রাশিয়ার জ্বালানি কিনছে— এমন দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ক্ষমতা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে দেওয়ার একটি বিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়েছে। বিলটি এখন ট্রাম্পের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে। এতে রাশিয়ার তেল কেনা ভারত ও চীনের মতো দেশগুলোর ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামে বিলটি প্রতিনিধি পরিষদে ২৬২-১৫৯ ভোটে পাস হয়। এর আগে গত মাসে মার্কিন সিনেটেও বিলটি অনুমোদিত হয়েছিল। এটি আইনে পরিণত হলে রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপের ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে যাবে।
বিলে চীন, ভারত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, আজারবাইজান, কাজাখস্তান, হাঙ্গেরি, কিরগিজস্তান ও স্লোভাকিয়ার নাম উল্লেখ করে এসব দেশের ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিলের কারণে এখনই ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হচ্ছে না। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর ট্রাম্প সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করলে ভারতের ওপর এ ধরনের শুল্ক আরোপ হতে পারে।
বিলটিতে রাশিয়ার নেতৃত্ব ও জ্বালানি খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি রুশ তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামে পরিচিত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর চীন, ভারতসহ বিভিন্ন দেশের নির্ভরতা কমাতে এসব দেশের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতাও এতে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধেও অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার প্রস্তাব রয়েছে।
ভারতের জন্য প্রস্তাবিত শুল্ক নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইসিআরএ লিমিটেডের প্রধান অর্থনীতিবিদ অদিতি নায়ার বলেন, যুক্তরাষ্ট্র উচ্চহারে শুল্ক আরোপ করলে এবং এ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকে রাশিয়ার সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে, যার বড় একটি কারণ রাশিয়া থেকে ভারতের বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি। চলতি বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ শুরুর পর ভারতের রুশ তেল আমদানি ১১ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল।
তবে রাশিয়ার তেল আমদানিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্কে চাপও তৈরি হয়েছে। গত আগস্টে ট্রাম্প প্রশাসন রুশ অপরিশোধিত তেল আমদানির কারণে ভারতের পণ্যে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল। এর সঙ্গে আগে থেকেই ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক ছিল। পরে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে রুশ তেল-সংক্রান্ত অতিরিক্ত শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১৮ শতাংশ করা হয়।
নতুন বিলটি নিয়ে মার্কিন ডেমোক্র্যাটদের একাংশও আপত্তি জানিয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট গ্রেগরি মিকস বিলটিকে ‘গুরুতর ত্রুটিপূর্ণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর অভিযোগ, বিলটি প্রেসিডেন্টকে নতুন আমদানি শুল্ক আরোপের ব্যাপক ক্ষমতা দিচ্ছে, অথচ রাশিয়া বা রাশিয়ার সহযোগীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপে বাধ্যবাধকতা যথেষ্ট স্পষ্ট নয়।
প্রতিনিধি পরিষদে ২০৩ জন রিপাবলিকান বিলটির পক্ষে ভোট দেন, বিপক্ষে ভোট দেন সাতজন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ৫৮ জন বিলের পক্ষে এবং ১৫২ জন বিপক্ষে ভোট দেন।
ভারতের ওপর যদি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়, তাহলে ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট থাকার সময়ে দেশটির জন্য এটিই হবে সর্বোচ্চ মার্কিন শুল্ক। এর সঙ্গে বর্তমানে ভারতে উৎপাদিত পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের আরোপ করা ১০ শতাংশ শুল্কও রয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ