গাজায় নগদ অর্থ ছাড়া যেভাবে কেনাকাটা সারেন ফিলিস্তিনিরা

মাহমুদুল হাসান রিফাত

আন্তর্জাতিক

যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা নগদ অর্থের অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন পরিচালনা করতে তীব্র সংগ্রাম করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু

2026-02-27T14:39:13+00:00
2026-02-27T14:39:13+00:00
 
  বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬,
১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
গাজায় নগদ অর্থ ছাড়া যেভাবে কেনাকাটা সারেন ফিলিস্তিনিরা
মাহমুদুল হাসান রিফাত
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৩৯ পিএম 
মোবাইলের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করছেন গাজার এক যুবক। ছবি : সংগৃহীত
যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকার ফিলিস্তিনিরা নগদ অর্থের অভাবে দৈনন্দিন জীবনযাপন পরিচালনা করতে তীব্র সংগ্রাম করছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় গণহত্যা শুরু করার পর ইসরায়েল নগদ অর্থের প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। 

গতবছরের অক্টোবরে কার্যকর হওয়া মার্কিন মধ্যস্থতার যুদ্ধবিরতি ফিলিস্তিনিদের জন্য খুব একটা স্বস্তি বয়ে আনেনি। যুদ্ধের আগে থেকে থাকা নোট ও মুদ্রা জীর্ণ হয়ে গেছে, যা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। বিকল্প হিসেবে সীমিত ইন্টারনেট কভারেজের মধ্যে স্মার্টফোনের মাধ্যমে পরিচালিত ইলেকট্রনিক পেমেন্টের একটি নতুন ব্যবস্থার উপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে উপত্যকাবাসী।

গাজা সিটির রেমাল পাড়ার ৪৫ বছর বয়সী গৃহবধূ সামার আবু হারবিদ আল জাজিরাকে বলেন, ার কাছে কোনো টাকা না থাকায়, মুদি দোকান থেকে বাকিতে ইফতার ও খাবার কিনছি। আমার স্বামী বা ছেলে টেলিগ্রামে টাকা পাঠালে তা শোধ করব।

তিনি বলেন, আমি কয়েক মাস ধরে একটা কাগজের নোটও স্পর্শ করিনি। ট্যাক্সি ভাড়া দেওয়ার মতো টাকাও আমার কাছে নেই। এখন আমাদের অনেক পথ হেঁটে যেতে হয়, অনেক দূর পর্যন্ত।

৪৮ বছর বয়সী নাজলা সুক্কার বলেন, চেক-আপ ফি দেওয়ার জন্য একমাত্র ২০ শেকেলের নোট এতটাই জীর্ণ হয়ে গিয়েছিল যে ফার্মাসিস্ট তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। আমি চিকিৎসা সেবা না নিয়েই ফিরে এসেছি।

তিনি বলেন, ফার্মেসিতে নোটগুলি গ্রহণ করেনি কারণ সেগুলি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ট্যাক্সি ড্রাইভারও নোট গ্রহণ করেনি। এটি চালানো খুব কঠিন। কী গোলমাল, আমরা কী করব জানি না!

গাজার ফিলিস্তিনিরা তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে ইসরায়েলি মুদ্রা শেকেল ব্যবহার করে এবং স্থানীয় ব্যাংকগুলিকে নতুন নোট এবং মুদ্রা সরবরাহের জন্য ইসরায়েলের উপর নির্ভর করতে হয়।

এজন্য ইসরায়েলি শেকেল নোটের তীব্র ঘাটতি কাটিয়ে ওঠতে ফিলিস্তিনিরা ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমের দিকে ঝুঁকতে বাধ্য হয়। যদিও যুদ্ধের কারণে আনুমানিক ৯০ শতাংশ ব্যাংকের শাখা এবং এটিএম মেশিন ধ্বংসের ফলে এই সমস্যা আরও তীব্র হয়েছে।

ফিলিস্তিনি মুদ্রা কর্তৃপক্ষ অবশ্য সম্প্রতি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারীদের সঙ্গে কাজ করে ফিলিস্তিনিদের নগদ অর্থের সমস্যা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য পালপে এবং জাওয়াল পেসহ মোবাইল-ভিত্তিক ইলেকট্রনিক পেমেন্টের ওপর জোর দিয়ে কাজ করছে।

কিন্তু ডিজিটাল পেমেন্ট স্থানীয় জনসংখ্যার একটি বৃহৎ অংশের জন্য আরও কষ্টের জায়গা তৈরি করেছে।

বেশিরভাগ ফিলিস্তিনি এখনও ব্যাংকের মাধ্যমে বেতন পান না, অনেকের স্মার্টফোন ব্যবহারের সুযোগ নেই এবং যাদের ফোন আছে তারা বিদ্যুতের তীব্র সংকটের মধ্যে থাকায় তাদের ফোন চার্জ রাখতে হিমশিম খাচ্ছেন।

এছাড়া গাজায় ভাল ইন্টারনেট সংযোগ খুঁজে বের করার সমস্যা এখনও রয়ে গেছে।

আবু হারবেইদ বলেন, বাজারে কেনাকাটার জন্য স্বামী বা ছেলেকে সঙ্গে রাখতে হয়। কিন্তু কেউই কাজ ছেড়ে আমার সঙ্গে আসতে চায় না।

তিনি বলেন, আমি হাতে নগদ টাকা বেশি পছন্দ করি; আমি চলতে চলতে যেকোনো কিছু কিনতে পারি।

ফিলিস্তিনি অর্থনীতিবিদ সমিতির পরিচালনা পর্ষদের সদস্য আহমেদ আবু কামার আল জাজিরাকে বলছেন, গাজার বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা নগদ অর্থের সংকটের মাধ্যমে শুরু হলেও এটি সামনে আরও বাড়বে এবং কাঠামোগত কিছুতে রূপান্তরিত হবে।

তিনি বলেন, কালোবাজার এখন নগদ অর্থ সরবারহে একটি প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে। ব্যবসায়ীদের একটি ছোট দল উচ্চ-কমিশন ক্যাশিং অপারেশনের মাধ্যমে কার্যকরভাবে নগদ সঞ্চালন পরিচালনা করে।

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক ব্যাংকিং ব্যবস্থা থেকে ফিলিস্তিনি মুদ্রা কর্তৃপক্ষকে সরিয়ে রাখার মাধ্যমে এ সংকট তৈরি করেছে বলে অভিযোগ এ বিশ্লেষকের।

এমএইচআর 



  বিষয়:   গাজা  ফিলিস্তিন  নগদ টাকা 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: