বইমেলাকে কেবল কেনাবেচার পরিসরে সীমাবদ্ধ না রেখে সাংস্কৃতিক জাগরণের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ভাষায়, অমর একুশে বইমেলা হোক শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ‘সূতিকাগার’।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বইপড়া সংস্কৃতি বিস্তারে নতুন ভাবনার কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তিনি এর আগে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদান করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির প্রসার মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তবে ইন্টারনেট ব্যবহারের অতিরিক্ত আসক্তি বই পড়ার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে। যদিও অনলাইনে বই পড়ার সুযোগ রয়েছে, তবুও পাঠাভ্যাস ধরে রাখতে সচেতনতা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানে বইপড়ায় বাংলাদেশের অবস্থান সন্তোষজনক নয়। ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম- যা পাঠাভ্যাস বাড়ানোর তাগিদ আরও জোরালো করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বইমেলা শুধু একটি নির্দিষ্ট মাসের আয়োজন না হয়ে সারাবছর দেশের জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। এতে পাঠাভ্যাস যেমন বাড়বে, তেমনি স্থানীয় লেখক-প্রকাশকরাও নতুন সুযোগ পাবেন।
তিনি আরও বলেন, অমর একুশে বইমেলাকে আন্তর্জাতিক পরিসরে নেওয়ার সুযোগ আছে কি না, সেটিও বিবেচনায় দেখা উচিত।
বক্তব্যের শেষাংশে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন, বইমেলা যেন কেবল বই বিক্রির জায়গা না হয়ে ওঠে- বরং তা হোক মিলনমেলা, সৃজনের মেলা। শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চাকে একসুতোয় গেঁথে বইমেলাকে জাতীয় জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গে পরিণত করার আহ্বান জানান তিনি।
এএডি/