অর্থনীতিবিদ, উন্নয়নকর্মী ও নির্বাচন বিশ্লেষক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, গণতন্ত্রকে টেকসই ও কার্যকর করতে হলে কেবল নির্বাচন যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সচেতন ও সংগঠিত নাগরিক সমাজ। তিনি আরও বলেন, নাগরিকরা সংগঠিত না হলে গণতন্ত্র কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
রোববার (১ মার্চ) সকালে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণ কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা ও পরিকল্পনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভাটির আয়োজন করে নাগরিক সংগঠন সুজন-সুশাসনের জন্য নাগরিকের গাইবান্ধা জেলা কমিটি।
জেলা কমিটির সভাপতি জিয়াউল হক কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক প্রবীর চক্রবর্তী।
এতে বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা, ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প বিশেষজ্ঞ, সমাজকর্মী ও গণশিক্ষা আন্দোলনের সংগঠক তাজিমা হোসেন মজুমদারসহ স্থানীয় নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি, শিক্ষক, তরুণ স্বেচ্ছাসেবক ও বিভিন্ন পেশাজীবীরা অংশ নেন।
প্রধান আলোচক তার বক্তব্যে বলেন, গণতন্ত্রের প্রাণশক্তি হলো জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ। ভোটের দিন কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়া গণতান্ত্রিক দায়িত্বের একটি অংশমাত্র; নির্বাচনের পরবর্তী সময়েও জনগণকে জবাবদিহি দাবি করতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু একটি কাঠামো নয়; এটি একটি চর্চা। সেই চর্চা যত বিস্তৃত হবে, গণতন্ত্র তত শক্তিশালী হবে।
বদিউল আলম মজুমদার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, উন্মুক্ত বাজেট সভা, গণশুনানি ও সামাজিক নিরীক্ষার মতো উদ্যোগ নিয়মিত করতে হবে। তথ্য অধিকার আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে নাগরিকদের সরকারি কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জানার সুযোগ বাড়াতে হবে।
তিনি বলেন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না, আর টেকসই উন্নয়ন ছাড়া গণতন্ত্রের ভিত মজবুত হয় না।
সভায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়লেও দায়িত্বশীল চর্চা জরুরি। তরুণ প্রজন্মকে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করা এবং ভ্রান্ত তথ্যের বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টি করাও গণতন্ত্র শক্তিশালীকরণের অংশ।
পরিকল্পনা পর্বে তৃণমূল পর্যায়ে নাগরিক সংলাপ আয়োজন, মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি, স্থানীয় সমস্যা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ পেশ এবং সামাজিক নজরদারি জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আয়োজকেরা জানান, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সভায় বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন, সচেতন ও সংগঠিত নাগরিক সমাজই পারে গণতন্ত্রকে কাগজে-কলমের গণ্ডি পেরিয়ে বাস্তব জীবনে কার্যকর করে তুলতে। গাইবান্ধা থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ বৃহত্তর পরিসরে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।
সময়ের আলো/আরবিএন