মন্ত্রী-এমপির স্ত্রীরা কোটায় যেতে মরিয়া

সাব্বির আহমেদ

জাতীয়

সংরক্ষিত কোটায় ত্রয়োদশ সংসদে যেতে চান রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন ও টকশো’তে বিএনপির জন্য লড়াই করা নেত্রীরা। এরই মধ্যে যারা সংসদ

2026-02-23T03:07:08+00:00
2026-02-23T03:07:08+00:00
 
  শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬,
৩১ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
মন্ত্রী-এমপির স্ত্রীরা কোটায় যেতে মরিয়া
সাব্বির আহমেদ
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:০৭ এএম 
সংগৃহীত ছবি
সংরক্ষিত কোটায় ত্রয়োদশ সংসদে যেতে চান রাজপথে দীর্ঘ আন্দোলন ও টকশো’তে বিএনপির জন্য লড়াই করা নেত্রীরা। এরই মধ্যে যারা সংসদ নির্বাচনে হেরেছেন এমনকি যারা মনোনয়নই পাননি তারাও কোটায় সংসদে যেতে মরিয়া। ইতিমধ্যে সম্ভাব্য নারী প্রার্থীরা বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে তদবির করছেন। 

দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের প্রভাবশালী গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের সঙ্গে দেখা করছেন। তাদের কাছে নানাভাবে তদবির ও দৌড়ঝাঁপ করছেন। দলীয় হাইকমান্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে রোজই গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে নেত্রীদের উপস্থিতি বাড়ছে। বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বেশ কয়েকজন নারীও সংসদে যেতে আছেন আলোচনায়।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২০৯টি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বিএনপি। মার্চের মাঝামাঝিতে বসতে পারে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। অধিবেশন শুরু হলে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করে ইসিতে পাঠাবে। এরপর তফসিল ঘোষণা করা হবে।

ইসি থেকে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসন ৫০টি। প্রতি ছয়জন সাধারণ সদস্যের বিপরীতে একটি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন হবে। কোনো কারণে বণ্টন করা আসন সংখ্যা মোট আসনের চেয়ে বেড়ে গেলে ভগ্নাংশের হিসাবে হেরফের হতে পারে। আইনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে লটারির বিধানও রয়েছে।

বিএনপি এককভাবে আসন অনুপাতে সংরক্ষিত ৫০টি নারী আসনের মধ্যে পাবে ৩৫টি। এ ছাড়া জামায়াতে ইসলামী ১১টি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ১টি আসন পাবে। অন্য ৩টি আসন স্বতন্ত্র প্রার্থী ও নিজস্ব প্রতীকে জয়ী ছোট দলগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। দলগুলো হলো খেলাফত মজলিস, গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি), গণঅধিকার পরিষদ ও খেলাফত মজলিস।

বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা বলছেন, অনেক ত্যাগী নারী নেত্রী এবারের সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাননি। সংরক্ষিত মহিলা আসনে এবার তারা আশাবাদী। ময়মনসিংহ অঞ্চলের একজন নারীনেত্রী সময়ের আলোকে জানান, তিনি সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তিনি তাকে অনেকটা আশ্বস্ত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর দুই পিএসের সঙ্গেও তিনি দেখা করেছেন। তারাও আশ্বস্ত করেছেন।  

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির এক সদস্য জানান, প্রাথমিকভাবে একটি বড় তালিকা প্রস্তুত করে তা থেকে পর্যায়ক্রমে সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হবে। পরে সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হবে। সে ক্ষেত্রে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুমোদন ছাড়া কোনো তালিকা চূড়ান্ত হবে না।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে জানান, সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন রোজার মধ্যে করার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে। ঈদের আগেই এ নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম শেষ করতে চায় ইসি। সাধারণ নির্বাচনের ফলের গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

সংরক্ষিত আসনে এমপি হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে আছেন বিএনপির অর্ধশতাধিক নারী নেত্রী। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন, বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগীয়) বিলকিস আকতার জাহান শিরিন, প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদের স্ত্রী হাসনা জসিম উদ্দিন মওদুদ, মির্জা আব্বাসের স্ত্রী মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের স্ত্রী সাবেক এমপি হাসিনা আহমেদ, বিদুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর স্ত্রী রুমানা মাহমুদ, অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতায় রায় চৌধুরীর মেয়ে ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের স্ত্রী ও মহিলা দলের সহ-সভাপতি নাজমুন নাহার বেবী, যুগ্ম সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, প্রয়াত হারিছ চৌধুরীর মেয়ে সামিরা তানজিনা চৌধুরী, সাবেক এমপি মকবুল হোসেনের মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, শেরেবাংলা একে ফজলুল হকের নাতনি মহিলা দল সভানেত্রী ফাহসিনা হক লিরা, অধ্যাপিকা রোকেয়া চৌধুরী বেবী ও ঝালকাঠি জেলা বিএনপি নেত্রী জেবা আমিন খান।


আলোচনায় আছেন কণ্ঠশিল্পী বেবী নাজনীন ও কনকচাঁপা, সাবেক কাউন্সিলর ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, বিএনপির সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা ও ঢাকা দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমাও।

বিএনপির আইনজীবী ও টকশো আলোচক অ্যাডভোকেট ফাহিমা নাসরিন মুন্নি সময়ের আলোকে বলেন, গত ১৭ বছরে রাজপথের পাশাপাশি টকশোতেও সরব ছিলাম। কাজটি অত সহজ ছিল না। ভয়ের সংস্কৃতি ভেদ করে আমি কথা বলেছি। আশা করি বিএনপি নারীদের ত্যাগ ও যোগ্যতার মূল্যায়ন করবে।

পরাজিত প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় যারা : অনেক নারী নেত্রী এবারের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই এবার সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হতে পারেন বলে সূত্রে জানা গেছে। শেরপুর-১ (সদর) আসনের পরাজিত প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা। 

ভোটে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সম্প্রতি নির্বাচনের ফল স্থগিত এবং পুনঃভোট গণনার দাবিও জানিয়েছেন বিএনপির এই প্রার্থী। 

সময়ের আলোকে তিনি বলেন, আমাকে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন প্রভাবিত হয়ে জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছে। স্থানীয়ভাবে দল থেকেও সন্তোষজনক সহযোগিতাও আমি পাইনি। আশা করি দল আমাকে সংরক্ষিত আসনে মূল্যায়ন করবে। কারণ শেরপুরে জামায়াতকে কাউন্টার দেওয়ার জন্য হলেও আমাকে সংসদের এলাকার প্রতিনিধিত্ব করতে হবে।  

এ ছাড়া ঢাকা-১৪ আসনের পরাজিত প্রার্থী মায়ের ডাকের প্রধান সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলি ও যশোর-২ আসনের প্রার্থী মোছা. সাবিরা সুলতানাও আছেন আলোচনায়।

সাবেক সংরক্ষিত এমপিদের মধ্যে আলোচনায় যারা : মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক সুলতানা আহমেদ, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আকতার, সাবেক এমপি টকশো আলোচক আসিফা আশরাফী পাপিয়া ও নিলুফার চৌধুরী মনি, রাশেদা বেগম হীরা, রেহেনা আকতার রানু ও ইয়াসমিন আরা হক। তারা সবাই অষ্টম ও নবম জাতীয় সংসেদর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

জামায়াত ও এনসিপির নারীরাও আলোচনায় : প্রকাশ্যে দৌড়ঝাঁপ বা লবিং না থাকলেও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি পদের জন্য প্রধান বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীতেও দুই ডজনেরও বেশি নারী নেত্রী আলোচনায় এসেছেন। এদের মধ্যে কেউ কেউ চিকিৎসক, অধ্যাপক, প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

এর মধ্যে কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি অধ্যাপিকা নুরুন্নিসা সিদ্দিকা, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষক প্রকৌশলী মারদিয়া মমতাজ, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সাবেক এমপি ডা. আমিনা বেগম রহমান, সাবেক এমপি ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য শাহান আরা বেগম।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, আমরা জাতীয় নির্বাচনে নারীদের মনোনয়ন দিতে না পারলেও সংরক্ষিত আসনে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নারী আসনে আমাদের প্রার্থী বাছাই চলমান। যোগ্যরাই সংসদে যাবেন।

এনসিপিতে চার নেত্রীকে ঘিরে আলোচনা : ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ৬টি আসনে জয়লাভ করেছে এনসিপি। তবে জোটের বড় দল জামায়াতের পক্ষ থেকে তাদের আরও একটি আসন ছাড় দেওয়ার গুঞ্জন রয়েছে। সে হিসেবে দলটির ভাগ্যে দুটি আসন মিলতে পারে।

দলের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, বেশ কয়েকজন নেত্রী সংরক্ষিত আসনের এমপি হতে পারেন বলে আলোচনায় রয়েছেন। এর মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ও যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিন, ঢাকা-১৯ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দিলাশানা পারুল, ঢাকা-২০ আসনে শাপলা কলি প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা নাবিলা তাসনিদ এবং দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. মাহমুদা মিতু। এর বাইরেও আরও কমপক্ষে ৫ জন নেত্রী আলোচনায় রয়েছেন বলে জানা গেছে।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   মন্ত্রী  এমপি  মরিয়া 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: