ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, সাম্প্রতিক ‘ককরোচ’ আন্দোলনের সময় যেসব শিক্ষার্থী তাকে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন, তাদের তিনি ক্ষমা করে দিয়েছেন। তাদের ‘বিভ্রান্ত শিশু’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাস্তি নয়, বরং সঠিক পথ দেখানোই সরকারের দায়িত্ব।
গত শুক্রবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মোদি বলেন, এরা বিভ্রান্ত সন্তান। তাদের সঠিক পথ দেখানো আমাদের দায়িত্ব। তাদের শাস্তি দেওয়া, আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘোরানো বা সমাজে হয়রানি করলে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন হবে না।
তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের সময় তাকে এবং তার প্রয়াত মাকে লক্ষ্য করে ‘জঘন্য ভাষায়’ গালিগালাজ করা হয়েছে। আমাদের সংস্কৃতিতে এটা বড় ধরনের ধাক্কা যে আমাদের মেয়েরা এ ধরনের ভাষা ব্যবহার করতে পারে। তবু আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই।
গত মে মাসে ভারতের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষা বাতিল হলে দেশজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে পুনরায় পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়।
এর জেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হওয়া ‘ককরোচ’ আন্দোলন দ্রুত দেশব্যাপী গণআন্দোলনে রূপ নেয়। ভারতের প্রধান বিচারপতি বেকার তরুণ ও আন্দোলনকারীদের ‘ককরোচ’ বলে মন্তব্য করার পর বিক্ষোভকারীরা নিজেদের ব্যঙ্গাত্মকভাবে ‘ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)’ নামে পরিচয় দিতে শুরু করেন।
ক্রমবর্ধমান আন্দোলনের মুখে কেন্দ্রীয় সরকার শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি দাবি মেনে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে মামলা না করার আশ্বাস দেয়।
তবে সরকারের সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। আন্দোলনকারীদের দাবি, বিজেপি-শাসিত বিভিন্ন রাজ্যে শত শত শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। রাজধানী নয়াদিল্লিসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস, পেলেট গান ও লাঠিচার্জও করেছে। এ ছাড়া মোদির সমর্থকদের বিরুদ্ধে নারী আন্দোলনকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ, ধর্ষণ ও হত্যার হুমকি এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানির অভিযোগও উঠেছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাধিকা কুমার আল জাজিরাকে বলেন, রাজধানীতে শিক্ষার্থীদের ওপর চালানো দমন-পীড়ন নিয়ে মোদি নীরব। অথচ ইনস্টাগ্রামে এসে নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে তুলে ধরছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, সরকারের সমর্থকেরা বছরের পর বছর নারী অধিকারকর্মীদের অনলাইনে হয়রানি করেছেন। এখন প্রধানমন্ত্রী আমাদের নৈতিকতা শেখানোর চেষ্টা করছেন।
এদিকে আন্দোলন দমনে পুলিশের ভূমিকার জন্য কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বিরোধী দলগুলো।
অন্যদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস ঠেকাতে জনপরীক্ষা-সংক্রান্ত আইনে সংশোধনী আনতে সংসদে নতুন বিলও এনেছে মোদি সরকার। প্রস্তাবিত আইনে প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের জন্য আরও কঠোর কারাদণ্ড ও বেশি অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া হায়দরাবাদে ফেসবুকে মোদিকে নিয়ে ‘আপত্তিকর’ ভিডিও প্রকাশের অভিযোগে মেটা ইন্ডিয়ার প্রধান অরুণ শ্রীনিবাসের বিরুদ্ধেও মামলা করেছে স্থানীয় পুলিশ। মেটা জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা চলছে।
সময়ের আলো/কেএইচ