রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নিতে দেশটির প্রেসিডেন্ট মিন অং হ্লাইংকে মালয়েশিয়া সফরের আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকারে আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, তিনি মিয়ানমারের নেতাকে সরকারি সফরে মালয়েশিয়ায় আমন্ত্রণ জানাবেন। রোহিঙ্গা সংকটের একটি কার্যকর সমাধান খুঁজে বের করাই এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান তিনি।
গত জুলাইয়ে আনোয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন, মিয়ানমার নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ৫ হাজার সদস্যকে দেশে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই প্রত্যাবাসন পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার হিসাবে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে ২ লাখ ১৫ হাজারের বেশি শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী নিবন্ধিত রয়েছেন। তাদের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গার সংখ্যা ১ লাখ ২৬ হাজারের বেশি। দেশটিতে থাকা শরণার্থীদের মধ্যে তারাই সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী।
মালয়েশিয়া ও মিয়ানমার জানিয়েছে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ মিয়ানমারের নাগরিককে স্বেচ্ছায় দেশে ফেরত পাঠানোর মাধ্যমে প্রত্যাবাসনের প্রথম ধাপ শুরু হতে পারে। তবে এই দলে কতজন রোহিঙ্গা থাকবেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
আনোয়ার বলেন, একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শরণার্থীকে গ্রহণ করা মিয়ানমারের পক্ষে সম্ভব না হলে ধাপে ধাপে প্রত্যাবাসন করা যেতে পারে। তার মতে, মিয়ানমারের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা বজায় রাখার পাশাপাশি দেশটিকে নিজেদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও পালন করতে হবে।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের এই উদ্যোগের আগে কুয়ালালামপুরে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার কার্যালয়ের বাইরে জড়ো হওয়া শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করেছিল মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। উত্তরাঞ্চলীয় পেনাং রাজ্যের একটি অনানুষ্ঠানিক বসতি থেকে উচ্ছেদের আশঙ্কায় তারা সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
পরে আটক ব্যক্তিদের কাছে জাতিসংঘের বৈধ নথিপত্র থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
চলতি মাসের শুরুতে মিয়ানমার বিদেশে অবস্থানরত নিজেদের নাগরিকদের ‘নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ’ প্রত্যাবাসনের প্রতিশ্রুতি দেয়। তবে মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জনকে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা নিয়ে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় শরণার্থী আশ্রয়দাতা দেশ হলেও মালয়েশিয়া ১৯৫১ সালের শরণার্থী কনভেনশনে স্বাক্ষরকারী নয়। দেশটি আনুষ্ঠানিকভাবে শরণার্থীর মর্যাদাও স্বীকৃতি দেয় না।
এদিকে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে মালয়েশিয়ায় অনলাইনে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার ছড়ানোর ঘটনাও শনাক্ত করেছে এএফপির ফ্যাক্ট-চেকাররা। মানবাধিকারকর্মীদের মতে, এসব প্রচারণা দেশটিতে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও হয়রানি বাড়াতে ভূমিকা রাখছে।
রোহিঙ্গারা মূলত মুসলিম জনগোষ্ঠীর একটি অংশ। ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর কঠোর অভিযানের সময় বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা দেশটি ছেড়ে পালিয়ে যায়। এরপর থেকে তাদের একটি বড় অংশ মালয়েশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে আশ্রয় নিয়ে আছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ