ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় দেশ ছেড়ে জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন হাজারো মানুষ। ইতোমধ্যে ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ইয়েমেনি জিবুতিতে পৌঁছেছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জরুরি সহায়তা চেয়েছে দেশটির সরকার।
জিবুতির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওমর আবদি সাইদ বুধবার জানিয়েছেন, গত বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ইয়েমেনি দেশটিতে প্রবেশ করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা প্রায় ১০ হাজারে পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।
সাইদ বলেন, ইয়েমেন থেকে মানুষের এই প্রবেশ ইতোমধ্যে জিবুতির জাতীয় সক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। আন্তর্জাতিক সহায়তার অর্থ কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশটি ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে পড়েছে।
জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের উদ্দেশে তিনি জরুরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানান। তার মতে, চলমান সংকটের মাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দ্রুত অর্থ ও অন্যান্য সহায়তা প্রয়োজন।
ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত হুথি এবং সৌদি আরব-সমর্থিত আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। সংঘাত থেকে বাঁচতে হাজারো ইয়েমেনি লোহিত সাগরের অপর পারে অবস্থিত জিবুতিতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
নতুন করে সংঘাত বাড়ায় ইয়েমেনে মানবিক সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে হস্তক্ষেপের পর থেকে দেশটিতে ৪৫ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) জিবুতি কার্যালয় জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে আসা মানুষদের খাবার ও পানি সরবরাহে স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করছে তাদের কর্মীরা।
আইওএমের জিবুতি কার্যালয়ের প্রতিক্রিয়া সমন্বয়কারী সাফিয়া ইব্রাহিম জানান, প্রতিদিন নারী, শিশু, নবজাতক ও অসুস্থ ব্যক্তিসহ অনেক মানুষ দেশটিতে প্রবেশ করছেন। কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা প্রয়োজন বলেও জানান তিনি।
আফ্রিকার তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ জিবুতির জনসংখ্যা ১২ লাখেরও কম। ফলে বিপুলসংখ্যক নতুন মানুষের আগমনে দেশটির ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচ