ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতা নাঈম উদ্দিনের উপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে এবং এ ঘটনায় জড়িত ডিসি মাসুদসহ অন্যান্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রতিবাদ ও মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু ভাস্কর্যের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। এই মানববন্ধন থেকে অনতিবিলম্বে ডিসি মাসুদসহ জড়িত অন্যান্যদের প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য রেদিয়া সুলতানা রাকা বলেন, সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নৃবিজ্ঞান বিভাগের আমাদের বড় ভাইয়ের উপর পুলিশের হামলার যে ঘটনা ঘটেছে আমার এর তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা দেখেছি ইন্টেরিমের সময়েও ডিসি মাসুদ কত ধরনের নির্যাতন করেছে শিক্ষার্থীদের উপরে।
তিনি বলেন, মাদক নিরোধের নামে এই যে মোরাল পুলিশিং শুরু হয়েছে সেটি কোনভাবেই কাম্য নয়। পুলিশের কথা ছিল আমাদের সেবক হবে কিন্তু আমরা দেখছি আজকে পুলিশ আমাদের শুধু শাসকই নয় বরং আমাদেরকে নির্যাতন করছে। আমরা এই ধরনের মোরাল পুলিশিং বন্ধ করতে চাই এবং আমরা ছাত্র ফেডারেশন থেকে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স রেখেই বলতে চাই যে ডিসি মাসুদের এই ধরনের কাজের জন্য শুধু তাকেই বরখাস্ত নয় বরং যেই পুলিশ এর সাথে সম্পৃক্ত ছিল তাদের সকলকেই মামলার আওতায় আনতে হবে এবং উপযুক্ত শাস্তি প্রদান করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন
ছাত্র ফেডারেশনের আরেক নেতা বলেন, পুলিশের যদি মাদক অভিযান করার হয় তারা চ্যাক করবে, যদি কারো কাছে মাদকদ্রব্য পাওয়া যায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিবে কিন্তু রোববার যেভাবে সাধারণ নাগরিককে পিটিয়েছে তা লজ্জাজনক।
তিনি আরো বলেন, যখন ইন্টেরিম সরকার ছিল, যখন ধর্ষণবিরোধী মুভমেন্টে যমুনা অভিমুখে আমাদের পদযাত্রা ছিল সেই পদযাত্রাতেও ডিসি মাসুদের ঘৃণ্য হামলার শিকার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হয়েছে। এরপরেও নানা সময় মাদক বিরোধী অভিযানের নামে তারা নাগরিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করে। আজকে নাঈম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাজনীতি সচেতন মানুষ। সে জানে তার নাগরিক অধিকার কোনটা। সে চোখে চোখ রেখে কথা বলেছে, আমরা প্রতিবাদ করেছি।
কিন্তু বাংলাদেশে এই নাঈমের মত আরো অসংখ্য মানুষ আছে যারা প্রতিনিয়ত এই পুলিশের অসাংবিধানিক হস্তক্ষেপের শিকার হয়। নূন্যতম প্রতিবাদের জায়গা থাকে না। তাই এই ঘটনায় জড়িতদের অনতিবিলম্বে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
এএডি/