সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৭০, নিখোঁজ অনেকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

সুদানের পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যে সোনার খনি ধসে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা খনিতে পাশাপাশি থাকা

2026-09-17T08:30:37+00:00
2026-09-17T08:31:12+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
সুদানে সোনার খনি ধসে নিহত ৭০, নিখোঁজ অনেকে
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৮:৩০ এএম  আপডেট: ১৭.০৯.২০২৬ ৮:৩১ এএম
ছবি : সংগৃহীত
সুদানের পশ্চিম কোরদোফান রাজ্যে সোনার খনি ধসে অন্তত ৭০ জন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার আল-নুহুদ শহরের কাছে আল-জারা খনিতে পাশাপাশি থাকা কয়েকটি খনির সুড়ঙ্গ ধসে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বহু খনি শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং অনেকে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছেন।

বুধবার কোরদোফান অবজারভেটরি নামের একটি পর্যবেক্ষণকারী গোষ্ঠী এ তথ্য জানিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা সাধারণ সরঞ্জাম ব্যবহার করে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন। তবে এখনো কোনো বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দল সেখানে যোগ দেয়নি। বালুময় ও নরম মাটির কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, ওই এলাকা নিয়ন্ত্রণকারী আধাসামরিক বাহিনী র‌্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) এক সূত্র এএফপিকে জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় অন্তত ৮২ জন নিহত এবং আরও ৫০ জন আহত হয়েছেন। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই সূত্রের দাবি, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকা রয়েছেন। সাধারণ সরঞ্জাম দিয়েই উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে।

দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাওয়া খনি শ্রমিক খায়ের আল-সাইয়েদ জাবারা এএফপিকে বলেন, তিনি ও অন্য শ্রমিকরা জীবিতদের কাছে পৌঁছাতে সারা রাত নিজেদের সরঞ্জাম দিয়ে মাটি খুঁড়েছেন। তবে উদ্ধারকাজে ভারী যন্ত্রপাতি প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘আর কতজন ভেতরে আটকা পড়ে আছেন, আমরা জানি না।’

আরেক শ্রমিক আমিন সুলেইমান জানান, খনির সুড়ঙ্গগুলো এত কাছাকাছি ছিল যে একটি ধসে পড়লে পাশের সুড়ঙ্গগুলোও ভেঙে পড়ত।

স্থানীয় সূত্রগুলো রয়টার্সকে জানিয়েছে, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও উদ্ধার সরঞ্জামের অভাবেই দুর্ঘটনায় প্রাণহানি এত বেশি হয়েছে।

খার্তুমভিত্তিক চিকিৎসা সংগঠন সুদান ডক্টরস নেটওয়ার্ক জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান এখনো চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। সংগঠনটির দাবি, খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক ব্যবস্থা ছিল না।

এক বিবৃতিতে সংগঠনটি খনি শ্রমিকদের জীবনকে গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে ফেলার জন্য কথিত ‘অবহেলার’ নিন্দা জানিয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রাখা, চিকিৎসা ও লজিস্টিক সহায়তা নিশ্চিত করা এবং অনিয়ন্ত্রিত খনন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

পশ্চিম কোরদোফান বর্তমানে আধাসামরিক বাহিনী আরএসএফের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গে ওই বাহিনীর সংঘাত চলছে। চোরাই সোনা আরএসএফের আয়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস।

সুদান আফ্রিকার অন্যতম প্রধান সোনা উৎপাদনকারী দেশ। দেশটির অধিকাংশ সোনা পরিত্যক্ত বা অননুমোদিত এলাকায় পরিচালিত ঝুঁকিপূর্ণ ও অনানুষ্ঠানিক খনি থেকে উত্তোলন করা হয়।


সময়ের আলো/কেএইচ
  বিষয়:   সুদান  সোনার খনি  খনি ধস  পশ্চিম কোরদোফান  প্রাণহানি  উদ্ধার অভিযান  আরএসএফ  আন্তর্জাতিক সংবাদ 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: