুন। শহিদ মিনারের বেদিতে ছিল না শ্রদ্ধাঞ্জলির কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন। এমনকি কিছু দর্শনার্থীকে জুতা পায়ে শহিদ বেদিতে উঠে ছবি তুলতেও দেখা গেছে, যা উপস্থিত সচেতন মহলের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
শহিদ রফিক উদ্দিনের ভাতিজি খালেদা খানম জানান, পবিত্র রমজান মাসের কারণে রাষ্ট্রীয় বা পারিবারিকভাবে বড় পরিসরে কোনো কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। তবে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সেখানে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত বছরগুলোতে দিবসটি উপলক্ষে পাঁচ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালা ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হতো। সে সময় দূরদূরান্ত থেকে হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর থাকত গোটা এলাকা। এ বছর আয়োজন না থাকায় লোকসমাগমও ছিল খুবই কম।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, দিবসটিকে কেন্দ্র করে এমন সীমিত ও দায়সারা কর্মসূচি অতীতে দেখা যায়নি।
শহিদ রফিকের ছোট ভাই খোরশেদ আলম জানান, প্রতিবছর পারিবারিক অর্থায়নে বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। কিন্তু এ বছর রমজানের কারণে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়নি।
এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, শহিদ রফিক উদ্দিন আহমেদের বাড়িকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত কোনো কর্মসূচি নেই। পরিবারই সাধারণত অনুষ্ঠান আয়োজন করে থাকে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্বল্প পরিমাণ অনুদান দেওয়া হয়, যা বড় আয়োজনের জন্য যথেষ্ট নয়।
পুরোনো ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহারের বিষয়ে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট পরিবারই ভালো বলতে পারবেন।
উল্লেখ্য, বিশ্বের প্রায় ১৮৮টি দেশ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করে। সে প্রেক্ষাপটে ভাষা শহিদের জন্মভূমিতে সীমিত আয়োজন অনেকের কাছেই হতাশাজনক বলে মনে হয়েছে।
অপরদিকে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে অবস্থিত শহিদ মিনারে উপজেলা প্রশাসন, থানা পুলিশ, রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে বিনম্র শ্রদ্ধা জানান।
এফআর