ভারতের মহারাষ্ট্রের গড়চিরোলি জেলা থেকে আদিবাসী অধ্যুষিত এলাকার শিক্ষাব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরতে ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ নামে নতুন কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া এই আন্দোলনে স্কুলের অবকাঠামো, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা-সুবিধার ঘাটতিকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারের সময়ে আদিবাসী অধ্যুষিত অঞ্চলের স্কুলগুলো দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার মধ্যে রয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে দলের প্রতিনিধিরা বিভিন্ন আদিবাসী স্কুলে গিয়ে সেখানকার বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবেন। একই সঙ্গে স্কুলগুলোর সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তার তথ্য সংগ্রহ করে তা জনসমক্ষে তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে।
দীপকের অভিযোগ, মহারাষ্ট্রের অনেক স্কুল এখনো ভাড়া করা ভবনে পরিচালিত হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত অবকাঠামো ও শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধারও ঘাটতি রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দীপকে দাবি করেন, গত দুই বছরে মহারাষ্ট্রে ৫৯০ জনের বেশি আদিবাসী শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এসব মৃত্যুর মধ্যে সাপের কামড়সহ বিভিন্ন দুর্ঘটনার ঘটনাও রয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীদের পরিবারগুলো অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ ক্ষতিপূরণ পাচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
একলভ্য মডেল আবাসিক স্কুলগুলোর কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সিজেপির এই নেতা। তার দাবি, ভারতে থাকা ৭২০টি একলভ্য মডেল আবাসিক স্কুলের মধ্যে ৪৭৭টি বর্তমানে কার্যকর নয়। তবে এসব সংখ্যা ও তথ্য সংবাদ সম্মেলনে দীপকের উপস্থাপিত দাবি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আদিবাসী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় অংশগ্রহণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। দীপকের দাবি, উচ্চশিক্ষায় তফসিলি উপজাতি (এসটি) শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের হার ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। পাশাপাশি তার দাবি, আইআইটিতে মাত্র ১৩০ জন এসটি আবেদনকারী ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।
এর আগে, সিজেপি ‘স্কুল ঠিক করো’ নামে দেশজুড়ে একটি কর্মসূচি পরিচালনা করেছিল। সেই কর্মসূচির ধারাবাহিকতায় এবার আদিবাসী স্কুল ও শিক্ষার্থীদের সমস্যা নিয়ে আলাদা করে ‘আদিবাসী স্কুল ঠিক করো’ আন্দোলন শুরু করা হচ্ছে।
নতুন কর্মসূচিতে স্কুল সংস্কার, শিক্ষক সংকট, সরকারি অর্থায়ন, ডিজিটাল শিক্ষার সুযোগ, শৌচাগার এবং ক্রীড়া অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও প্রচার করা হবে বলে জানিয়েছে দলটি।
গড়চিরোলির কর্মসূচির পাশাপাশি নাগপুরে আদিবাসী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করার পরিকল্পনাও রয়েছে অভিজিৎ দীপকের।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ