হেম্পকে ফিরিয়ে নারী ক্রিকেটে বদলের চেষ্টা! সামনে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষা

ক্রীড়া ডেস্ক

খেলা

একই গল্প বারবার ফিরে আসে। টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভাবনার কথা, মাঝপথে কিছু আশাবাদ, এরপর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ধস—শেষে হতাশা। বাংলাদেশ নারী

2026-09-12T17:22:45+00:00
2026-09-12T17:22:45+00:00
 
  শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
খেলা
হেম্পকে ফিরিয়ে নারী ক্রিকেটে বদলের চেষ্টা! সামনে অস্ট্রেলিয়ার কঠিন পরীক্ষা
ক্রীড়া ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:২২ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
একই গল্প বারবার ফিরে আসে। টুর্নামেন্টের শুরুতে সম্ভাবনার কথা, মাঝপথে কিছু আশাবাদ, এরপর গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটিং ধস—শেষে হতাশা। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে সাম্প্রতিক বছরগুলোর বড় ছবিটা অনেকটা এমনই। এবারের এশিয়া কাপও সেই চেনা গল্পের বাইরে যেতে পারেনি।

ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ৪০ রানে হারের মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান। এর আগে টুর্নামেন্টে ওঠানামা ছিল পারফরম্যান্সে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি চোখে পড়েছে ব্যাটিংয়ের অস্থিরতা ও ফিল্ডিংয়ের ভুল। ভারতের বিপক্ষে ১৫০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১০৯ রানেই থেমেছে বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালের দরজা বন্ধ হয়েছে।

এমন একটি টুর্নামেন্ট শেষে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—সমস্যাটা কি শুধু ক্রিকেটারদের, নাকি দলের প্রস্তুতি ও কোচিং কাঠামোতেও পরিবর্তন দরকার?

বিসিবির ভাবনা, উত্তরটি সম্ভবত দ্বিতীয়টিতেও আছে। দেশের একটি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে আবারও ডেভিড হেম্পকে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। যদিও তার সঙ্গে এখনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি। প্রাথমিকভাবে দুই বছরের চুক্তির কথা জানা গেছে। এশিয়ান গেমসের পর, অস্ট্রেলিয়া সিরিজের আগে তিনি দায়িত্ব নিতে পারেন।

হেম্প—বাংলাদেশে নতুন নন

হেম্পকে বেছে নেওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় যুক্তি সম্ভবত তার পরিচিত পরিবেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে কাজ করার অভিজ্ঞতা তার আগেই আছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) দলের প্রধান কোচ হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন তিনি। এরপর জাতীয় পুরুষ দলের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বও পালন করেন। বিসিবি তাকে দুই বছরের চুক্তিতে পুরুষ দলের ব্যাটিং কোচ করেছিল।

নারী ক্রিকেটও তার কাছে অচেনা নয়। পাকিস্তান নারী দলের প্রধান কোচ হিসেবে ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কাজ করেছেন হেম্প। ভিক্টোরিয়া স্টেট নারী দল এবং মেলবোর্ন স্টার্সের নারী দলের সঙ্গেও কোচ হিসেবে যুক্ত ছিলেন। অর্থাৎ নারী ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক ও ঘরোয়া—দুই ধরনের পরিবেশেই তার কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।

বাংলাদেশের সঙ্গেও তার সম্পর্ক থেমে থাকেনি। ২০২৬ সালে আবার বিসিবির হাই পারফরম্যান্স বিভাগের দায়িত্বে ফেরেন তিনি এবং বাংলাদেশের নারী দলের সঙ্গে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও কাজ করার অভিজ্ঞতা হয়েছে তাঁর। 

এই জায়গাটিই হয়তো হেম্পকে অন্য প্রার্থীদের চেয়ে এগিয়ে রাখছে। তাকে নতুন করে বাংলাদেশ ক্রিকেটের পরিবেশ, খেলোয়াড়দের সংস্কৃতি কিংবা বিসিবির কাঠামো বুঝতে হবে না। বরং এবার তার সামনে কাজ হবে পরিচিত পরিবেশে নতুন করে পরিবর্তন আনার।

সমস্যাটা শুধু রান না করার নয়

বাংলাদেশ নারী দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা বিশ্লেষণ করলে শুধু ‘ব্যাটিং খারাপ’ বললে ছবিটা অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

ভারতের বিপক্ষে সেমিফাইনালেই সেটি স্পষ্ট হয়েছে। ১৪৯ রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়েছে। বড় জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়নি। শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য থেকে ৪০ রান দূরে থামতে হয়েছে দলকে। 

আরেকটি পুরোনো সমস্যা ফিল্ডিং। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগেও বাংলাদেশের ক্যাচিং নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানেও এই দুর্বলতার ছাপ রয়েছে—গত বছরের ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ক্যাচিং দক্ষতা ছিল অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দুর্বলগুলোর একটি। 

অর্থাৎ সমস্যাটি এক দিনের নয়, একটি টুর্নামেন্টেরও নয়। ব্যাটিংয়ের পরিকল্পনা, চাপের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া, জুটি গড়া, ফিল্ডিংয়ের মান—সব মিলিয়ে একটি দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রয়োজন। এখানেই হেম্পের কাজটা কঠিন।

শুধু কোচ বদলালেই কি বদলাবে গল্প?

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটে কোচ পরিবর্তন নতুন কোনো ঘটনা নয়। কিন্তু কোচ বদলের পর যদি খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি, ঘরোয়া ক্রিকেটের মান, নির্বাচনী প্রক্রিয়া ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় পরিবর্তন না আসে, তাহলে নতুন কোচও পুরোনো সমস্যার মধ্যেই আটকে যেতে পারেন।

হেম্পের জন্য তাই প্রথম কাজ হতে পারে দলের ব্যাটিং কাঠামো নতুন করে দেখা। কে ওপেন করবেন, মিডল অর্ডারে কার ভূমিকা কী, কোন পরিস্থিতিতে আক্রমণাত্মক হতে হবে আর কখন ইনিংস গড়তে হবে—এসব বিষয়ে পরিষ্কার পরিকল্পনা দরকার।

একই সঙ্গে তরুণ ক্রিকেটারদের প্রস্তুত করাও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দলের কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত খেলোয়াড়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমিয়ে এমন একটি বেঞ্চ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন ক্রিকেটার ছিটকে গেলে দলের ভারসাম্য ভেঙে পড়বে না।


অস্ট্রেলিয়া সিরিজেই আসল পরীক্ষা

হেম্পের সামনে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি হতে পারে অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। কারণ শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বাংলাদেশের সমস্যাগুলো আরও পরিষ্কার হয়ে উঠবে। সেখানে শুধু জয়ের ফল নয়, দল কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার মতো দলের বিপক্ষে টিকে থাকতে হলে শুধু প্রতিভা দিয়ে হবে না। প্রয়োজন ম্যাচ পরিস্থিতি বোঝার ক্ষমতা, দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাটিং করার মানসিকতা এবং চাপের মধ্যে ফিল্ডিংয়ে ভুল না করা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ পুরুষ ক্রিকেটেও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সাফল্য পেয়েছে। টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম জয়ও এসেছে ২০২৬ সালে। তবে নারী দলের ক্ষেত্রে প্রতিপক্ষের চ্যালেঞ্জ আলাদা। তাই অস্ট্রেলিয়া সিরিজ হতে পারে নতুন কোচের জন্য বাস্তব পরীক্ষাগার। 

দ্বিতীয় অধ্যায়টা কি সফল হবে?

ডেভিড হেম্প বাংলাদেশের ক্রিকেটে একেবারে নতুন কেউ নন। বরং এটাই তার সবচেয়ে বড় সুবিধা। তিনি দেশের ক্রিকেট কাঠামো দেখেছেন, পুরুষ দলের সঙ্গে কাজ করেছেন, এইচপি পর্যায়ে খেলোয়াড় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং নারী ক্রিকেটেও কাজের অভিজ্ঞতা আছে।

কিন্তু একই সঙ্গে এটিই তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জও। কারণ এবার তাকে শুধু ব্যাটিং শেখানো বা একটি দলের কোচিং করলেই হবে না; নিগার সুলতানা জ্যোতিদের একটি ধারাবাহিক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ দলে পরিণত করার দায়িত্ব নিতে হবে।

এশিয়া কাপ শেষ হয়েছে। সামনে এশিয়ান গেমস। এরপর অস্ট্রেলিয়া। সময় খুব বেশি নয়।

তাই হেম্পের সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে শুধু একজন নতুন প্রধান কোচ নিয়োগ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটে আরেকটি পুনর্গঠনের চেষ্টা। এবার সেই পরিবর্তন কতটা মাঠে দেখা যায়, সেটিই হবে আসল প্রশ্ন।

কারণ কোচ বদলের খবর সংবাদ তৈরি করে একদিনের জন্য। কিন্তু একটি দলের মান বদলাতে লাগে অনেক বেশি সময়—এবং তার প্রমাণ দিতে হয় মাঠেই।

সময়ের আলো/টিকে
  বিষয়:   হেম্প  নারী ক্রিকেট  বদল  চেষ্টা  অস্ট্রেলিয়া  কঠিন  পরীক্ষা  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
খেলা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: