মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নে ‘গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি’ হয়েছে বলে ঘোষণা দেওয়ার পরও টানা দ্বিতীয় দিনের মতো গাজা উপত্যকায় বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। রোববারের (২ আগস্ট) এসব হামলায় অন্তত চার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজা সিটি ও মধ্য গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় পৃথক বিমান হামলা চালায় ইসরায়েলি যুদ্ধবিমান।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, দেইর আল-বালাহে একটি আবাসিক ভবনে হামলায় এক দম্পতি নিহত এবং আরও চারজন আহত হন। অন্যদিকে গাজা সিটিতে একটি অ্যাপার্টমেন্টে হামলায় এক শিশুসহ আরও দুইজন নিহত হয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত বছরের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নের উদ্যোগে হামাস নিরস্ত্রীকরণে সম্মত হওয়ায় একটি বড় অগ্রগতি হয়েছে। পরদিন শুক্রবার তার ‘বোর্ড অব পিস’ যুদ্ধবিরতি কার্যকরের শেষ ধাপ হিসেবে ১৫ দফার একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করে। তবে সেই রোডম্যাপ এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।
হামাস জানিয়েছে, গত বছরের মিসর-সমর্থিত যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরায়েল সামরিক অভিযান বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করলেই তারা অস্ত্র গুদামে জমা দিতে প্রস্তুত। এর আগে তারা নিরস্ত্রীকরণে যাবে না।
অন্যদিকে রয়টার্সকে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তা বলেছেন, হামাসের ‘প্রকৃত নিরস্ত্রীকরণ’ না হলে বর্তমান অবস্থান থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার করা হবে না।
এ বিষয়ে এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে দেশটির জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির এই উদ্যোগকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলে মন্তব্য করেছেন। তার ভাষ্য, হামাস নেতাদের লক্ষ্য করে অভিযান অব্যাহত রাখা উচিত।
এদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থানরত সাবেক ফাতাহ নেতা মোহাম্মদ দাহলান ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ট্রাম্পের জামাতা ও যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার তাকে জানিয়েছেন, গাজায় হামলা বন্ধে ইসরায়েলি পক্ষের সঙ্গে কাজ চলছে।
দাহলান আরও বলেন, চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তবে এর সফলতা এখন নির্ভর করছে ইসরায়েল প্রতিদিনের সামরিক হামলা পুরোপুরি বন্ধ করে কি না, তার ওপর।
দাহলানের এ বক্তব্যের বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে রয়টার্স। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি ওয়াশিংটন। একইভাবে ইসরায়েলও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
সময়ের আলো/কেএইচ