ইরান-মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার সংঘাত এখন ভয়াবহ ও রক্তক্ষয়ী রূপ নিয়েছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) সম্প্রতি নিশ্চিত করেছে যে, ইরানে চলমান যৌথ অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ছয়জন মার্কিন সেনাসদস্য নিহত হয়েছেন।
গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্মিলিত বোমা হামলা শুরু হওয়ার পর ইরানের পাল্টা আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত একটি স্থাপনা থেকে নিখোঁজ দুই সেনার মরদেহ উদ্ধারের পর এই নিহতের সংখ্যা ছয় জনে উন্নীত হলো।
সামরিক বিধি অনুযায়ী নিহতদের পরিবারকে অবহিত করার প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ক আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দেশটিতে নজিরবিহীন বিমান হামলা শুরু করে। এই অভিযানের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির প্রাসাদ, যা বর্তমানে সম্পূর্ণ ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
এই ভয়াবহ হামলায় খামেনি নিজে এবং তার পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্য যার মধ্যে তার মেয়ে, নাতি, পুত্রবধূ এবং জামাতা নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। খামেনির মৃত্যুর খবর মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
তবে খামেনি এবং শীর্ষ নেতৃত্বের পতনের পরও এই সামরিক অভিযান এখনই থামছে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের নির্ধারিত মিশন এখনো অপূর্ণ রয়ে গেছে।
ট্রাম্পের বার্তা অনুযায়ী, যতক্ষণ পর্যন্ত ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথভাবে নির্ধারিত সকল লক্ষ্য অর্জিত না হবে, ততক্ষণ এই আক্রমণ অব্যাহত থাকবে। বর্তমানে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন কৌশলগত অবস্থানে হামলা ও পাল্টাহামলা চলার কারণে পুরো অঞ্চল এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে ধাবিত হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন