ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) অভিষেকের পর দ্বিতীয় ম্যাচেই বল হাতে আরও বড় চমক দেখালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের বিপক্ষে মাত্র ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার। তার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১২৬ রানের বেশি করতে পারেনি ত্রিনবাগো। পরে ৮ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটে ম্যাচ জিতে নেয় গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স।
প্রভিডেন্স স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছিল ত্রিনবাগো। ৪.৩ ওভারে ৪১ রান তুলে ফেলেছিল তারা। সেখানেই প্রথম ধাক্কা দেন মিরাজ। ১৬ বলে ২৬ রান করা কলিন মুনরোকে বোল্ড করে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশের এই স্পিনার। এরপর ২২ রানের অ্যালেক্স হেলসকে ফেরান ইমরান তাহির।
মাঝে জাস্টিন গ্রিভস ৩৭ বলে ৩৫ রান করে দলকে লড়াইয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ দিকে মিরাজের ঘূর্ণিতে একের পর এক উইকেট হারায় ত্রিনবাগো। নিকোলাস পুরানকে প্রথম বলেই বোল্ড করেন তিনি। এরপর জেড গুলি ও সুনীল নারাইনকেও নিজের শিকারে পরিণত করেন। ৪ ওভারে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়ে ইনিংসের সবচেয়ে কার্যকর বোলিং করেন মিরাজ। শামার জোসেফ নেন ২ উইকেট।
১২৭ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে গায়ানাও শুরুতে কিছুটা চাপে পড়ে। ৩৬ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার মাভেন্দ্র দিনদিয়াল ও গ্লেন ফিলিপসকে হারায় তারা। এরপর দলের হাল ধরেন শিমরন হেটমায়ার ও শাই হোপ। হেটমায়ার ৩৫ বলে ৪২ এবং হোপ ১৯ বলে ২৮ রান করে গায়ানাকে জয়ের কাছাকাছি নিয়ে যান।
শেষ দিকে ব্যাট হাতে নামলেও মিরাজের তেমন কিছু করার সুযোগ হয়নি। ১৪ বল খেলে করেন মাত্র ২ রান। তবে বল হাতে তার আগেই করা ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছে সেই ব্যর্থতা। শেষ পর্যন্ত ১৮.৪ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় গায়ানা।
অভিষেক ম্যাচেও বল হাতে আলো ছড়িয়েছিলেন মিরাজ। সেবার ১৩ রান দিয়ে নিয়েছিলেন ৩ উইকেট। পরের ম্যাচেই ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হওয়ায় সিপিএলে নিজের শুরুটা দারুণভাবে মনে রাখার মতো করে তুললেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
এই জয়ে ৯ ম্যাচে ১৬ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও মজবুত করেছে গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্স। এক ম্যাচ বেশি খেলে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকন্স।
সময়ের আলো/টিকে