যেই পাকিস্তান একটা সময় আনপ্রেডিক্টেবল টিম হিসেবে পরিচিত ছিল। হারা ম্যাচে জয় নিয়ে ফিরেছে। সেই পাকিস্তান জিততেই ভুলে গেছে। ইংল্যান্ড সফরের শেষ ম্যাচেও হার এড়াতে পারল না বাবর-শান মাসুদরা। তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে তাদের। অথচ এই সফরের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামনে ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর একের পর এক সুযোগ। কোনোটিই কাজে লাগাতে পারেনি তারা।
ইংল্যান্ডের মাটিতে তিন টেস্টে তিন হার পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ব্যর্থতারই আরেকটি অধ্যায়। হেডিংলিতে শুরু হয়েছিল ইনিংস ব্যবধানে হার দিয়ে, লর্ডসে বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পর এজবাস্টনেও শেষ হয়েছে একই পরিণতিতে। ফলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সফর হয়ে থাকল পাকিস্তানের জন্য হতাশায় মোড়া আরেকটি সিরিজ। তবে এজবাস্টনে পাকিস্তানের ব্যর্থতার মাঝেও আলাদা করে আলো কেড়েছেন অভিষিক্ত রাজাউল্লাহ।
২১ বছর বয়সি এই তরুণ প্রথম টেস্টেই বুঝিয়ে দিয়েছেন, পাকিস্তানের ভবিষ্যতের জন্য তার মধ্যে বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বল হাতে চার উইকেট নেওয়ার পর ব্যাটিংয়ে নয় নম্বরে নেমে মাত্র ৬৩ বলে খেলেছেন ৮১ রানের ঝড়ো ইনিংস। নয়টি ছক্কায় সাজানো সেই ইনিংসেই শেষ মুহূর্তে ম্যাচে কিছুটা উত্তেজনা ফিরেছিল।
মোহাম্মদ আব্বাসের সঙ্গে রাজাউল্লাহর ১২১ রানের জুটিও ছিল পাকিস্তানের লড়াইয়ের অন্যতম উজ্জ্বল মুহূর্ত। দল যখন বড় বিপর্যয়ে, তখন অভিষিক্ত একজনের এমন সাহসী ব্যাটিং পাকিস্তানকে অন্তত প্রতিরোধ গড়ার সুযোগ দিয়েছে। বল হাতেও তার চার উইকেট দেখিয়েছে, শুধু ব্যাটিং নয়; দুই বিভাগেই অবদান রাখার সামর্থ্য রয়েছে তার। রাজাউল্লাহর আবির্ভাব তাই পাকিস্তানের জন্য এই হতাশাজনক সফরের বড় প্রাপ্তি হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সময়ে দলটির সবচেয়ে বড় সংকটগুলোর একটি হলো ধারাবাহিক পারফরম্যান্স ও ম্যাচ জেতানোর মতো ক্রিকেটারের অভাব।
ইংল্যান্ডের আগে বাংলাদেশের বিপক্ষেও একই চিত্র দেখা গেছে। দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করে। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে একটি ম্যাচ জিতলেও সামগ্রিকভাবে স্বস্তি পাওয়ার মতো পারফরম্যান্স দেখাতে পারেনি তারা। সবশেষ ইংল্যান্ডে এসে তিন ম্যাচেই হার।
ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে এখন প্রশ্নটা শুধু একটি সিরিজের ব্যর্থতা নিয়ে নয়। একের পর এক সিরিজে দল কেন একই জায়গায় আটকে যাচ্ছে, সেটিই বড় প্রশ্ন। তার ওপর ইংল্যান্ড সফরের মাঝপথে সাত ক্রিকেটার ও দুই কোচকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলেছিল।
এমন অবস্থায় রাজাউল্লাহর মতো তরুণের আবির্ভাব পাকিস্তানকে নতুন করে আশাবাদী করতে পারে। তবে একজনের দুর্দান্ত অভিষেক দিয়ে দলীয় সংকট কাটানো সম্ভব নয়। রাজাউল্লাহকে ঘিরে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা তৈরি করার পাশাপাশি পুরো দলকে ফিরতে হবে জয়ের ধারায়। এজবাস্টনের হার তাই শুধু আরেকটি পরাজয় নয়, পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ক্রিকেটের সংকটের আরেকটি বড় উদাহরণ। এখন তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ— এই হারতে থাকা দলটাকেই আবার জিততে শেখানো।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এসএকে