ব্রাজিলিয়ান ফুটবল তারকা নেইমার সমালোচকদের তীরবিদ্ধ জবাব দিলেন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়ে। গত সপ্তাহে যারা তাকে ‘বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়’ বলে আখ্যা দিয়েছিল, তাদের উদ্দেশ্য করেই গতকাল (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভাস্কো দা গামার বিপক্ষে জোড়া গোল করার পর নেইমার বলেন, গত সপ্তাহে তারা বলেছিল আমি বিশ্বের সবচেয়ে বাজে খেলোয়াড়। আজ আমি দুটি গোল করলাম, এটাই গুরুত্বপূর্ণ।
ব্রাসিলেইরাও এর চতুর্থ রাউন্ডের ম্যাচে সান্তোসের হয়ে ২-১ ব্যবধানে জয় পাওয়ার পর বার্সেলোনা ও পিএসজির সাবেক এই ফরোয়ার্ড বেশ কড়া ভাষায় নিজের প্রতিক্রিয়া জানান।
আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলে ফেরার চাপ এবং সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফুটবল এমনই। একদিন লোকেরা বলবে আপনি ভালো নন বা ফুরিয়ে গেছেন, আবার পরদিনই তারা আপনাকে বিশ্বকাপে পেতে চাইবে।
নতুন বছরের শুরুতে অস্ত্রোপচারের ধকল কাটিয়ে খুব বেশিদিন হয়নি নেইমার মাঠে ফিরেছেন। ব্রাজিল দলের বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, পুরোপুরি ফিট থাকলেই কেবল নেইমারকে বিশ্বকাপের জন্য বিবেচনা করা হবে। জাতীয় দলের সর্বোচ্চ এই গোলদাতা নিজেকে প্রস্তুত করতে জানপ্রাণ দিয়ে চেষ্টা করছেন।
স্পোরটিভি-কে তিনি জানান, এটি ছিল এই বছরে তার তৃতীয় ম্যাচ এবং দ্বিতীয়বারের মতো পুরো ৯০ মিনিট খেলেছেন। ম্যাচের শেষ দিকে কিছুটা শারীরিক অস্বস্তি বা ক্র্যাম্প অনুভব করলেও একে তিনি ফেরার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখছেন।
ম্যাচের ২৫তম মিনিটে নেইমার তার প্রথম গোলটি করেন। গোল করার পর কর্নার ফ্ল্যাগের কাছে গিয়ে তিনি রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের স্টাইলে নেচে উদযাপন করেন। প্রথমার্ধেই ভাস্কো দা গামা সমতা ফেরালেও দ্বিতীয়ার্ধে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে সান্তোসের জয় নিশ্চিত করেন নেইমার।
তবে উদযাপনের মাঝেই এক পর্যায়ে ভাস্কো মিডফিল্ডার থিয়াগো মেন্দেসের সঙ্গে তার কিছুটা তর্কাতর্কি হয়।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে পিএসজিতে থাকাকালীন এই মেন্দেসের করা ট্যাকলে নেইমার গুরুতর ইনজুরিতে পড়েছিলেন।
গত বছর ডিসেম্বরে জুভেন্তুদের বিপক্ষে জোড়া গোলের পর এবার পুনরায় জোড়া লক্ষ্যভেদে গোলে ফিরলেন এই তারকা।
গোলখরা কাটিয়ে ফর্মের এই ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই এখন নেইমারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সময়ের আলো/আরবিএন