পাইকারি-খুচরা বাজারে বিস্তর ফারাক

আদিল সরকার

জাতীয়

রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে লেগেছে আগুন, যাতে এখনও পড়েনি পানির ছিটা। শক্ত সিন্ডিকেট থেকে বের হতে পারছেন না ভোক্তারা। কোনোভাবেই যেন

2026-02-22T02:35:56+00:00
2026-02-22T02:35:56+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
পাইকারি-খুচরা বাজারে বিস্তর ফারাক
আদিল সরকার
প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
রমজানে নিত্যপণ্যের বাজারে লেগেছে আগুন, যাতে এখনও পড়েনি পানির ছিটা। শক্ত সিন্ডিকেট থেকে বের হতে পারছেন না ভোক্তারা। কোনোভাবেই যেন লাগাম টানা যাচ্ছে না বাজারের। এবার সিন্ডিকেটের পর্দায় ধরা পড়ছে ভিন্ন চিত্র। পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামে দেখা গেছে বিস্তর ফারাক। একই বাজারে মাত্র এক হাত ঘুরেই বদলে যাচ্ছে লেবু, শসা ও বেগুনসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। যা এক ডিজিটের সীমা ছাড়িয়ে প্রায় ৩০-৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। 

অন্যদিকে, পাইকারি বাজার থেকে কম দামে কিনে একই বাজারে খুচরায় বিক্রিতে এই লাগামহীন দামের বিষয়ে জানতে চাইলে তেমন কোনো সদুত্তর মেলেনি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে। এ ছাড়া বাজারের একেক কর্নারে বিভিন্ন দামে একই পণ্য বিক্রির চিত্র দেখা গেছে। দামের এমন পরিস্থিতিতে হাঁপিয়ে উঠছেন ক্রেতারা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের পাইকারি ও খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়। 

সরেজমিন দেখা যায়, রাজধানীর অন্যতম বড় বাজার কারওয়ান বাজারে খুচরা ব্যবসায়ীদের পাশে রয়েছে পাইকারি বাজারও। যেখানে সারা দেশ থেকে পণ্য আসে। তারপর তা একই বাজারের খুচরা ব্যবসায়ীরা কিনে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন। একইসঙ্গে সেখান থেকে পণ্য কিনে নিয়ে অন্য বাজারসহ অলিগলিতে ভ্যানে করে বিক্রি করে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া আশপাশের এলাকা থেকে কম দামে পণ্য কিনতে কারওয়ান বাজারে ভিড় জমান ক্রেতারা। তবে সে বাজারেই এখন চলছে চড়া দাম। এরপরেও প্রয়োজনের তাগিদে অল্প করে হলেও পণ্য কেনেন ক্রেতারা। 


রোজা উপলক্ষে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দাম রয়েছে শসা, লেবু ও বেগুনের। এ ছাড়া অন্য পণ্যেও রয়েছে বাড়তি দাম। শনিবার কারওয়ান বাজারের পাইকারি বাজারে ভালো মানের শসা প্রতি পাল্লায় (৫ কেজি) বিক্রি হয়েছে ৪০০ টাকা করে। এ ছাড়া বস্তাপ্রতি বিক্রি হয়েছে ২৮০০ থেকে ৩০০০ টাকায়। যেখানে প্রতি কেজি শসা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় কিনছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই শসাই খুচরা বাজারে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকায়। একই বাজারে কেবল এক হাত বদলেই বেড়ে গেছে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত। এ ছাড়া পাইকারিতে মাঝারি সাইজের লেবু বিক্রি হয়েছে ৪০ টাকায়। তবে সবচেয়ে বড় লেবু হালিপ্রতি বিক্রি হয়েছে ৮০ টাকায়। এ ছাড়া সাইজ অনুযায়ী ভালো মানের লেবু ৬০ থেকে ৭০ টাকায়ও বিক্রি হয়েছে। তবে সেই লেবু পাশের খুচরা বাজারে ৩০ থেকে ৪০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করেন ব্যবসায়ীরা। যেখানে বড় লেবুর হালি ১২০ টাকা হাঁকানো হয়। 

এ ছাড়া বেগুন পাঁচ কেজি করে পাল্লায় বিক্রি হয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়, যা খুচরা বাজারে এসে প্রতি কেজি হয়ে যায় ১০০ টাকা। ফলে কেজিপ্রতি প্রায় ৪০ টাকা বেশি গুনতে হয়েছে ক্রেতাদের। একই সঙ্গে পাইকারি বাজারে কেজিপ্রতি ৪০-৫০ টাকার টমেটো খুচরা বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকায়। কাঁচামরিচ ১০ থেকে ২০ টাকা কেজিপ্রতি পার্থক্য রয়েছে দুই বাজারে। এ ছাড়া পেঁয়াজে ২০ টাকা, আলুতে ৫-৭ টাকা কেজিপ্রতি বেশি বিক্রি করা হচ্ছে খুচরা বাজারে। তবে পাইকারি বাজারের সঙ্গে খুচরা বাজারের দামে এত বেশি পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে সঠিক কোনো উত্তর দিতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। কোনো দোকানিই এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি। 

শুধু এই দুই হাতই নয় বড় ব্যবধানে দাম বাড়ে ব্যাপারিদের হাতেও। কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য কিনে তা পাইকারি বিক্রেতা পর্যন্ত পৌঁছাতে বড় একটি অংশ পকেটে তুলে নেন ব্যাপারিরা। যার ফলে সাধারণের নাগালের বাইরে চলে যায় এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। 

পাইকারি ব্যবসায়ী মামুন হোসেন সময়ের আলোকে বলেন, আমরা সবসময়ই অল্প লাভে খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে ছেড়ে দিই। তারা যদি লাগামহীন দামে বিক্রি করে তা হলে আর আমাদের কিছু করার থাকে না। এ ছাড়া বর্তমানে সবচেয়ে বেশি লাভ করছেন ব্যাপারিরা। যা সব ক্রেতার ধারণারও বাইরে। আর খুচরা ব্যবসায়ীরা কাস্টমার বুঝে পকেট কেটে নেন। টাকাওয়ালাদের স্যার-ম্যাডাম বলে একটা দাম চাইলেই দিয়ে দেয়। ফলে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন মধ্যবিত্তরা। 

জাহাঙ্গীর আলম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, বাজারে সরবরাহ ভালো আছে। আমদানি বুঝেই দাম ধরা হয়। তবে কয়েক হাত ঘুরে আর খুচরা ব্যবসায়ীদের বেশি লাভের আশায় পণ্যের দাম বেড়ে যায়। 

আরেক ব্যবসায়ী বলেন, তিন দিনের ব্যবধানে শসার বস্তায় হাজার টাকার মতো বেড়েছে। রোজার শুরুর দিন শসা বস্তাপ্রতি প্রায় ২৪০০ থেকে ২৫০০ টাকায় কেনা হয়েছে। সেই হিসেবে প্রতি কেজির দাম পড়েছিল ৬০ টাকা। তখনও এখনকার দামে বিক্রি করেছিলাম। কিন্তু খুচরা বাজারে তখনও কেজিপ্রতি বাড়িয়ে প্রায় ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। আসলে রমজানে প্রথম দিন উপলক্ষে তারা বেশি টাকায় বিক্রি করেছে। কাস্টমারদের চাহিদা থাকায় তারা এই সুযোগ নিয়েছে। তবে পণ্যের এই দামে লাগাম টানতে কাজ করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে তদারকির সন্তুষ্টি নিয়ে যেন প্রশ্নের শেষ নেই। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভোক্তা অধিদফতরের উপপরিচালক বিকাশ চন্দ্র সময়ের আলোকে বলেন, পাইকারিদের কাছ কিনে খুচরা ব্যবসায়ীরা অনেক বেশি দামে ক্রেতাদের কাছে বিক্রির বিষয়ে অনেকবার রিপোর্ট করা হয়েছে এবং এ নিয়ে অনেক কাজ করা হয়েছে; কিন্তু তার সমাধান করা যায়নি। কারওয়ান বাজারে অনেক সিন্ডিকেট আছে। ওখানকার দাম ওই সিন্ডিকেটই ঠিক করে। তিনি আরও বলেন, ব্যাপারিরা কৃষকদের কাছ থেকে কত টাকা করে কিনছেন সেটির কোনো রসিদ নেই এবং সেই ব্যাপারিরা আড়তদারদের কত দামে দিচ্ছেন সেটিরও কোনো ডকুমেন্ট থাকে না। ফলে আমরা রাতে অভিযান চালিয়েও তাদের ধরতে পারিনি। সব মিলিয়ে কয়েক হাত ঘুরে দামের চাপটা ক্রেতাদের ঘাড়ে এসে পড়ে। 

সময়ের আলো/এনএ 


  বিষয়:   পাইকারি  খুচরা  বাজার  বিস্তর ফারাক 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: