গাজা উপত্যকার হজ ও ওমরাহ এজেন্সিগুলোর সংগঠন অভিযোগ করেছে যে, ফিলিস্তিনি মন্ত্রণালয় এ বছর গাজার বাসিন্দাদের হজ পালনের সুযোগ পরিকল্পিতভাবে সীমিত করছে।
সংগঠনের সদস্য আওয়াদ আবু মাধকুর কুদস প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জানান, গাজা থেকে হজে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের বর্তমান সংকটের জন্য সরাসরি মন্ত্রণালয়ই দায়ী।
আবু মাধকুরের দাবি অনুযায়ী, গাজা উপত্যকার ভেতর থেকে হাজিদের যাতায়াত ও ভ্রমণ ব্যবস্থাপনা বাতিল করা হয়েছে এবং এবারের হজ কার্যক্রম কেবল বিদেশে অবস্থানরত গাজাবাসীকে যেমন মিসর ও অন্যান্য দেশে থাকা ব্যক্তিদের জন্য সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যারা গত বছর নিবন্ধন করে লটারিতে নির্বাচিত হয়েছিলেন এবং নির্ধারিত ফি জমা দিয়েছিলেন, তাদের জন্য পুনরায় নিবন্ধনের নিয়ম করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। তার মতে, এবার নতুন আবেদনকারীদেরই অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন ছিল।
নিবন্ধনের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, আবেদন করার জন্য মাত্র পাঁচ দিন সময় দেওয়া হয়েছিল, যেখানে বিদেশে অবস্থানরত ফিলিস্তিনিরাও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কিন্তু গাজা উপত্যকার অভ্যন্তরে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রে যাতায়াত সমস্যার অজুহাতে কার্যত হজ পালনে বাধা দেওয়া হয়েছে, যা তাদের ওপর এক ধরনের বাড়তি বিধিনিষেধের শামিল।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে আবু মাধকুর জানান, গাজার জন্য বার্ষিক হজ কোটা নির্ধারিত থাকে ২ হাজার ৫০৮ জন হাজি এবং ২৫ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তার জন্য। এ বছর এখন পর্যন্ত উপত্যকার বাইরে থাকা প্রায় ১ হাজার ৪০০ গাজাবাসী হজের জন্য নিবন্ধন করেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, গাজার নির্ধারিত এই কোটা পূর্ণ হওয়ার আগেই নিবন্ধনের পোর্টাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং অবশিষ্ট কোটাগুলো পশ্চিম তীর ও জেরুজালেমের বাসিন্দাদের জন্য বরাদ্দ করা হতে পারে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সময়ের আলো/আরবিএন