রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক সাফল্য

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয়

রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিক সাফল্য আসছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর, জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন

2026-03-02T04:16:21+00:00
2026-03-02T04:16:21+00:00
 
  শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬,
১৯ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬
জাতীয়
রেমিট্যান্সে ধারাবাহিক সাফল্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৬ এএম 
ফাইল ছবি
রেমিট্যান্স বা প্রবাসী আয়ে ধারাবাহিক সাফল্য আসছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ডিসেম্বর, জানুয়ারির পর ফেব্রুয়ারিতেও তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। গত মাসে ব্যাংকিং চ্যানেলে ৩০২ কোটি ডলার এসেছে। এর আগে জানুয়ারিতে ৩১৭ ও ডিসেম্বরে এসেছিল ৩২২ কোটি ডলার।

সাধারণভাবে রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে রেমিট্যান্স বেড়ে থাকে। গত ফেব্রুয়ারিতে দিন সংখ্যা কম হওয়ার পরও এ পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। আগের বছরের ফেব্রুয়ারিতে এসেছিল ২৫৩ কোটি ডলার। ঈদ ও রমজানের পাশাপাশি এবারের রেমিট্যান্সে নির্বাচনের প্রভাব থাকতে পারে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
দেশের ইতিহাসে এ নিয়ে চতুর্থ কোনো মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। গত বছরের রমজান ও ঈদের মাস মার্চে ৩৩০ কোটি ডলার এসেছিল, এ যাবতকালের মধ্যে কোনো একক মাসে যা সর্বোচ্চ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৮ মাসে প্রবাসীরা মোট ২ হাজার ২৪৫ কোটি ডলার দেশে পাঠিয়েছেন। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এসেছিল ১ হাজার ৮৪৯ কোটি ডলার। এ সময় প্রবাসী আয় বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। আওয়ামী লীগ পতনের পর গত অর্থবছর রেমিট্যান্স বেড়েছিল ২৬ দশমিক ৮৩ শতাংশ। তার ওপর এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ঠিক রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানান, অর্থ পাচার ঠেকাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আবার ঋণের নামে অর্থ আত্মসাৎ ঠেকানোর বিভিন্ন উদ্যোগ চলমান আছে। এতে হুন্ডি প্রবণতা কমে যাওয়ায় বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স বাড়ছে।

রেমিট্যান্স উচ্চ প্রবৃদ্ধির ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি গ্রস ৩৫ দশমিক শূন্য ৩ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। বিপিএম৬ অনুযায়ী যা ৩০ দশমিক ২৮ বিলিয়নে রয়েছে। আওয়ামী লীগ পতনের সময় যা ২০ দশমিক ৪৮ বিলিয়নে নেমেছিল। এতে আমদানিতে ৬ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধির পরও ডলারের সংকট নেই। দীর্ঘদিন ধরে ডলারের দর ১২২ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে।

জানা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে এসেছে ২ হাজার ২৪৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। বছর ব্যবধানে যা বেড়েছে ২১ দশমিক ৪০ শতাংশ। এর আগে জানুয়ারি মাসে দেশে এসেছে ইতিহাসে কোনো এক মাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৩১৭ কোটি ৯ লাখ ৪০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

আর গত ডিসেম্বরে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ৩২২ কোটি ৬৭ লাখ ডলার। যা ছিল দেশের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ও চলতি অর্থবছরের কোনো এক মাসে আসা সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়। গত নভেম্বরে দেশে এসেছিল ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ২০ হাজার ডলার রেমিট্যান্স।

এ ছাড়া গত অক্টোবর ও সেপ্টেম্বরে দেশে এসেছিল যথাক্রমে ২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ ৮০ হাজার ও ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ৮০ হাজার মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর গত আগস্ট ও জুলাইয়ে যথাক্রমে দেশে এসেছিল ২৪২ কোটি ১৮ লাখ ৯০ হাজার ও ২৪৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স।
এদিকে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরজুড়ে দেশে প্রবাসীরা পাঠিয়েছেন ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন বা ৩ হাজার ৩২ কোটি ৮০ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স, যা দেশের ইতিহাসে কোনো নির্দিষ্ট অর্থবছরে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয়ের রেকর্ড।

সংশ্লিষ্টরা জানান, রমজান মাস ও ঈদকে কেন্দ্র করে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানো এবং দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে প্রবাসীদের মধ্যে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙ্গাভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরে মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স এসেছে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ব্যাংক খাতের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমেছে। পাশাপাশি ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকার কারণে বৈধ পথে প্রবাসী আয় দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে।

কেন বাড়ছে রেমিট্যান্স : বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কয়েকটি কারণে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ছে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলার দর তুলনামূলক বাস্তবসম্মত হওয়া, হুন্ডির ঝুঁকি ও ব্যয় বেড়ে যাওয়া, নগদ প্রণোদনা অব্যাহত থাকা, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের কিছু দেশে শ্রমবাজার স্থিতিশীল থাকা এবং একই সঙ্গে নির্বাচনের প্রাক্কালে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কমাতে প্রবাসীরাও আনুষ্ঠানিক চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে আগ্রহী হচ্ছেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়ছে : রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ কিছুটা কমছে, ব্যাংকগুলোর আমদানি দায় পরিশোধে স্বস্তি মিলছে এবং টাকার বিনিময় হারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও চলতি হিসাবের ঘাটতি সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রেও রেমিট্যান্স বড় সহায়তা করছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই প্রবৃদ্ধি যদি আগামী মাসগুলোতেও বজায় থাকে, তা হলে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্সে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সেইসঙ্গে প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, দক্ষ কর্মী পাঠানো এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের ওপর আস্থা আরও জোরদার করার দিকেও নজর দিতে হবে।


  বিষয়:   রেমিট্যান্স  সাফল্য 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: