বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আলটিমেটাম দিয়ে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দাবি মানা না হলে ২৮ মার্চ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। ওই কর্মসূচির অংশ হিসেবে স্মারকলিপি দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কার্যক্রমও অনুষ্ঠিত হবে।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনের সদস্য সচিব মো. মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ২০১৫ সালে দেওয়া অষ্টম পে-স্কেলে ১১-২০ গ্রেডের কর্মচারীরা বৈষম্যের মধ্যে পড়ে। এরপর থেকে পে-স্কেলের বৈষম্য নিরসনের জন্য বিভিন্ন শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করা হলেও কোনো তৎকালীন সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। উল্টো ১৯৯১ ও ২০০৫ সালে বিএনপির সরকার সুন্দরভাবে দুটি পে-স্কেল প্রদান করেছিল।
সংগঠনটি জানায়, বিগত ১১ বছর ধরে কর্মচারীরা পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত। দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির ফলে ৬ সদস্যের পরিবারের জীবনযাত্রার ব্যয়ভার বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ২০১৯ সাল থেকে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আবেদন ও বিভিন্ন কর্মসূচি চলমান রয়েছে।
মাহমুদুল হাসান ও মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৫ সালে ৮ম পে-কমিশন গঠন করা হয়েছে, যার রিপোর্ট ইতোমধ্যে সরকারের কাছে প্রদান করা হয়েছে। তবে পূর্ববর্তী সরকার তা বাস্তবায়ন করেনি। তাই বর্তমান সরকারের কাছে ১১ বছরের অপেক্ষার পর বৈষম্যহীন ৯ম পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
সংগঠনের ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে-
২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চ: জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের স্মারকলিপি প্রদান করবেন। একই সময়ে কেন্দ্রীয় নেতারা মন্ত্রী পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করবেন। রমজান মাসব্যাপী বিভাগীয় শহরগুলোতে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে প্রতিনিধি সমাবেশ ও সাংগঠনিক কর্মসূচি চলবে।
সংগঠন সতর্ক করে জানিয়েছে, ১৫ মার্চের মধ্যে সরকার দৃশ্যমান উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ২৮ মার্চ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও