‘আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়’

খেলা

বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)

2026-09-12T19:19:55+00:00
2026-09-12T19:19:55+00:00
 
  শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
‘আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়’
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:১৯ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিক্সিং ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ঘরোয়া ক্রিকেটে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের তৎপরতা আবারও আলোচনায় এসেছে। চলতি মাসের শুরুতেই বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ১২তম আসর ঘিরে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে সাবেক এক বোর্ড পরিচালকসহ তিনজনকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বিসিবি। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে আইসিসির অ্যান্টি-করাপশন কোড ভঙ্গের অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে চার্জ গঠন করা হয়েছে।

অভিযুক্ত তিনজন হলেন বিসিবির সাবেক পরিচালক ও অডিট কমিটির সাবেক চেয়ারম্যান মুহাম্মদ মুখলেসুর রহমান (শামীম), সাবেক সিকিউরিটি লিয়াঁজো অফিসার (এসএলও) জাকির হোসেন এবং বগুড়া জেলার সাবেক বিসিবি কাউন্সিলর রাকিবুল ইসলাম সানি।

তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে ‘প্রোভিশনাল সাসপেনশন’ বা সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ব্যবস্থা। আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য তাদের ১৪ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব না এলে পরবর্তী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

এই তদন্ত কীভাবে পরিচালিত হয়, কারা তথ্য দেন এবং তদন্তে কতটা স্বাধীনতা থাকে—এসব প্রশ্নই সামনে এসেছে বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের প্রধান অ্যালেক্স মার্শালের সংবাদ সম্মেলনে।

অভিযোগ থেকেই শুরু হয় তদন্ত

মার্শালের ব্যাখ্যায়, ফিক্সিংয়ের মতো ঘটনা সাধারণত একটি তথ্য বা অভিযোগ থেকেই তদন্তের আওতায় আসে। কোনো ক্রিকেটার যদি জানান, তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে খারাপ খেলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে কিংবা এর বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, সেটিই হতে পারে তদন্ত শুরুর প্রথম সূত্র।

তবে তথ্য আসার পথ শুধু ক্রিকেটারদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। কোচ, ম্যানেজার কিংবা সাংবাদিকদের কাছ থেকেও তথ্য পেতে পারে ইন্টিগ্রিটি ইউনিট। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো সন্দেহজনক বিষয় ধরা পড়লে আইসিসিও তা বিসিবির সংশ্লিষ্ট ইউনিটকে জানাতে পারে।

অর্থাৎ ঘরোয়া ক্রিকেটের কোনো ম্যাচ বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ঘিরে ওঠা সন্দেহকে এক জায়গা থেকে নয়, বিভিন্ন উৎসের তথ্য মিলিয়েই যাচাই করার সুযোগ থাকে।

মার্শালের ভাষায়, বিসিবির ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের দায়িত্বের আওতায় পড়ে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সব বিষয়। তাই কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর সেটি কতটা গুরুতর, কোথা থেকে এসেছে এবং তার পেছনে সত্যতা আছে কি না—এসব যাচাই করাই তদন্তের মূল কাজ।

‘কেউ বলতে পারে না কীভাবে তদন্ত করতে হবে’

তদন্তের স্বাধীনতা নিয়ে মার্শালের বক্তব্য আরও স্পষ্ট। তিনি জানিয়েছেন, তার অধীনে একটি ইউনিট কাজ করে, যেখানে বাংলাদেশি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। তিনি সরাসরি বিসিবি সভাপতির কাছে রিপোর্ট করেন।

তবে তদন্তের পদ্ধতি বা তদন্তের লক্ষ্য নিয়ে বাইরে থেকে নির্দেশ দেওয়ার সুযোগ নেই বলেই জানিয়েছেন তিনি।

মার্শালের ভাষায়, ‘আমার কাজ একেবারেই স্বাধীন এবং গোপনীয়।’ তার দাবি, কেউ এসে তাকে বলতে পারেন না—কীভাবে তদন্ত করতে হবে কিংবা কাকে নিয়ে তদন্ত করতে হবে।

এই বক্তব্যটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ক্রিকেটে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুধু তথ্য সংগ্রহের বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে গোপনীয়তা, অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার এবং তদন্তের নিরপেক্ষতার প্রশ্নও।

একটি অভিযোগ উঠলেই সেটিকে সত্য ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই। আবার অভিযোগকে গুরুত্বহীন করে দেখারও সুযোগ নেই। তদন্তের কাজ হলো অভিযোগের পেছনের তথ্য-প্রমাণ যাচাই করে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো।


শেষ সিদ্ধান্তে আইনি প্রক্রিয়াও গুরুত্বপূর্ণ

তদন্তের স্বাধীনতার কথা বললেও চূড়ান্ত শাস্তির প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কাঠামো অনুসরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন মার্শাল।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তদন্ত শেষ হওয়ার পর জেনারেল কাউন্সিল বিসিবি সভাপতির সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানায়। অর্থাৎ তদন্ত পরিচালনা এবং পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত—দুই পর্যায়ের কাজ আলাদা কাঠামোয় এগোয়।

সাম্প্রতিক তিনজনের সাময়িক নিষেধাজ্ঞার ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে বিষয়টি এগোচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এরপর আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখা হয়েছে। তাঁদের জবাব এবং তদন্তের তথ্য-প্রমাণ পরবর্তী সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কেন এখন এই ব্যাখ্যা?

বিপিএল ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসার পর অ্যান্টি-করাপশন কাঠামো নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ শুধু একটি ম্যাচ বা একজন খেলোয়াড়ের বিষয় নয়; এর প্রভাব পড়ে পুরো প্রতিযোগিতার বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর।

তাই ইন্টিগ্রিটি ইউনিটের কাজের ধরন, তথ্য পাওয়ার প্রক্রিয়া এবং তদন্তের স্বাধীনতা স্পষ্ট করা গুরুত্বপূর্ণ। মার্শালের বক্তব্যেও সেই বিষয়টিই উঠে এসেছে।

তিনি জানিয়েছেন, নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে ফিক্সিং ও দুর্নীতি সম্পর্কিত বিষয়গুলো পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে চান। অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটের কোড, ফিক্সিং এবং সংশ্লিষ্ট তদন্ত তাঁর দায়িত্বের অংশ বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে দুর্নীতিবিরোধী লড়াই কতটা কার্যকর হবে, সেটি শেষ পর্যন্ত নির্ভর করবে তদন্তের মান, তথ্য-প্রমাণ এবং পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর। তবে অ্যালেক্স মার্শালের বক্তব্যে অন্তত একটি বিষয় স্পষ্ট—অভিযোগ পাওয়ার পর সেটিকে যাচাই করার জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে এবং তার দাবি অনুযায়ী, সেই তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে ইউনিটটি স্বাধীনভাবে কাজ করছে।

এখন নজর থাকবে বিপিএল ঘিরে সাম্প্রতিক তিনজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের পরবর্তী ধাপের দিকে। তাদের আত্মপক্ষ সমর্থনের জবাব এবং তদন্তের ফলই বলে দেবে, সাময়িক নিষেধাজ্ঞার পর বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়।

সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   আমার  কাজ  স্বাধীন  গোপনীয়  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: