আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান তীব্র উত্তেজনা ও সীমান্ত সংঘাত নিরসনে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিবেশী দেশ ইরান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি দুই দেশকে সংলাপ এবং সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মাধ্যমে যাবতীয় মতভেদ দূর করার আহ্বান জানিয়েছেন।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় আরাঘচি পবিত্র রমজান মাসের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি এই মাসকে আত্মসংযম ও ইসলামী ভ্রাতৃত্বের সময় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তেহরান দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক আলোচনা এগিয়ে নিতে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে যেকোনো ধরনের সহায়তা করতে প্রস্তুত।
ইরানের এই শান্তিকামী বার্তার বিপরীতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার পরিস্থিতি এখন যুদ্ধের দিকে মোড় নিয়েছে। আফগান বাহিনীর হামলার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ তালেবান সরকারের বিরুদ্ধে ‘প্রকাশ্য যুদ্ধ’ ঘোষণা করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি জানান, দীর্ঘদিন কূটনৈতিকভাবে পরিস্থিতি শান্ত রাখার চেষ্টা করলেও এখন পাকিস্তানের ধৈর্যের সীমা ছাড়িয়ে গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির তথ্যমতে, আফগানিস্তানের প্রধান শহরগুলোতে পাকিস্তানের বিমান ও স্থলবাহিনীর ধারাবাহিক অভিযানের প্রেক্ষাপটেই এই যুদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র মোশাররফ জাইদি দাবি করেন, শুক্রবারে (২৭ ফেব্রুয়ারি) কাবুল, পাকতিয়া ও কান্দাহারে চালানো হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ১৩৩ জন আফগান তালেবান সদস্য নিহত ও ২০০ এর অধিক আহত হয়েছেন।
অবশ্য পাকিস্তানের এই দাবি নাকচ করে দিয়েছে আফগানিস্তানের তালেবান সরকার।
তালেবানের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ এক বার্তায় জানিয়েছেন, পাকিস্তানের সবশেষ হামলায় তাদের কোনো সদস্য আহত হননি।
তবে হতাহতের এই সংখ্যার বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীন কোনো সূত্র থেকে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সময়ের আলো/আরবিএন